কলকাতা: চলে গেলেন বিসিসিআই-এর প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিশ্বনাথ দত্ত৷ মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর৷ ক্রিকেট ছাড়াও বাংলা ফুটবলের দুঁদে প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করেছিলেন তিনি৷ দীর্ঘ রোগভোগের পর ভবানীপুরে নিজের বাড়িতে সোমবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলার প্রাক্তন এই ক্রীড়া প্রশাসক৷ তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া বাংলার ক্রীড়ামহলে৷ সিএবি’তে এদিন তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়৷ ‘ময়দানের ভীষ্মকে’ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজ্যের ক্রীড়ামহলের বিশিষ্ট ব্যাক্তিরা হাজির ছিলেন৷

সিএবি’র যুগ্মসচিব অভিষেক ডালমিয়া এদিন বিশ্বনাথ দত্তের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন৷ তিনি বলেন, ‘সিএবি’র উন্নতিতে বিশ্বনাথ দত্তের অনেক অবদান রয়েছে৷ তাঁর জন্যই বিশ্বকাপ ফাইনাল লর্ডস থেকে সরে এসে ইডেন পেয়েছিল৷ দেশের ক্রীড়ামহল আজ অন্যতম সেরা প্রশাসককে হারাল৷’ এখানেই না থেমে অভিষেক আরও বলেন, ‘ওনার সঙ্গে আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে৷ দু’বছর বয়সে একবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ি৷ ওনার ঔষুধ খেয়ে সেবার সুস্থ হয়ে উঠেছিলাম৷ তখন থেকে ওনাকে আমি ‘ডক্টর আঙ্কল’ বলি৷ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটা হয়ে যায় ‘দত্ত আঙ্কল৷’

Advertisement

ক্রিকেট প্রশাসক জগমোহন ডালমিয়ার গুরু ছিলেন বিশ্বনাথ দত্ত৷ সে কথাও উঠে এল অভিষেকের কথায়৷ সিএবি-তে দাঁয়িয়ে এদিন তিনি বলেন, ‘একসময় বাবার গুরু ছিলেন৷ পরে আমারও গুরু হয়ে যান৷ ক্রিকেট প্রশাসক হিসেবে যখন আমার অভিষেক হয়েছিল, তখন আমাকেও উনি গাইড করেছিলেন’৷

ব্যক্তিগত কাজে কলকাতার বাইরে থাকায় এদিন চিঠি মারফৎ শোকজ্ঞাপন করেছেন সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়৷ চিঠির মাধ্যমে মহারাজ বলেন, ‘কিংবদন্তি এই প্রশাসককে হারানো অপূরণীয় ক্ষতি৷ ভারতীয় ক্রিকেটে ওঁনার অবদান ভোলার নয়৷ ওঁনার প্রয়াণে গভীর শূন্যতা তৈরি হল৷’ সিএবি’র প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সৌরভ জমানায় বিশ্বনাথ দত্তের নামে সিএবি’তে স্যান্ড তৈরি করা হয়৷ ভারতীয় বোর্ডের পক্ষ থেকেও বিশ্বনাথের প্রয়াণে শোকবার্তা জানানো হয়েছে৷

সিএবি আধিকারিকরা ছাড়াও প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা রাজ্যের ক্রীড়াপ্রতিমন্ত্রী লক্ষীরতন শুক্লাও তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন৷ তিনি বলেন, ‘আরও এক ফাদার ফিগারকে আমরা হারালাম৷ বাংলা ও ভারতীয় ক্রিকেটের উন্নতিতে ওঁনার অনেক অবদান রয়েছে৷’ স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে লক্ষী আরও বলেন, ‘বিভিন্ন বিষয়ে ওঁনার থেকে পরামর্শ পেতাম৷ বহুক্ষেত্রে উনি অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন৷ আজ খুব মনে পড়ছে জুনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে  ইডেনে একবার সেঞ্চুরি করার পর উনি আমার বাবার সঙ্গে দেখা করে বলেছিলেন, আমি যেন ধারাবাহিকতা বজায় রাখি৷ আমাদের প্রজন্মের কাছে জগমোহন স্যার ও বিশ্বনাথ স্যারের অবদান অনস্বীকার্য৷’

একসময় একার হাতে বাংলার ফুটবল ও ক্রিকেট পরিচালনা করেছেন বিশ্বনাথ দত্ত৷ ক্রীড়া প্রশাসক হিসাবে তাঁর সাফল্যের থেকেও পরবর্তীকালে বড় হয়ে দেখা দেয় নিজের উত্তরসূরি খুঁজে বার করার মুন্সিয়ানা৷ ক্ষমতায় থাকাকালীন বিশ্বনাথ দত্তই বাংলার ক্রিকেট প্রশাসনে নিয়ে আসেন জগমোহন ডালমিয়াকে৷ তাঁর হাত ধরে সিএবি-তে আসা ডালমিয়ার৷ পরবর্তীকালে যিনি ভারতীয় তথা বিশ্বক্রিকেটকে বাণিজ্যিকভাবে সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে যান৷

১৯৮৬ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত বাংলার ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন বিশ্বনাথবাবু৷ সভাপতি ছাড়াও সিএবি’র একাধিক পদ অলঙ্কৃত করেছিলেন তিনি৷ তাঁর হাত থেকে ব্যাটন নেন ডালমিয়া৷ ১৯৮৯ সালে বিসিসিআইয়ের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন ‘ময়দানের ভীষ্ম’৷

----
--