মুখ খুলে নেত্রীর ভৎর্সনার মুখে শোভনদেব

কলকাতা;   ‘গুণ্ডারাজ’ নিয়ে মুখ খোলায় দলের অন্যতম প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে তীব্র ভৎর্সনা নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তৃণমূল সূত্রে খবর, পার্থ চট্টোপাধ্যায় মারফত আজ মঙ্গলবার সেই ক্ষোভের বার্তা শোভনদেবের কাছে পৌঁছে দেন দলনেত্রী। পার্থ চট্টোপাধ্যায় তাঁকে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। আপনি যা বলেছেন, তাতে দলের ভাবমূর্তি খারাপ হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এরকম না হয়। যদিও, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় একথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠমহল সূত্রে দাবি, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কথা হয়েছে। কিন্তু, পার্থ চট্টোপাধ্যায় তাঁকে ভৎর্সনা করেননি।
প্রসঙ্গত এলাকার রাশ কার হাতে থাকবে তা নিয়ে শাসকদলের দুই হেভিওয়েট নেতা অরূপ বিশ্বাস ও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বিরোধ প্রকাশ্যে চলে আসে খাস বিধানসভায়। বিধানসভার লবিতে দাঁড়িয়ে আবাসনমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে গুণ্ডারাজ চালানোর অভিযোগ তোলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। আবাসনমন্ত্রীকে তিনি বলেন, তোরা কী শুরু করেছিস? গুন্ডারাজ চালাবি তুই আর তোর ভাই? একটা নিরীহ ছেলেকে এভাবে মারবে? এসব কতদিন চলবে? জবাবে অরূপ বিশ্বাস বলেন, আমি তো বাইরে ছিলাম। আমি কিছুই জানি না। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় পাল্টা বলেন, তুই ছিলি না তো কী হয়েছে? তোর ভাই তো ছিল। আমি মমতাকে কমপ্লেন করব।
অভিযোগ, রবিবার রাতে, ৮১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত নিউ আলিপুরে দুর্গাপুর ব্রিজের কাছে শোভনদেবের অনুগামী আইএনটিটিইউসি নেতা সৌমেন মালাকারকে মারধরের অভিযোগ ওঠে স্বরূপ বিশ্বাস গোষ্ঠীর লোকজনের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে শোভনদেব আরও বলেন, আমার বিধানসভা এলাকায় আমিই ঢুকতে পারব না? যাঁদের সঙ্গে দেখা করতে যাব, তাঁদের ওপরেই হামলা হবে! ভয় দেখানো হবে! কেন চলবে এসব? অরূপ বিশ্বাস তখন পাল্টা বলেন, এটা দলীয় ব্যাপার। আমি দলীয় নেতৃত্বকে জানিয়েছি।
সূত্রের খবর, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও অরূপ বিশ্বাস, দুজনেই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের দ্বারস্থ হন। তবে, সুরাহা দূরের কথা, তারপর শোভনদেবকে মমতার ভৎর্সনার খবর এবং শোভনদেবের অস্বীকার, বিতর্ক আরও উস্কে দিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

Advertisement
---