দেবযানী সরকার, কলকাতা: মুখে দিলে মধুর মতো স্বাদ পাবেন !! খোদ সোঁদরবনের মধু মেশানো আছে যে৷ বড়দিনের আস্ত চমক৷ মহানগরের জমকালো ক্রিসমাস মাতাতে আসছে অভিনব কেক৷

ওখানে জলে কুমির আর ডাঙায় বাঘ৷ ভয়ঙ্কর কঠিন জঙ্গুলে জীবনে ততোধিক কঠিন কাজ হল মধু সংগ্রহ৷ এই কাজে জীবন হাতের মুঠোয়৷ সেই সুন্দরবনের মধু দিয়ে এবার তৈরি হয়েছে বড়দিনের বিশেষ কেক৷

বড়দিন মানেই ‘ক্রিসমাস ট্রি’, সান্তাক্লজ, রকমারি আলো আর কেক। এই সবকিছুর মধ্যে বাঙালির আর কিছু হোক বা না হোক কেকটা চাই৷

শপিংমল থেকে পাড়ার দোকান, বড়দিনের কেক বাহারে সেজে উঠছে সর্বত্র৷ বিশেষ করে ২৫ ডিসেম্বরের আমেজ বোঝা যাবে নিউমার্কেটে ঢুকলে৷ কেকের গন্ধ ম ম করছে চারিদিক৷ কয়েকদিন আগে থেকে ভিড় জমতে শুরু করেছে দোকানগুলোতেও৷ ঘুরে দেখা গেল ফ্রুট কেক, পাম কেক, চকোলেট কেক ছাড়াও এবার ক্রিসমাসে ভিন্ন স্বাদের কেক বাজারে এসেছে৷

পড়ুন: অতুল্য ভারত: অন্ধকার গলিতেই জন্ম নেয় মুসলিম সান্টা

নিউমার্কেটে প্রায় ১৫৪ বছরের পুরনো কেকের দোকান ইম্পেরিয়ালের এই বছরের চমক সুন্দরবনের মধু ও নলেন গুড় দিয়ে তৈরি কেক৷ এছাড়া ফ্রুট কেক, পাম কেক ছাড়াও চকোলেট ওয়ালনেট কেক, চিজ কেক, নলেন গুড়ের কেক, বাটার ফ্রুট কেক-তো আছেই৷ তবে স্পেশাল তালিকায় বাজিমাত সুন্দরবনের মধু ও খেজুর মেশানো সুগন্ধি কেক৷ দাম দুশো টাকা৷ যাঁরা নিরামিষাশী তাদের জন্য রয়েছে এগলেস ফ্রুট কেক৷এখানে ৭০ টাকা শুরু করে ৬০০ টাকা দামেরও কেক আছে৷

প্রাক্তন বিধায়ক তথা ইম্পেরিয়ালের মালিক শেখ পারভেজ রহমানের কথায়, আগে কেকের দাম শুনে অনেকে পিছু হটতেন৷ কিন্তু এখন মানুষ ভাল খাবারটা খেতে চান, তাঁরা দামের পরোয়া করেন না৷ খাদ্য রসিক এবং শৌখিন মানুষদের কথা ভেবে আমরা নানারকম এক্সপেরিমেন্ট করছি৷ তবে এত রকমারি কেকের মধ্যে এখনও ফ্রুট কেকের চাহিদাই তুলনায় বেশি৷

সুন্দরবনের মধু দিয়ে তৈরি কেক

পারভেজ রহমান বলেন, আমাদের যাঁরা কাস্টোমার আছেন তাঁরা বহু পুরনো৷ বংশ পরম্পরায় এখান থেকেই কেক কেনেন৷ এই জেনারেশনের অনেকে জিজ্ঞাসা করে নতুন ফ্লেভারের কেকের কথা৷ তবে পুরনোরা ফ্রুট কেকই বেশি পছন্দ করেন৷

কলকাতার অন্যতম ইতিহাস প্রসিদ্ধ কেক শপ নাহুমস৷ এখানে কেকের দাম শুরু হচ্ছে ২৫০ টাকা থেকে৷ প্রতিবছরই ক্রিসমাসের সময় তাদের রিচ ফ্রুট কেকের চাহিদা থাকে তুঙ্গে৷

বড়দিনের কেকে জিএসটির তেমন কোনও প্রভাব পড়েনি বলেই দাবি বিক্রেতাদের৷ নিউমার্কেটের আর একটি কেক শপের মালিক জাহাঙ্গীর রহমান বলেন, জিনিসপত্রের দাম যেভাবে হু হু করে বাড়ছে তাতে সেইভাবে কেকের দাম বাড়েনি৷ দামের খুব বেশি হের ফের না হওয়ায় খুশি ক্রেতারা৷

বালিগঞ্জ থেকে কেক কিনতে নাহুমসে এসেছিলেন নন্দিনী সিনহা৷ তিনি বলেছেন, বাবার হাত ধরে আগে বড়দিনে এখানে কেক কিনতে আসতাম৷ এখন মেয়েকে নিয়ে আসি৷ তবে এবছর সেরকম কেকের দাম বাড়েনি৷

বিজয়া দশমীর মিষ্টি হোক কিংবা ক্রিসমাসের কেক, বাঙালি শুধু বোঝে খাওয়া৷ যে কোনও উৎসব একটা ছুতো মাত্র৷ এখন সেটা নিউমার্কেটে তথা শহরের ছোট বড় কেকের দোকানগুলো ঘুরলেই বোঝা যাবে৷

বড়দিনের এমনই আমেজে এবার সুন্দরবনের ছোঁয়া লাগল৷ সেখানকার মধু দিয়ে তৈরি কেক ক্রেতারা কতটা পছন্দ করেন তাও লক্ষনীয়৷

----
--