জল্পনা চলছেই, মন্ত্রী হতে পারেন উত্তরের মনোদেব সিনহা!

কৌশিক চট্টোপাধ্যায়, রায়গঞ্জ: বিগত বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর দিনাজপুর জেলার নয়টি আসনের প্রতিটিতেই জোরদার লড়াইয়ের মধ্যদিয়ে জেলার চারটি আসনে জয় লাভ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। গোটা রাজ্যে এককভাবে ২১১টি আসনে জয় লাভ করে আগামী ২৭ তারিখ পশ্চিম বঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত দ্বিতীয় মন্ত্রিসভা গঠনের পথে সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরই মধ্যে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা নিয়ে গোটা উত্তর দিনাজপুর জেলা জুড়ে চাপা গুঞ্জন।

এবারের মন্ত্রী সভায় বেশ কয়েটি নতুন মুখকে আনতে চলেছেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেক্ষেত্রে উত্তর দিনাজপুরের করনদিঘী বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস বিজয়ী প্রার্থী মনোদেব সিনহার নাম নেত্রীর প্রাথমিক তালিকায় স্থান পেয়েছে বলেই বিভিন্ন সূত্রের খবর। দুয়ারিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোদেব সিনহাকে এবিষয়ে প্রশ্ন করা হলে গোটা বিষয়টি তিনি তৃণমূল নেত্রীর উপরেই ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি জানালেন, বিষয়টি তিনি কিছুই বলতে পারছেন না। আগামী ২৭ তারিখ মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য বর্তমানে তিনি কলকাতায়৷ তবে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তা তিনি তা মাথা পেতে নেবেন বলেও জানিয়েছেন৷

সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে ক্যাবিনেট মিনিস্টারের যে তালিকা তৈরি করা হয়েছ, তাতে করনদিঘীর প্রার্থী মনোদেব বাবুকে অচিরাচরিত শক্তি দপ্তরের পূর্ণ মন্ত্রী করা হতে পারে বলেই ঠিক করা হয়েছে। যদিও, ফোনে যোগাযোগ করা করে হলে, গোটা বিষয়টি এড়িয়ে গিছেন মনোদেব বাবু। উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দেখাযায় করনদিঘীর তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১৫ বছরের ফরওয়ার্ড ব্লক বিধায়ক গোকুল রায়কে প্রায় ৩২৩২ ভোটে পরাজিত করেন। যদিও, এই জয়কে ব্যাপক ভোট কাটাকাটির ফল হিসেবেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন রাজনৈতিক মহল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি ২০১১-র বিধানসভার বিধায়ক গোকুল রায় ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে ৫১হাজার ৩৬৭টি ভোট পান। সেখানে এলাকার বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস হিসেবে পরিচিত নির্দল প্রার্থী শেখ সামসুল একক ভাবে ৩৫ হাজার ৫৪৭টি ভোট পান। এই ভোটের বেশির ভাগটাই জোট বিরোধী কংগ্রেস কর্মীদের কাছ থেকেই গেছে। এলাকার কংগ্রেস কর্মীদের ভোট পেতে ব্যর্থ হয়েছেন জোট প্রার্থী ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা গোকুল রায়। এছাড়াও বিজেপির প্রার্থী আব্দুল জলিলের ঝুলিতে প্রায় ২৮হাজার ৯৭৮টি ভোট যায়। অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত তৃণমূলে যোগ দিয়েই এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মনোদেব বাবু। তিনি ওই এলাকায় দুয়ারিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ১২ বছরের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কাজ করার সুবাদে মানুষের মানুষের কাছে যথেষ্ট পরিচিত। ফলে, এই এলাকার বিধায়ক হিসেবে থেকে মন্ত্রিসভায় স্থান পেলে যথেষ্ঠ উৎসাহিত হবেন এলাকার মানুষ।

- Advertisement -

যদিও, এই তালিকাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই দাবি করেছেন ডালখোলা পুরসভার চেয়ারম্যান তথা ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সুভাষ গোস্বামী। তিনি বলেন, ‘‘এসব তালিকার কোন ভিত্তি নেই। তালিকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে একেবারেই গোপনে সুরক্ষিত অবস্থায় থাকে৷ তাই এসব নিয়ে আলোচনা অর্থহীন।’’  করনদিঘী ব্লক প্রেসিডেন্ট হাফিজুল ইকবাল বলেন, ‘‘এরকম তালিকা আমরাও দেখেছি। আশা করি মনোদেব বাবুকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হবে। যদিও সিদ্ধান্ত নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এতো-বছরের বাম দুর্গে ঘাস-ফুল ফোটানোর পুরস্কার স্বরূপ আমাদের বিধায়ককে মন্ত্রিসভায় স্থান দেবেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’’

যদিও, জেলা জুড়ে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নাম নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হচ্ছে বিভিন্ন রকম মন্ত্রিসভার তালিকা। সেক্ষেত্রে নবাগত তৃণমূল কর্মী এবং করনদিঘীর বিধায়কের নাম উঠে আসতেই কিছুটা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন জেলার সাধারণ তৃণমূল কর্মীদের একাংশ। তবে, সমস্ত জল্পনার অবসানে কি তালিকা তৈরি করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো, তার দিকে নজর রাখতে আগামী ২৭ তারিখের অপেক্ষায় জেলার সাধারণ মানুষ৷

Advertisement
---