অসুস্থ অ্যাথলিটের জন্য ১০ লক্ষ টাকা মঞ্জুর ক্রীড়ামন্ত্রীর

নয়াদিল্লি: এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ী অ্যাথলিটের চিকিৎসার খরচের জন্য ১০ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করল কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক৷ মঙ্গলবার এমনটাই জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী রাজ্যবর্ধন সিং রাঠোর৷ টুইটারে তিনি লেখেন, ‘অ্যাথলিট হাকাম সিং ভট্টলের চিকিৎসার খরচের জন্য আমি তাড়াতাড়ি ১০ লক্ষ টাকা দিতে বলেছি৷ এছাড়া ক্রীড়া দফতর ও স্পোর্টস অথরিটি হাকামের স্বাস্থ্যের প্রতি নজর রাখবে৷’

আরও পড়ুন: এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত কিম

এশিয়ান গেমসে দেশের হয়ে সোনা এনে দেওয়া এবং ধ্যানচাঁদ পুরস্কারজয়ী ৬৪ বছরের এই অ্যাথলিট আজ বিছানা ছেড়ে উঠতে পারছেন না৷ লিভার এবং কিডনি-সহ একাধিক সমস্যায় ভুগছেন সোনা জয়ী অ্যাথলিট৷ চিকিৎসার জন্য তাঁর পরিবার সবরকম চেষ্টা করলেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি পঞ্জাব সরকার৷ প্রাথমিকভাবে হাকামের চিকিৎসার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন টিম ইন্ডিয়ার দুই প্রাক্তন বোলার হরভজন সিং ও আরপি সিং৷

- Advertisement -

আরও পড়ুন: কোহলিদের সঙ্গে মাঠে নামবেন মিতালিরাও

তবে ক্রীড়ামন্ত্রকের আগেই সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে বারনালা ডেপুটি কমিশনার ধরমপাল গুপ্তা৷ হাকামের চিকিৎসার জন্য ২০ হাজার টাকার চেক দিয়েছে বারনালার ডিস্ট্রিক সৈনিক বোর্ড৷ সংবাদমাধ্যমে তাঁর খবর প্রকাশিত হওয়ার পর এগিয়ে আসে ক্রীড়ামন্ত্রক৷ সংবাদমাধ্যমে হাকামের স্ত্রী বেয়ন্ত কর জানান, ‘আমার স্বামীর চিকিৎসার খরচের অর্থ ছিল না৷ তাই রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন করি৷ যে অ্যাথলিট দেশকে দু’টি সোনা জিতেছে তার যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে কেন কেউ অ্যাথলিট হবে!’

১৯৭২ সালে ৬ শিখ রেজিমেন্টেরে হয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন হাকাম৷ ১৯৭৮ সালে এশিয়ান গেমসে ২০ কিলোমিটার রেস ওয়াকে সোনা জিতেছিলেন পঞ্জাবের এই অ্যাথলিট৷ এর এক বছর পর টোকিও-তে এশিয়ান ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড মিটিংয়ে সোনা জেতেন৷ পঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাজেন্দ্র কৌর ভট্টলের পাশের গ্রামের ছেলে হাকামের অ্যাথলিট হয়ে ওঠার গল্পটা অনেকেরই অনুপ্রেরণার কারণ হতে পারে৷ ১৯৮১ সালের একটি দূর্ঘটনার ফলে ট্র্যাক থেকে সরে আসতে বাধ্য হন হাকাম ভট্টল৷

আরও পড়ুন: বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘প্লে অ্যাক্টিং’য়ের কথা স্বীকার নেইমারের

১৯৮৭ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর মাঝের ১৬ বছর খুবই কষ্টে কাটান দেশের হয়ে সোনা জয়ী এই অ্যাথলিট৷ ২০০৩ সালে তাঁকে পঞ্জাব পুলিশে বহাল করে তৎকালীন পঞ্জাব সরকার৷ ২০১৪ পর্যন্ত পঞ্জাব সরকারের হয়ে পুলিশের চাকরী করেন৷ মাঝের সময়ে পঞ্জাবের অ্যাথলেটিক্স কোচের দায়িত্বও সামলেছেন৷ ২৯ অগস্ট, ২০০৮ ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিলের কাছ থেকে ধ্যানচাঁদ পুরস্কার নেন হাকাম৷ সারাজীবন লড়াকু মনোভাব নিয়ে দাপিয়ে বেড়ানো এই অ্যাথলিট এখন হাসপাতালের বেডে শরীরে আশ্রয় নেওয়া একাধিক রোগের সঙ্গে লড়ে যাচ্ছেন৷

Advertisement ---
---
-----