জোর করে যৌনপেশায় নয়, বাংলার সব যৌনপল্লিতে চালু হচ্ছে বোর্ড

বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: জোর করে কাউকে যাতে যৌনপেশায় নিয়ে আসা না হয় এবং কোনও অপ্রাপ্ত বয়স্ক যাতে যৌনপেশায় অংশ নিতে না পারে, এ সব বিষয় এ বার পশ্চিমবঙ্গের সব যৌনপল্লিতে নিশ্চিত করছে দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি৷ এই সংগঠনের অধীনে রয়েছে রাজ্যের ওই সব যৌনপল্লি৷ এবং, রাজ্যের ওই সব যৌনপল্লিতে এ বার চালু হচ্ছে সেলফ রেগুলেটরি বোর্ড৷

আরও পড়ুন- যৌনপেশা বিরোধী আইন বাতিলে এককাট্টা যৌনকর্মীরা

পয়লা ডিসেম্বর, ওয়ার্ল্ড এইডস ডে-তে দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির অধীনে থাকা আসানসোলের যৌনপল্লিতে চালু হয়েছে এই বোর্ড৷ এই সংগঠনের মুখ্য উপদেষ্টা, ডাক্তার স্মরজিৎ জানার কথায়, ‘‘দুর্বারের অধীনে এ রাজ্যে ৫০টি যৌনপল্লি রয়েছে৷ এর মধ্যে ২২টি যৌনপল্লিতে সেলফ রেগুলেটরি বোর্ড চালু আছে৷ বাকি যৌনপল্লিগুলিতেও এই বোর্ড চালু হবে৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘দুর্বারের অধীনে থাকা এ রাজ্যের কোনও যৌনপল্লিতে যাতে জোর করে কাউকে যৌনপেশায় নিয়ে আসা না হয় অথবা, কোনও নাবালিকা যাতে যৌনপেশায় অংশ নিতে পারে, এ সব বিষয় নিশ্চিত করতে প্রতিটি যৌনপল্লিতে এই সেলফ রেগুলেটরি বোর্ড চালু করা হবে৷’’

- Advertisement -

আরও পড়ুন- কন্ডোম ‘ব্যর্থ’, এইডস প্রতিরোধে পিল ব্যবহার করছেন বাংলার যৌনকর্মীরা

দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, যৌনপেশায় অংশ নেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় এমন অনেক মহিলা যোগাযোগ করেছেন, যাঁদের কাছে শুধুমাত্র সন্তান অথবা পরিজনদের বাঁচিয়ে রাখতে উপার্জনের অন্য কোনও উপায় ছিল না৷ তেমনই, অপ্রাপ্ত বয়স্ক অথচ, বাড়ি থেকে কোনও না কোনও কারণে শুধুমাত্র বাঁচার জন্য পালিয়ে এসে যৌনকর্মী হতে চেয়েছে, বিভিন্ন সময় এমন ঘটনারও সম্মুখীন হতে হয়েছে এই সংগঠনের আধিকারিকদের৷ তবে, কোনও মতেই অপ্রাপ্ত বয়স্ক কাউকে যৌনপেশায় অংশ নেওয়ার জন্য এই সেলফ রেগুলেটরি বোর্ড সম্মতি দেয় না বলে জানানো হয়েছে৷ শুধুমাত্র তাই নয়৷

আরও পড়ুন- নোট বাতিলে সরকারের ‘ঐতিহাসিক সাফল্যে’ ক্ষতিগ্রস্ত যৌনকর্মীদের ঊষা

অপ্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে যেমন পরিজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা হয়৷ তেমনই, প্রয়োজনে পুলিশের সঙ্গেও এই সংগঠনের তরফে যোগাযোগ করা হয় বলেও দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে৷ কিন্তু, এই সংগঠনের অধীনে থাকা এ রাজ্যের প্রতিটি যৌনপল্লিতে কেন এখনও এই বোর্ড চালু হয়নি? সমস্যা কোথায়? এই সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌনকর্মীদের একজোট করার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়৷ আর, ওই সব সমস্যার জন্য অন্যতম কারণ হিসাবে আইনি বাধার বিষয়টি রয়েছে বলেই জানানো হয়েছে৷ যে কারণে, ওই আইন অর্থাৎ, দ্য ইমমরাল ট্রাফিক (প্রিভেনশন) অ্যাক্ট অর্থাৎ, আইটিপিএ বাতিলের জন্য বহু বছর ধরেই দাবি করছে যৌনকর্মীদের বিভিন্ন অংশ৷

এই দাবির জন্য কারণ হিসাবে ওই সব অংশের তরফে এমনই জানানো হয়েছে, কখনও সন্তান, কখনও পরিজন, কখনও আবার নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যৌনতার বিনিময়ে যৌনকর্মীরা উপার্জন করেন৷ এ দিকে, উপার্জনের জন্য যৌনসুখের পরিষেবা প্রদানের বিষয়টিও নতুন কোনও কর্মকাণ্ড নয়৷ যে কারণে, যৌনপেশাকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ এই বিষয়ে ডাক্তার স্মরজিৎ জানাও বলেন, ‘‘এই আইনের বিলোপ চাইছি আমরা৷ কারণ, এই আইনের জন্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন যৌনকর্মীরা৷’’

Advertisement
---