হতাশ আমলা ফিরছেন সাজঘরে৷ ছবি-আইসিসি টুইটার

গল: নির্বাসন কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পর দক্ষিণ আফ্রিকার সব থেকে কম রানের টেস্ট ইনিংস ছিল ৭৯ রানের৷ ২০১৫ সালে নাগপুরে ভারতের বিরুদ্ধে এমন লজ্জাজনক নজির গড়েছিল প্রোটিয়ারা৷ উপমহাদেশে স্পিনভীতি কাটিয়ে উঠতে না পারায় আরও বড়সড় লজ্জার মুখে পড়তে হল দক্ষিণ আফ্রিকা দলকে৷

পেরেরার উচ্ছ্বাস৷ ছবি-আইসিসি টুইটার

গলে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১২৬ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল প্রোটিয়ারা৷ দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৭৩ রানে অলআউট হয়ে যায় ডু’প্লেসিরা৷ অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসার পর এটাই দক্ষিণ আফ্রিকার সব থেকে কম রানের টেস্ট ইনিংস৷

আরও পড়ুন: দ্বীপরাষ্ট্রের ঘূর্ণিঝড়ে দিশেহারা প্রোটিয়ারা

দুই ইনিংসে চূড়ান্ত ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাশুল দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা আড়াই দিনেই গল টেস্ট হেরে বসে ২৭৮ রানের বিশাল ব্যবধানে৷

প্রথম ইনিংসের নিরিখে ১৬১ রানের পিছিয়ে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা৷ তবে দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কাকে সস্তায় বেঁধে রেখে জয়ের লক্ষ্য নাগালের মধ্যেই রাখতে সক্ষম হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা৷

দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কাকে ১৯০ রানে অলআউট করে দেয় প্রোটিয়ারা৷ প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা করুণারত্নে দ্বিতীয় ইনিংসেও দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬০ রান করেন৷ এছাড়া ম্যাথিউজ ৩৫ ও লাকমল অপরাজিত ৩৩ রান করেন৷

আরও পড়ুন: ভারত-শ্রীলঙ্কা টেস্টে গড়াপেটা নিয়ে তদন্তে আইসিসি

কেশব মহারাজ দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৫৮ রানে ৪টি উিকেট নেন৷ রাবাদা নেন ৪৪ রানে ৩ উইকেট৷ একটি করে উইকেট নেন স্টেইন ও শামসি৷

জয়ের পর শ্রীলঙ্কা দল৷ ছবি-আইসিসি টুইটার

সুতরাং, জয়ের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে ৩৫২ রানের লক্ষ্যমাত্রা ঝুলিয়ে দেয় লাকমলরা৷ হাতে আড়াই দিনের বেশি সময় ছিল৷ ধৈর্য্য দেখাতে পারলে গলে জয় তুলে নেওয়া আসম্ভব ছিল না৷ তবে বাইশগজের পরিস্থিতির কথা মাথায় রাখলে কাজটা সহজ ছিল না মোটেও৷

দক্ষিণ আফ্রিকা অবশ্য সিংহলী স্পিনারদের সামনে ন্যূনতম প্রতিরোধও গড়ে তুলতে পারেনি৷ শুরু থেকেই পর পর উইকেট হারাতে থাকে তারা৷ মার্করাম ১৯, ডি’ক্ক ১০ ও ফিল্যান্ডার অপরাজিত ২২ ছাড়া দু’অঙ্কের রান করতে পারেননি কেউই৷

আরও পড়ুন: জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্রিকেটারদের ওয়ার্কলোড মাপছে শ্রীলঙ্কা

মাত্র ২৮.৫ ওভার স্থায়ী হয় দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংস৷ এই নিরিখে এশিয়ার মাটিতে এটিই তাদের সংক্ষিপ্ততম ইনিংস৷ দিলরুয়ান পেরেরা শ্রীলঙ্কার হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩২ রানে ৬ উইকেট নেনে৷ রঙ্গনা হেরথ ৩৮ রানে ৩ উইকেট দখল করেন৷ একটি উইকেট পেয়েছেন সান্দাকান৷

দুই ইনিংস মিলিয়ে ২১৮ রান করা করুণারত্নে ম্যাচের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হন৷ উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, দুই ইনিংস মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ সাকুল্যে ১৯৯ রান৷ অর্থাৎ করুণারত্নের একার রানই শ্রীলঙ্কার জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল৷

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা: ২৮৭ ও ১৯০
দক্ষিণ আফ্রিকা: ১২৬ ও ৭৩
ম্যাচের ফল: শ্রীলঙ্কা ২৭৮ রানে জয়ী৷

---