‘গুমনামি বাবা’র খোঁজে সৃজিত-প্রসেনজিৎ

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : গুমনামি বাবার খোঁজে নেমে পড়েছেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়৷ সঙ্গে রয়েছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়৷ কিন্তু এই গুমনামি বাবা ঠিক কে? কী তাঁর সঠিক পরিচয়, সেই নিয়ে অসংখ্য মতবিরোধ রয়েছে৷ আর সৃজিত মানেই নায়ক-নায়িকার রোম্যান্স ছাডা় অন্যান্য এলিমেন্টস৷ রোম্যান্সের মধ্যে দিয়েও কী করে রহস্যকে তুলে আনতে হয় সেই বিষয় সৃজিততে অনেকেই তালিকায় প্রথমে রাখবে৷ গুমনামি বাবার রহস্যকে ঘিরেই এবার তৈরি হবে সৃজিতের নতুন ছবি৷

সৃজিত-ভক্তরা অনেকেই হয়তো জানেন এই গুমনামি বাবার সম্বন্ধে৷ আর যারা জানেন না তাঁরা ইতিমধ্যেই রিসার্চ করা শুরু করে দিয়েছেন৷ এসভিএফের প্রযোজনায় তৈরি হবে এই ছবি৷ নেতাজির চরিত্রে থাকছেন প্রসেনজিৎ৷ আপাতত এটুকুই জানিয়েছেন সৃজিত৷

- Advertisement -

প্রসঙ্গত, এই গুমনামি বাবা লোকচক্ষুর আড়ালে থাকতেন বরাবর৷ ফৈজাবাদ আশ্রম রাম ভবনই ছিল তাঁর ঠিকানা৷ হাতে গোনা মানুষের সঙ্গে কথা বলতেন তিনি৷ কারও সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎও তেমন করতেন না৷ প্রকাশ্যে আসা কিছু ছবিতে দেখা যায়, হুবহু নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মতো দেখতে এই গুমনামি বাবা৷ কেবল জুড়েছে লম্বা দাড়ি৷ শোনা গিয়েছিল, সারাদিন বই পড়ে কাটাতেন তিনি৷ মারা গিয়েছিলেন ১৯৮৬ সালে৷ এই অজানা রহস্যময় মানুষটির নাম দেওয়া হয়েছিল গুমনামি বাবা৷

তিনি মারা যাওয়ার পর স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর সম্বন্ধে কৌতূহল আরও বাড়তে থাকে৷ ফৈজাবাদের আশ্রমে লোকের ভিড় উপচে পড়ে আজও৷ জানা যায়, আশ্রমের উঠোনে বড়ো করে আঁকা ছিল ভারতের মানচিত্র৷ গুমনামি বাবার ঘর থেকে পাওয়া গিয়েছিল, গোল ফ্রেমের চশমা, বেলজিয়ান টাইপরাইটার, ইতালি এবং জার্মানির সিগার এবং দেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্বে ও পরের কিছু সংবাদপত্র৷ এমনকি নেতাজির বাবা জানকিনাথ বসু এবং মা প্রভাবতী দেবীর ছবি৷ একই সঙ্গে পাওয়া যায় বাবা-মা সহ পরিবারের ২২ সদস্যের ছবি৷ এছাড়াও নেতাজির আত্মীয়ের কয়েকটি চিঠি৷

 

এমনকি নেতাজি সংক্রান্ত বহু ফাইলেও এক সাধুর উল্লেখ রয়েছে৷ তবে তাঁর সম্বন্ধে বিস্তারিত কিছু লেখা ছিল না৷ এতেই অনেকের অনুমান করে ১৯৪৫ সালে ১৮ অগস্ট নেতাজির মৃত্যুটি কেবল রটনা মাত্র৷ এই গুমনামি বাবাই আসলে নেতাজি৷ সাধুর বেশে তিনি জীবন যাপন করতেন৷ তবে তা কতটা সত্যি তা আজও ধোঁয়াশায়৷

 

Advertisement ---
---
-----