অনলাইনে টেট পরীক্ষার ফর্ম দেওয়া শুরু

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: স্কুলে উচ্চ প্রাথমিক স্তরে সহ-শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষা টেট-এর ফর্ম দেওয়া শুরু হল অনলাইনে৷ স্নাতকস্তরে অন্তত ৫০ শতাংশ নম্বর না পেলে টেট-এর ফর্ম দেবে না স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)৷ প্রসঙ্গত, টেট-এ বসতে হলে এতদিন শিক্ষক প্রশিক্ষণের ডিগ্রি বা বেসিক ট্রেনিংয়ের ডিপ্লোমা অর্থাৎ ডিইএলইডি বাধ্যতামূলক ছিল৷ রাজ্য সরকারের আবেদনে এবার তাতে ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক৷ বৃহস্পতিবার এসএসসি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়েছে, টেট নেওয়া হবে চলতি বছরের ৩০ আগস্ট৷

২০১৩ সালে টেট-এ বসতে চেয়ে যাঁরা আবেদন করেছিলেন তাঁরা এবার অনলাইনে ফর্ম দেওয়ার দিন থেকেই অর্থাৎ ১২ জুন থেকে ৩০ জুনের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন৷ নতুনরা ১৮ থেকে ৩০ জুনের মধ্যে আবেদন করবেন৷ www.westbengalssc.com ওয়েবসাইটে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে৷

পরীক্ষা হবে ১৫০ নম্বরের৷ সময় এক ঘণ্টা ৩০ মিনিট৷

প্রত্যেক প্রশ্নের জন্য বরাদ্দ থাকবে এক নম্বর৷ ৬০ নম্বর পেলে পরীক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ বলে ধরা হবে৷

এর মধ্যে চাইল্ড ডেভেলপমেণ্ট অ্যান্ড পেডাগগি ৩০, প্রথম ভাষা ৩০, দ্বিতীয় ভাষা ৩০ এবং বিষয়ের উপর থাকবে ৬০ নম্বরের প্রশ্ন৷

২০১৩ সালে ফর্ম না পেয়ে রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ দেখা গিয়েছিল৷ ফর্ম না পেয়ে ডাকঘরে হামলার ঘটনাও ঘটেছিল এ রাজ্যে৷ এর পরেই ডাকঘরের পাশাপাশি অনলাইনে ফর্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এসএসসি৷

এ বছরের পরীক্ষার জন্য এসএসসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এবার শুধুমাত্র অনলাইনে ফর্ম দেওয়া হবে৷ প্রয়োজনে পরীক্ষার্থীরা এসএসসির সদর ও আঞ্চলিক দফতরে ফোন করতে পারবেন৷

ফোন নম্বরগুলি হল সল্টলেক (সদর দফতর) ০৩৩-২৩২১-৪৫৫০, পূর্বাঞ্চল (০৩৪২-২৬২৪৫৩৪), উত্তরাঞ্চল (০৩৫১২-২৫১৫৫৬), দক্ষিণাঞ্চল (০৩৩-২৪৮৫-১৪১৫), পশ্চিমাঞ্চল (০৩২৪২-২৫৫৮৯৫) এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল (০৩৩-২৫৪৮-১০৬০)৷

নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি এখনও প্রকাশ হয়নি৷ যদিও জানা গিয়েছে, ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশনের নিয়মমতো পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকতার জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে বিএড বাধ্যতামূলক হলেও নবম-দ্বাদশ শ্রেণিতে শিক্ষকতার জন্য বিএড নাকি বাধ্যতামূলক নয়৷

টেট পরীক্ষার বিষয়ে আরও তথ্য নীচে দেওয়া হল:

 স্নাতকস্তরে ন্যূনতম ৫০% নম্বর থাকা বাধ্যতামুলক। বিএড বা ডিপ্লোমা ইন এলিমেন্টারি এডুকেশন (ডিইএলইডি) বাধ্যতামূলক নয়। ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশনের (এনসিটিই) নিয়ম অনুযায়ী, ২৩ অগাস্ট ২০১০-এর আগে স্নাতক প্রার্থীর ন্যূনতম ৪৫% নম্বর থাকলেও তিনি আবেদনের জন্য যোগ্য হবেন। এনসিটিই-র নিয়ম অনুযায়ী, এই ন্যূনতম মার্কস স্নাতকস্তরের সমস্ত বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর ধরে বিবেচ্য হবে। কেবলমাত্র অনার্স সাবজেক্টের নম্বরের উপর নয়। সাম্মানিক + পাস + বাধ্যতামূলক বিষয়ের মার্কস ধরেই হিসেব করা হবে। আবার এনসিটিই-র নিয়ম অনুযায়ী, দুই বছরের ডিএলএড থাকলে স্নাতক স্তরে ন্যূনতম নম্বরের কোনও ব্যাপার নেই। বিশেষ বিএড / বিশেষ ডিইএলইডি আরসিআই কর্তৃক অনুমোদিত হলে পেশাদারি যোগ্যতার নম্বর পাবেন। তবে চাকরি পেলে ছ মাসের প্রশিক্ষণ নিতে হবে। স্নাতকত্বে ন্যূনতম নম্বর নেই, কিন্তু স্নাতকোত্তরে ৫০% নম্বর আছে এরকম প্রার্থী টেট-২০১৫-এ আবেদন করতে পারবেন না। স্নাতকত্বে ন্যূনতম ৫০% নেই, অথচ স্নাতকোত্তরে ৫০% নম্বর আছে, এ রকম প্রার্থী গতবার ফর্ম ফিল-আপ করতে পেরেছিলেন। এবার কিন্তু তাঁরা আর ফর্ম ফিল-আপ করতে পারবেন না। তাঁদের গতবারের ফর্ম-ফিল আপের টাকা কবে কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে, সেই বিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি।

টেটের পরীক্ষা পদ্ধতি: Academic & Professional Qualification = 60; TET = 20

Personality Test – 20 comprising of viva voce (10), Demonstration (5) & Communication Skills (5). মোট ১৫০ নম্বরের পরীক্ষা। সময়সীমা ৯০ মিনিট।

টেটে প্রাপ্ত নম্বর শতাংশের হিসেবে ২০ নম্বরের উপর গণনা করা হবে৷ সেইমতো পরীক্ষার্থী মার্কস টেবিলে নম্বর পাবেন।

উদাহরণ: কেউ ১৫০ নম্বরের মধ্যে ১২০ পেলে অর্থাৎ ৮০% নম্বর পেলে মার্কস টেবিলে ২০-র মধ্যে টেটের জন্য প্রাপ্ত নম্বর হবে ১৬।

যাঁরা ২০১৩-র ত্রয়োদশ আঞ্চলিক স্তরের বাছাই টেস্ট (সহ শিক্ষক/শিক্ষিকা নিয়োগ) পর্যায়ে টেটের (আরএলএসটি এটি টেট) ফর্ম-ফিল আপ করেছিলেন তাদের নতুন করে ফর্ম-ফিল আপ করতে হবে। এখন শিক্ষাগত ও পেশাদারি যোগ্যতার নথি দেখিয়েই ফর্ম ফিল-আপ করতে পারবেন। গতবারের অ্যাপ্লিকেশন ফরম নম্বর দিতে পারলে এবারের টেট পরীক্ষার ফর্ম-ফিল আপের জন্য আর টাকা লাগবে না। যদি গতবারের ফর্ম ফিল-আপের ডকুমেন্ট হারিয়ে ফেলে থাকেন, তাহলে নতুন করে টাকা দিলেই ফর্ম ফিল-আপ করতে পারবেন। এবারের ফর্ম ফিল-আপ কেবল অনলাইনের মাধ্যমে করতে হবে।

যাঁরা ২০১১-র দ্বাদশ আরএলএসটি (অ্যাসিস্ট্যান্ট টিচার) টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে টেট সার্টিফিকেট পেয়েছেন তাঁরাও এবারের টেটে মার্কস বাড়ানোর জন্য পরীক্ষায় বসতে পারবেন। কিন্তু গতবারের ও এবারের টেট পরীক্ষায় প্রাপ্ত মার্কসের কোনটি শেষ পর্যন্ত ধার্য হবে সে বিষয়ে এখনও কিছু খোলসা করে বলা হয়নি। পরবর্তীকালে শিক্ষক/শিক্ষিকা নিয়োগের চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে এই বিষয়ে পরিষ্কার জানা যাবে।

তবে টেটে পাশ করলেই তৎক্ষণাৎ ইন্টারভিউর সুযোগ মিলবে না। শিক্ষাগত ও পেশাদার যোগ্যতার জন্য প্রাপ্ত মার্কস + টেটের জন্য প্রাপ্ত মার্কস সমস্ত কিছু হিসেব চুকিয়ে চূড়ান্ত মার্কস টেবিল তৈরি করার পরই ইন্টারভিউয়ের লিস্ট তৈরি হবে। এক বছরের বিএড ও দুই বছরের ডিইএলইডির জন্য সর্বাধিক ২০ নম্বর ধার্য হবে। হাইকোর্টের নির্দেশে এই নোটিশে পরিষ্কার বলা আছে যে, শূন্যপদের ১ : ১.২ অনুপাতে তৈরি সম্পূর্ণ মেরিট লিস্টের আগে বিএড পাশ/ ডিইএলইডি-প্রাপকদের নাম থাকবে, তার পরে থাকবে তালিমহীন প্রার্থীদের নাম।

---- -----