সেন্ট পলস কাণ্ডে ধৃতদের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল কলেজে ছাত্রকে নগ্ন করে হেনস্থা করার ঘটনায় ধৃত পাঁচ জন ১৮ জুন পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিল আদালত৷ বুধবার ধৃতদের কলকাতা নগরদায়রা আদালতে তোলা হয়৷ এদিন ধৃতদের জামিনের আবেদন খারিজ করে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক৷

মঙ্গলবার সেন্ট পলস কলেজ কাণ্ডে মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করে আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার পুলিশ৷ ধৃতদের নাম অর্ণব ঘোষ, আবদুল কায়ুম মোল্লা, শেখ ইনামুল হক, অভিজিৎ দলুই, অনন্ত প্রামাণিক৷ এদিন উত্তর কলকাতার জগৎ সিনেমা হলের কাছে এই পাঁচজন জড়ো হয়েছিল৷ আগাম জামিনের জন্য এক আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল তাদের৷ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেখানে হানা দিয়ে পাঁচজনকেই গ্রেফতার করে পুলিশ৷

ধৃতদের মধ্যে আব্দুল কায়ুম মোল্লা বাদে বাকি চারজনের বিরুদ্ধেই আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল৷ গত সোমবার এই বিষয়ে গভর্নিং বডির বৈঠক হয় সেন্ট পলস কলেজে৷ বৈঠকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়৷ ওই বৈঠকের দিনই সাসপেন্ড করা হয় অভিযুক্ত অশিক্ষক কর্মচারী অনন্ত প্রামাণিককে৷ পাশাপাশি, অভিযুক্ত ছাত্ররা প্রয়োজন ছাড়া কলেজে প্রবেশ করতে পারবে না বলেও জানায় গভর্নিং বডি৷ সেই তদন্তকারী কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযুক্ত দুই ছাত্র অর্ণব ঘোষ ও অভিজিৎ দলুইকে গত সোমবার কলেজ থেকে বহিষ্কার করে কলেজ কর্তৃপক্ষ৷

তারপর, মঙ্গলবার চারজন অভিযুক্ত সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩৩৯, ৩৪০, ৩৪১, ৩৪২, ৫০৬, ৩৮৭, তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৬৭ ও ব়্যাগিং বিরোধী আইনের ৪ নম্বর ধারায় মামলা রুজু করেছে আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার পুলিশ৷ বুধবার তাদের আদালতে তোলা হলে জামিনের আবেদন জানান ধৃতদের আইনজীবী৷ সেই আবেদন খারিজ করে দেন বিচারক৷ অন্যদিকে, সরকারের পক্ষের আইনজীবী এদিন বলেন, ‘‘এটি ঘৃণ্য অপরাধ৷ কোনও সভ্য সমাজে এটা হয় না৷’’

সেন্ট পলস কলেজের ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ক্রমে প্রকাশ্যে আসছে তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্র পরিষদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব৷ এমনকী ভিডিওটি আসলে সাম্প্রতিক? না কি মজার ছলে তোলা ভিডিওকে হেনস্থা বলে দাবি করা হচ্ছে? এই ধরনের একাধিক প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে৷ এই বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘কাউকে বাঁচানোর কোনও চেষ্টা হবে না৷ ভিডিওটা কোন মাসে, কবে হল সেটা বড় কথ নয়৷ আসল কথা ঘটনাটি কলেজের মধ্যে ঘটেছে৷ এটা আমাদের সংস্কৃতি না৷ গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের কথা বলে ঘটনাটিকে লঘু করে কোনও লাভ নেই৷’’

Advertisement
----
-----