কর্মী নিয়োগের জটিলতা কাটিয়ে চুড়ান্ত নিয়োগ পর্ব শুরু

স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: অবশেষে বর্ধমান জেলার ত্রিস্তর গ্রাম পঞ্চায়েতে কর্মী নিয়োগের জটিলতা কাটিয়ে চুড়ান্ত নিয়োগের পথে এগোলো বর্ধমান জেলা প্রশাসন। সোমবার বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবু টুডু জানিয়েছেন, ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ টি পদে এবং পঞ্চায়েত সমিতির ৪ টি পদে মোট ৪০২ টি শূন্যপদ পূরণের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

এই পদের জন্য মোট ৯৮ হাজার কর্ম প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় বসেন। গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্মাণ সহায়ক পদে ৩৯ টি, গ্রাম পঞ্চায়েত সহায়ক পদে ১০৯ টি, গ্রাম পঞ্চায়েত কর্মী পদে ১৬০ টি এবং পঞ্চায়েত সমিতির সমিতি এডুকেশন অফিসার পদে ১৯ টি, অ্যাকাউন্টস ক্লার্ক পদে ২৯ টি, ক্লার্ক কাম টাইপিষ্ট পদে ৩০ টি এবং পঞ্চায়েত সমিতির পিওন পদে ১৬ টি শূন্যপদ ঘোষণা করা হয়।

লিখিত পরীক্ষার পর ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে সফল লিখিত পরীক্ষার প্রার্থীদের ৫ জন পিছু ১ জনকে মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হয়। যথারীতি ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এই মৌখিক পরীক্ষা পর্ব চলে। কিন্তু এরপরেই আইনি জটিলতায় আটকে যায় পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা। ইতিমধ্যে, জেলাশাসককে চেয়ারম্যান করে একটি নিয়োগ কমিটিও গঠন করা হয়। এরপর ২০১৭ সালের মার্চ মাস নাগাদ আদালতের নির্দেশে স্থগিতাদেশ ওঠে।

- Advertisement -

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ফের নিয়োগ কমিটির পরিবর্তন করা হয়। চেয়ারম্যান হিসাবে সভাধিপতিকে নিযুক্ত করা হয়। জেলাশাসককে এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ করা হয়। কার্যত পঞ্চায়েতের এই নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতার পর অবশেষে সোমবার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এদিন সভাধিপতি জানিয়েছেন, মোট ২২৬ টি পদের জন্য ২১৫ জনের চুড়ান্ত তালিকা এদিন প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রাম পঞ্চায়েতের গ্রাম পঞ্চায়েত কর্মী পদে ১৬০ টি শূন্যপদের জন্য লিখিত পরীক্ষা হলেও তার ফলাফল এখনও ঘোষণা হয়নি। পাশাপাশি, সভাধিপতি দ্রুত এই ফল ঘোষণা করা হবে বলেও জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানিয়েছেন, আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই এই সফল প্রার্থীদের মেরিট লিষ্ট অনুসারে নিয়োগ করা হবে৷ শূন্যপদ ফাঁকা থাকা জায়গায় নিয়োগ হবে বলেই জানা গিয়েছে। এই প্রসঙ্গে জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, চুড়ান্ত প্রার্থীদের মেডিকেল টেস্ট, পুলিশি ভেরিফিকেশন ইত্যাদি দ্রুততার সঙ্গে সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই সফল প্রার্থীদের চিঠি পাঠানো শুরু হয়েছে। প্রার্থীরা চিঠি পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে প্রশাসনের কাছে সেই পদে কাজ করতে ইচ্ছুক কিনা তা জানাতে হবে। অন্যথা তিনি রাজি নন বলে গণ্য করা হবে।

Advertisement ---
---
-----