২০০ স্যাটেলাইটে ভারতের প্রত্যেক কোণায় ইন্টারনেট পৌঁছবে এই সংস্থা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। ব্যাংকিং পরিষেবা থেকে শুরু করে কেনাকাটা, সবটাই এখন অনলাইনে। ঘরে বসেই সেরে ফেলা যায় সব কাজ। খবরের কাগজ আসার আগে পড়ে ফেলা যায় দুনিয়ার সব খবর। কিন্তু এসব সুবিধা ক’জন পায়? এখনও ভারতের অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাওয়া যায় ইন্টারনেট পরিষেবা। গুগল কিংবা ফেসবুক আজও অনেক মানুষের মুঠোয় পৌঁছয়নি। তাই এবার দেশকে আক্ষরিক অর্থে ‘ডিজিটালাইজড’ করতে বড়সড় উদ্যোগ নিল এক সংস্থা Astrome .

সংস্থাটি নিছকই ১৮ জন সদস্যের একটা স্টার্ট-আপ। কিন্তু তারাই দেশে বদল আনার উদ্যোগ নিয়েছে। দেশের প্রত্যেক কোনায় ‘দ্রুতগতির, বিশ্বাসযোগ্য’ ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ২০০টি মাইক্রোস্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠাচ্ছে তারা।

তিনভাবে পাওয়া যাবে তাদের সেই ইন্টারনেট পরিষেবা। যেসব সেলুলার টাওয়ার রয়েছে, সেগুলিতে পাওয়ার দিতে পারে ওই স্যাটেলাইটগুলি। দ্বিতীয় উপায় হল, একটি সেট টপ বক্স বা অ্যান্টেনা কিনে নেওয়া। সেগুলি বাড়িতে বা অফিসে ঠিকমত পজিশনে বসিয়েই পাওয়া যাবে নেট পরিষেবা। এছাড়া, কোনও একজন একটি সেট টপ বক্স কিনলে গোতা এলাকায় সব মানুষ সেখান থেকে ইন্টারনেট পাবেন। আগামী বছরেই বেশ কয়েকটি স্যাটেলাইট পাঠানোর টার্গেট নিয়েছে ওই সংস্থা। এরপর ফের পাঠানো হবে ২০২১-এ।

ইন্টারনেট পরিষেবা দিতে আগেও মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে অনেকে। গুগল, বোয়িং, স্পেস এক্সের মত সংস্থা আগেই এই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এই স্টার্ট আপের বিশেষত্ব কোথায়? নতুন এমএম ওয়েভ টেকনোলজিতে স্যাটেলাইট পিছু ১০০ জিবিপিএস ডেটা পাঠাচ্ছে। যা অন্যান্য সংস্থার থেকে পাঁচ বা ১০ গুন বেশি। তাই প্রত্যেকে ৫০ এমবিপিএস স্পিডে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে।

Astrome -এর খুঁটিনাটি:

নেহা সতক ও ভাট নামে দু’জন এর মূল উদ্যোক্তা। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউ অফ সায়েন্সে পড়ার সময়া তাদের আলাপ। পরে ২০১৫ তে তারা Astrome নামের স্টার্ট আপ শুরু করে। তাদের উদ্যোগের অভিনবত্ব তাদের অনেক পুরস্কার এনে দিয়েছে ইতিমধ্যেই। চলতি বছরেই ন্যাশনাল টেকনোলজি ডে’তে তিনটি স্টার্ট আপকে পুরস্কৃত করেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। তাদের মধ্যে একটি Astrome.

শুধু ভারত নয়, তাদের এই ফ্লোটিং রাউটার পরিষেবা দেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা, দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়াতেও।

উদ্যোক্তাদের অন্যতম ভাট জানান, দেশের ৬৪.৮৪ শতাংশ মানুষ প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাস করেন। আর মাত্র ২০.২৬ শতাংশ এলাকায় অপটিক ফাইবারের সংযোগ রয়েছে। তাই তাঁর মতে ডিজিটাল ইন্ডিয়া একটা দূরের স্বপ্ন। তাই তাঁদের এই উদ্যোগ।

----
-----