বামেদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে জমি কিনল মমতা সরকার

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ডাইরেক্ট ল্যান্ড পারচেস পলিসি বা সরাসরি জমি কেনার নিয়ম মেনে দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ১৯ একর জমি কিনল রাজ্য সরকার। এই প্রথম একসঙ্গে এতটা জমি কিনতে পারল মমতা সরকার। বড়সড় সাফল্য রাজ্য সরকারের ঝুলিতে।

সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম থেকে শিক্ষা নিয়ে সরাসরি জমির মালিকদের কাছ থেকে সম্মতি নিয়ে জমি কেনার নিয়ম চালু করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম দেওয়া হয়েছে, Direct Land Purchase Policy। এই প্রকল্পে এতদিনে বড়সড় সাফল্য পেল মমতা সরকার।

দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ১৯ একর জমি কিনল রাজ্য সরকার। সিঙ্গুর আন্দোলনের সময়ই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, তাঁরা ক্ষমতায় এলে জোর করে জমি দখল করা হবে না। ক্ষমতায় আসার পরই তিনি Direct Land Purchase Policy তৈরি করেন। যার অন্যতম শর্তই হল রাজ্য সরকার ল্যান্ড ব্যাঙ্ক তৈরি করবে কিন্তু জমি কেনা হবে জমি মালিকের অনুমতি নিয়ে। জোর করে জমি দখল করবে না তাঁর সরকার।

প্রতীকী ছবি

২২৯ জন জমি মালিকের সম্মতি নিয়ে ১৯ একর জমি কিনেছে রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকার Direct Land Purchase Policy র মাধ্যমে দক্ষিণ ২৪ পরগণার গোসাবা ও গাদখালিতে এই ১৯ একর জমি কিনেছে সরাসরি জমি মালিকদের কাছ থেকে।

এতবড় সাফল্য এল দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলাশাসকের উদ্যোগে Direct Land Purchase Policy কমিটির জন্য। বড় সাফল্য এই কারণেই যে, এই জেলাতেই ভাঙ্গরে পাওয়ার গ্রিড তৈরির জন্য জমি নেওয়াকে কেন্দ্র করে এখনও অশান্তি চলছে। সেই জেলাতেই ২২৯ জন জমি মালিককে বুঝিয়ে ১৯ একর জমি কেনাটা সত্যি রাজ্য সরকারের সাফল্যের মধ্যেই পড়ে।

এই ১৯ একর জমিতে গাদখালি ও গোসাবা বাজারের মধ্যে বিদ্যা নদীর উপর একটি ব্রীজ তৈরি হবে। যার ফলে গাদখালি ও গোসাবা বাজারের মধ্যে যাতায়াতে অত্যন্ত সুবিধা হবে। সুন্দরবন এলাকায় এই ব্রীজ যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম মাধ্যম হিসাবে গড়ে উঠবে।

একর প্রতি ৪০ লাখ টাকায় এই জমি কিনল রাজ্য সরকার। জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় জমি হওয়া সত্বেও বেশ ভালো দামেই জমিদাতাদের কাছ থেকে জমি কিনেছে রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের কাছে নিজেদের জমি বিক্রী করে জমিদাতারা প্রত্যেকেই বলেছেন, বাজার দরের চেয়েও বেশি দামেই তাঁরা জমি বিক্রী করেছেন রাজ্য সরকারকে। এলাকার উন্নতির জন্যই তাঁরা স্বেচ্ছায় এই জমি বিক্রী করলেন মমতা সরকারকে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলাশাসকের উদ্যোগে জেলার Direct Land Purchase Policy কমিটির সদস্যরা তথা সরকারি অধিকারীকরা প্রতিটি জমি মালিকের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের বোঝান, এলাকার উন্নতির জন্য এই ব্রীজ হওয়া কতটা প্রয়োজন। তাদের এও বোঝানো হয়, এই জমির জন্য তাদের এখানকার বর্তমান বাজার দরের তুলনায় অনেক বেশি টাকা দেবে রাজ্য সরকার।

এরপরেই সব দিক খতিয়ে দেখে রাজ্যের তথা নিজেদের এলাকার উন্নতির জন্য রাজ্য সরকারকে জমি দেবার সিদ্ধান্ত নেয় জমি মালিকরা। এরপরেই ২২৯ জন জমি মালিকের কাছ থেকে সম্মতিপত্র নেন সরকারি আধিকারীকরা। তারপরেই এই ১৯ একর জমি কেনা হয়। এই প্রথম এতটা জমি একসঙ্গে কোনরকম বিতর্ক ছাড়াই কিনতে পারল রাজ্য সরকার।

গোসাবা ও গাদখালির এই জমি কেনার ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজ্যের অন্যান্য জায়গাতেও সরাসরি জমি কেনা নিয়ে সাফল্য পাবে রাজ্য সরকার, এমনটাই আশা করছেন সরকারি আধিকারীকরা। রাজ্যে শিল্প আনতে গেলে এই মূহুর্ত্বে যেটা সবচেয়ে বেশি দরকার।