সংঘ পরিচালিত স্কুল বন্ধ করতে গিয়ে বিপাকে রাজ্য

স্নেহাশিস চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: সংঘের স্কুল বন্ধ করতে গিয়ে আদালতে বিপাকে পড়ল রাজ্য সরকার। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ পরিচালিত সারদা সেবা ট্রাস্টের স্কুল গুলির ওপর জারি করা জেলা পরিদর্শকের বিজ্ঞপ্তির ওপর স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের পরিচালিত সারদা সেবা ট্রাস্টের ১০ টি স্কুলের মান্যতা দেওয়ার আবেদনের বিপক্ষে জেলা পরিদর্শকের বিজ্ঞপ্তি ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন যে স্কুল পরিদর্শকের জারি করা বিজ্ঞপ্তির ওপর নির্ভর করে রাজ্য সরকার কোন পদক্ষেপ নিতে পারবে।

উত্তর দিনাজপুরের রাস্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের পরিচালিত বিদ্যা ভারতীর ১৬ টি রয়েছে। যেগুলির মূল সঞ্চালক সারদা সেবা ট্রাস্ট। আরটিই আইন হওয়ার পর রাস্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের ১৬ টি স্কুলকে মান্যতা দেওয়ার জন্য উত্তর দিনাজপুরের জেলা স্কুল পারিদর্শকের কাছে আবেদন করা হয়।

- Advertisement -

সেগুলির মধ্য দশটি স্কুলকে মান্যতা না দেওয়ায় চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সারদা সেবা ট্রাস্টের ওই ১০টি স্কুল।

স্কুলগুলি আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছে কিনা এবং সেই নথি রাজ্য শিক্ষা দফতরে জমা পড়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়।

কিন্তু, সেই নির্দেশ সঠিকভাবে মানা হয়নি। সংঘের ১০ টি স্কুলকে গত ৬ এবং ৯ই এপ্রিল দু’টি নোটিস জারি করে শুনানির জন্য ডেকে পাঠান হয়। নোটিশ পেয়ে ১৬ ই এপ্রিল স্কুল কর্তৃপক্ষের সদস্যরা জেলা পরিদর্শকের অফিসে যান। ২৩ শে এপ্রিল স্কুল গুলির আবেদন খারিজ করে দেন ডিআই।

স্কুল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এক্তিয়ার বহির্ভূত কাজ করেছেন ডিআই। সেই বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে ফের কলকাতা হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন মামলা দায়ের করে রাস্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের সারদা সেবা ট্রাস্টের ১০ টি স্কুল। তাদের দাবি স্কুল পরিদর্শকের কোন এক্তিয়ার নেই আবেদন খারিজ করার।

বুধবার মামলা শুনানি চলাকালীন মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী অরিজিৎ বক্সি আদালতে জানান যে জেলা পরিদর্শক আবেদনগুলোকে শিক্ষা দফতরের রাজ্য স্তরের কমিটির কাছে শুধু মাত্র নথিগুলি হস্তান্তর করা পর্যন্তই তাঁর সীমানা। কিন্তু তা না করে এক্তিয়ার বহির্ভূত কাজ করেছেন জেলা পরিদর্শক। সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো কোনও আইনি অধিকার তাঁর নেই। তবুও তিনি তা করেছেন। আর সেই কারণেই ফের আদালতে দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষগুলি।

Advertisement ---
---
-----