পঞ্চায়তে ভোটে নিরাপত্তায় রাজ্য পুলিশ, কমিশনকে রিপোর্ট নবান্নের

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাজ্য পুলিশ দিয়েই ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচন হবে৷ শুক্রবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে এমনই রিপোর্ট দিল রাজ্য সরকার। কমিশন সূত্রের খবর, নবান্নের রিপোর্টে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উল্লেখ নেই। তাছাড়া, ভিন রাজ্য থেকে কত কোম্পানি পুলিশ আসছে তারও কোনও উল্লেখ নেই এই রিপোর্টে৷ তবে প্রতিটি বুথে সশস্ত্র বাহিনী রাখার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার। কিন্তু রাজ্যের এই রিপোর্টে সন্তুষ্ট নয় কমিশন৷

পঞ্চায়েত নির্বাচনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কী হবে? বিভিন্ন মহলে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে৷ ইতিমধ্যেই নির্বাচনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বিরোধীরা৷ আগামী মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি রয়েছে৷ সূত্রের খবর, ভোটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ওই দিন আদালতে জবাবদিহি করতে হতে পারে নির্বাচন কমিশনকে৷

আরও পড়ুন: পঞ্চায়েতের আগে বিজেপির প্রার্থীকে দলে নিল তৃণমূল

- Advertisement -

তবে, নবান্নের থেকে পাওয়া এই রিপোর্টই ওই দিন আদালতে কমিশন তুলে ধরবে বলে জানা গিয়েছে৷ বৃহস্পতিবার জেলার পুলিশ সুপারদের কাছ থেকে অতি স্পর্শকাতর ও স্পর্শকাতর বুথের সম্পূর্ণ তথ্য চেয়েছে নির্বাচন কমিশন৷ সাত মে-র মধ্য রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ ওই রিপোর্টও আট তারিখ আদালতে কমিশন পেশ করবে বলে জানা গিয়েছে৷ কিন্তু এখনও পর্যন্ত বুথের চরিত্র সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ কোনও তথ্য না থাকায় বিস্মিত খোদ কমিশনেরই অনেক কর্তা৷

তাঁরা মনে করছেন, রাজ্যের হিসেবে ২৪ হাজার অতি স্পর্শকাতর বুথ রয়েছে। এই চরিত্রের বুথ পিছু দু’জন করে সশস্ত্র এবং লাঠিধারী অর্থাৎ, মোট চার জন পুলিশ দেওয়া হতে পারে। স্পর্শকাতর ১৪ হাজার বুথের এক একটিতে এক জন সশস্ত্র এবং দু’জন করে লাঠিধারী অর্থাৎ, তিন জন পুলিশ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সাধারণ ২১ হাজার বুথের প্রতিটির জন্য এক জন করে সশস্ত্র এবং লাঠিধারী, অর্থাৎ, মোট দু’জন পুলিশকর্মী দেওয়া হতে পারে। এই হিসাবে সব বুথ মিলিয়ে ৫৯ হাজার সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন হতে পারে।

আরও পড়ুন: মমতার পুলিশ বাংলার গণতন্ত্রকে ধর্ষণ করছে: দিলীপ

কিন্তু এই কাজ ছাড়াও পর্যবেক্ষক ও ভোটকর্মীদের নিরাপত্তা, ব্যালট বাক্স, ভোটের উপকরণের সুরক্ষা, হঠাৎ কোথাও আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হলে তা সামলানো সহ একাধিক কাজে অতিরিক্ত বাহিনী প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে ভিন রাজ্য থেকে আসা বাহিনী ব্যবহার করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ দিন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা এখনও জানে না কত কোম্পানি বাহিনী ভিন রাজ্য থেকে আসছে৷ ভিন রাজ্য থেকে দ্রুত বাহিনী আনার বিষয়ে গত সপ্তাহে রাজ্য পুলিশের ডিজি ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার চিঠি দিয়েছিলেন৷ এক সপ্তাহ পরেও ভিন রাজ্যের বাহিনী নিয়ে রাজ্য সরকার স্পষ্ট কোনও তথ্য না দিতে পারায় কমিশন অসন্তুষ্ট বলে জানা গিয়েছে৷

আরও পড়ুন: পঞ্চায়তে ভোটে নিরাপত্তায় রাজ্য পুলিশ, কমিশনকে রিপোর্ট নবান্নের

Advertisement ---
-----