স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: হাল ছাড়ছে না রাজ্যের ব্রাত্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলি৷ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের দূরশিক্ষা অনুমোদনের তালিকায় না উঠলে কী হয়েছে? দূরশিক্ষার অনুমোদন পেতে ফের ইউজিসির কাছে আবেদন করবে রাজ্যের চারটি ব্রাত্য বিশ্ববিদ্যালয়৷ এমনই জানাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্যরা৷

ইউজিসির নতুন নিয়ম অনুযায়ী ন্যাকের মূল্যায়ণে ৩.২৬ রেটিং ছাড়া কোনও বিশ্ববিদ্যালয় দূরশিক্ষা রাখতে পারবে না৷ যদিও, কিছুদিন পরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে পরবর্তী ন্যাক পরিদর্শন পর্যন্ত দূরশিক্ষা ব্যবস্থা চালু রাখার ছাড় দেওয়া হয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক থেকে৷ এই ছাড়ের জন্যও কিছু শর্ত ছিল ইউজিসির৷ তার মধ্যে অন্যতম ছিল, দূরশিক্ষা ব্যবস্থা চালানোর জন্য স্থায়ী শিক্ষক এবং আধিকারিক না থাকলে অনুমোদন দেওয়া হবে না৷ ইউজিসির পক্ষ থেকে এমনটাই জানানো হয়েছিল জুন মাসের ইন্টারফেস বৈঠকে৷ সেই মতো ন্যাকের মূল্যায়ণে ৩.২৬-এর থেকে কম রেটিং প্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলি শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু করে দিয়েছিল৷

পড়ুন আরও- ডিসট্যান্স এডুকেশন’ অনুমোদন থেকে ব্রাত্য রাজ্যের চার বিশ্ববিদ্যালয়

Advertisement

কিন্তু, তার পরও প্রাথমিকভাবে দূরশিক্ষার অনুমোদন দিয়ে ইউজিসি যে তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের দু’টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম রয়েছে৷ বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়কে ২০১৯-’২০ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত দূরশিক্ষায় ৯ টি স্নাতকোত্তর কোর্স চালু রাখার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে৷ নেতাজি মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে ২০২২-’২৩ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলিয়ে মোট ১৯টি কোর্স চালু রাখার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে৷ স্থায়ী শিক্ষক ও কর্মী থাকার কারণেই এই দু’টি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পেয়েছে৷ কিন্তু, রাজ্যের আরও চারটি বিশ্ববিদ্যালয়কে দূরশিক্ষার অনুমোদন দেওয়া হয়নি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পক্ষ থেকে৷ এই চারটি বিশ্ববিদ্যালয় হল রবীন্দ্রভারতী, কল্যাণী, বিদ্যাসাগর ও উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়৷

ইউজিসির এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্যরা৷ তাঁদের মতে, এর ফলে রাজ্যের দূরশিক্ষা প্রবলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে৷ তবে, এখনই হাল ছাড়ছে না বিশ্ববিদ্যালয়গুলি৷ ইউজিসির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যে সকল বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পায়নি তারা আবার ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে পারবে৷ সেই অনুযায়ী, রাজ্যে চারটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই পুনরায় আবেদন করবে বলে জানিয়েছে৷ অনুমোদন না পাওয়া রাজ্যের অন্যতম রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরী বলেন, ‘‘এতে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ আরও সংকুচিত হয়ে গেল৷’’ তিনি জানিয়েছেন, ইউজিসির শর্ত অনুযায়ী, তাঁরা ইতিমধ্যেই শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছেন৷ সেই উদ্যোগের কথা জানিয়ে ফের ইউজিসির কাছে আবেদন জানাবেন৷

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের শর্ত অনুযায়ী সাতদিন আগেই মোট আটটি কোর্সের জন্য ১৬ জন স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে৷ কিন্তু, তা ইউজিসিকে জানানোর পরও অনুমোদনের তালিকা থেকে ব্রাত্য এই বিশ্ববিদ্যালয়টি৷ এমনই দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষার ভারপ্রাপ্ত অধিকর্তা দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য৷ তিনি বলেন, ‘‘সোমবার আমি, রেজিস্ট্রার এবং পরীক্ষা নিয়ামক দিল্লি যাচ্ছি এই তথ্য নিয়ে৷’’ শুক্রবারই একটি বৈঠকে দিল্লি গিয়ে পুনরায় আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি৷ তবে, প্রাথমিক তালিকায় অনুমোদন না পেলেও পরের বার তাঁরা অনুমোদন পেয়ে যাবেন বলে আশাবাদী সহ অধিকর্তা ফারুক আহমেদ৷ তিনি বলেন, ‘‘আমাদের বেশ কয়েকটি জেলায় স্টাডি সেন্টার রয়েছে৷ আশা করছি, অনুমোদন পেয়ে যাব৷’’

স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে দেওয়া হয়েছিল উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়েও৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুবীরেশ ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘আমাদের স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ করতে বলা হয়েছিল৷ সেই প্রক্রিয়া চালু ককরে দেওয়ার পর দেখছি নাম বাদ গেল৷ আমরা ফের আবেদন জানাব৷’’ ফের আবেদন জানানোর কথা বলেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রঞ্জন চক্রবর্তীও৷

রঞ্জনবাবু বলেন, ‘‘ইউজিসির তালিকায় বিদ্যাসাগরের নাম নেই৷ পশ্চিমবঙ্গের যে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় ডুয়েল মোডে দূরশিক্ষা দেয় তার মধ্যে শুধু বর্ধমানের নাম রয়েছে৷ ইউজিসির বিজ্ঞপ্তিতে লেখা আছে, ৩০ দিনের মধ্যে ফের একটা রিপ্রেজেন্টেশন দেওয়া যাবে৷ আমার মনে হয়, সব বিশ্ববিদ্যালয়ই ইউজিসির কাছে আবেদন করবে৷ আমরাও ফের আবেদন করব৷’’ রঞ্জনবাবু আরও বলেন, ‘‘শুধু বিদ্যাসাগর নয়৷ মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয় সহ সারাদেশে ওরা প্রায় ৬৫টা বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুমোদন দেয়নি৷’’

----
--