তারাশঙ্করের ‘ধাত্রী দেবতার’ সংস্কারের দায়িত্ব নিল রাজ্য

বাসুদেব ঘোষ, লাভপুর: বাম আমল থেকেই উপেক্ষিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সংস্কারের অভাবে অবহেলিত তারাশঙ্করের জন্মভিটে সাধন ক্ষেত্র ‘ধাত্রী দেবতা’৷

এবার সেই জায়গার সংস্কারের উদ্যোগ নিল বর্তমান রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকার এটি সংরক্ষণের জন্য ৩১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে। বুধবার তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১২১ তম জন্মদিনে আনুষ্ঠানিক ভাবে তার ঘোষণা করল জেলা প্রশাসন।

আরও পড়ুন: অবশেষে তরল জলের সন্ধান মিলল লালগ্রহে

ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা সভাধিপতি বিকাশ রায়চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলাশাসক, উপস্থিত ছিলেন সাহিত্যিকের পরিবারের তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়, জেলা তথ্য-সংস্কৃতি দফতরের আধিকারিক ও জেলার বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকরা৷ এদিন তারাশঙ্কর কেন্দ্রিক একটি নাটক ও তাঁর কথা আলোচনার বিষয় রাখা হয়েছিল৷

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সাহিত্যিকের জন্ম শতবর্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে ১৯৯৮ সালে তৎকালীন বাম সরকারের আমলে ‘ধাত্রী দেবতা’-সহ সবকিছু দান করে দেওয়া হয় লাভপুর পঞ্চায়েত সমিতিকে। কিন্ত পরিবারের আক্ষেপ ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত কমবেশি অবরুদ্ধ ছিল ধাত্রী দেবতা। ফলে কবির ব্যবহৃত সামগ্রী অনাদরে অবহেলায় নষ্ট হতে বসেছিল। অগত্যা বাধ্য হয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে তা ২০১২ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ ও বাংলা অ্যাকাডেমিকে দান করে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: চিনা-মাদক কাণ্ডে ফ্ল্যাট সিল করল সিআইডি

আর সেই বাম আমলে ধাত্রী দেবতা সংস্কারের জন্য তৎকালীন সরকার অর্থ বরাদ্দ করলেও তা কাজে লাগেনি বলে বলে অভিযোগ লাভপুরবাসীর। তারাশঙ্করের আঁতুড় ঘর বা জন্ম ভিটে আজ করুণ অবস্থা। প্রায় ২৫০ বছরের প্রাচীন ওই মাটির বাড়িটির আজ জরাজীর্ণ অবস্থা। বর্তমান সরকারের আমলে এই নিয়ে জেলা ও রাজ্য প্রশাসনকে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়।

২০১৫ সালে ধাত্রী দেবতার দরজা খুলে স্থায়ী প্রদর্শশালা করা হয়। যা রক্ষণাবেক্ষণ জন্য স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংস্থা বীরভূম সংস্কৃতি বাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। শুরু হয় ধাত্রী দেবতা সংগ্রহ শালাকে সমৃদ্ধ করার কাজ।

আরও পড়ুন: শহরে চেজ-বক্সিংয়ের বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ

বর্তমান সরকারের কাছে তারাশংকর কাছারিবাড়ি, ধাত্রী দেবতা ও জন্মভিটে সংস্কার দাবি জানানো হয় বারবার। কারণ, এই মহান সাহিত্যিকের সাধের ধাত্রী দেবতা আজ জরাজীর্ণ অবস্থা, মাটির ভিটেটিতে চারিদিকে ফাটল ধরেছে। যে কোনও দিন তা ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এলাকাবাসী।

তারাশংকর পরিবার জেলার বিশিষ্টদের আবেদনে সারা দেয় রাজ্য সরকার। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারের তথ্য সংস্কৃতি বিভাগের অধীন রাজ্য হেরিটেজ কমিশন ইতিমধ্যেই এই বাড়িগুলি পর্যবেক্ষণ করে যান এবং রাজ্য সরকার, তা সংরক্ষণ জন্য ৩১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে। ইতিমধ্যে এই মর্মে জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য হেরিটেজ কমিশন।

আরও পড়ুন: পাকিস্তান: গণনার শুরুতেই এগিয়ে ইমরান

এ বিষয়ে বীরভূম জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু বলেন, ‘‘জেলা প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশ এসেছে। আমরা তারাশঙ্কর ভিটে ও ধাত্রী দেবতা সংস্কার করব৷’’

সংস্কারের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমরা চেয়েছি জন্মভিটেটা যেহেতু মাটির তাই সেই ঐতিহ্য সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যাতে সংস্কার হয়। এই সংস্কার এর ব্যাপারে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী উদ্যোগ জড়িয়ে আছে বলে আমি খবর পেয়েছি তাকেও কৃতজ্ঞতা জানাই৷’’

আরও পড়ুন: কবিগুরুর শেষ প্রস্থানের দিন এলেই বিষাদ ছড়ায় শান্তিনিকেতনে

Advertisement
----
-----