স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: পূরাণ মতে বেশ মাহাত্ম্যপূর্ণ এই বিশেষ দিনটি৷ আজ তথা শনিবার রাজ্যজুড়ে শুভ রথযাত্রা পালিত হচ্ছে৷ ইস্কন থেকে হাওড়া, বারুইপুর থেকে মাহেশ৷ ধুমধামে পালিত হচ্ছে এই দিনটি৷

হাওড়ায় প্রভু জগন্নাথদেবের পূণ্য রথযাত্রা উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই উৎসবের আমেজ৷ শহরের বিভিন্ন প্রাচীন রথযাত্রার প্রস্তুতি চলছে সকাল থেকেই। বালির গোস্বামী পাড়ার প্রাচীন রথযাত্রার এই বছর ১৬৮ তম বছর। এই উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই প্রভু জগন্নাথদেবের পূজা অর্চনা শুরু করে দিয়েছিলেন গোস্বামী বাড়ির মহিলারা।

আরও পড়ুন: ক্রোয়েশিয়ার সুপার কোচের প্রিমিয়র ভবিষ্যত নিয়ে জল্পনা

এদিন সকাল সাড়ে ৯টায় রথের দড়িতে প্রথম টান দেওয়া হয়। এখানে ১২ ফুটের কাঠের রথ গোস্বামী পাড়ার রাস্তায় রাখা হয়ে থাকে। বিকেলে এলাকার সমস্ত মানুষ, গোস্বামী পরিবারের আত্মীয়-স্বজন রথের দড়িতে টান দেন। এলাকায় রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে মেলার আয়োজনও করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই প্রাচীন রথকে দেখতে ভিড় জমায় মানুষ।

অন্যদিকে, পুরীর রথের নিয়ম মেনেই ৩৫০ বছর ধরে চলছে বারুইপুরে রায়চৌধুরীদের রথ৷ বাঙালির বারো মাসের তেরো পার্বণের অন্যতম পার্বণ এই রথযাত্রা। দক্ষিণ ২৪ পরগণার অন্যতম জমিদার পরিবার বারুইপুরের রায়চৌধুরী পরিবার৷ ৩৫০ বছর ধরে তাঁরা এই রথযাত্রা পালন করে আসছেন। পুরীর রথযাত্রার প্রথা মেনে আজও এই জমিদার পরিবারের সদস্যরা রথযাত্রা পালন করে আসছেন। বারুইপুরের এই রথযাত্রায় প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়। আর এই রথ উপলক্ষেই এখানে একমাস ব্যাপী রথের মেলাও চলে।

আরও পড়ুন: বরফের ফাটলে তলিয়ে গেলেন পেম্বা শেরপা

এই বিষয়ে জমিদার পরিবারের সদস্য অমিয় কৃষ্ণ রায়চৌধুরী বলেন, “আমাদের জমিদারি নেই ঠিকই৷ কিন্তু বাঙালির যে বারো মাসে তেরো পার্বণ আছে তার সবকটিই আমরা পালন করে থাকি। আর তারই একটা হল এই রথযাত্রা। যতদিন আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে ততদিন আমরা এটিকে চালিয়ে নিয়ে যাব।’’

অন্যদিকে, হুগলির শ্রীরামপুরের রথযাত্রাও বেশ উল্লেখযোগ্য৷ মাহেশের রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে জিটি রোডের দু’ধারে মেলা বসে। এক সময় গ্রামগঞ্জ থেকে কাতারে কাতারে মানুষ মাহেশে রথের মেলা থেকে কেনাকাটা করতে আসতেন। মাহেশের জগন্নাথ মন্দির থেকে মাসির বাড়ি পর্যন্তও মেলা বসে৷ সেখানে দোকানের পাশাপাশি নাগরদোলা থেকে শুরু করে ছোটদের জন্য নানান খেলার আয়োজন থাকে। এখনও অন্তত রথের দিনে পাঁপড় ভাজা বা জিলিপিতে কামড় দেননি এমন অনেক মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। সোজা রথের নয় দিনের মাথায় হয় পুনর্যাত্রা বা উল্টো রথ।

আরও পড়ুন: আদিবাসীদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের ‘সহপৎ’

পাশাপাশি এই দিন থেকেই শুরু হয়ে যায় দেবী দূর্গার আগমন বার্তা। একদিকে এই শুভ লগ্নে মায়ের আগমনের খুঁটি পুজো করে দুর্গাপুজোর সুচনা করলেন শিলিগুড়ি সূর্যনগর ফ্রেন্স ইউনিয়ন। এবার তাদের দূর্গোৎসব ৬৪ তম বর্ষে পা রাখছে৷ এই বছরের বিশেষ আকর্ষণ ‘মধু মহল’৷ খুঁটি পূজোয় উপস্থিত ছিলেন ক্লাব সম্পাদক কৃষ্ণ চন্দ পাল ও অন্যান্য সদস্যরা৷

----
--