ছবি- প্রতীকী

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ইছাপুর রাইফেল ফ্যাক্টরি থেকে অত্যাধুনিক অস্ত্র পাচারের ঘটনায় মূল পান্ডাকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাক্স ফোর্স (এসটিএফ)৷ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে, এসটিএফের একটি দল শনিবার সকালে বিহারের লাহেরি থানার রামচন্দ্রপুরের অজন্তা সিনেমা হলের কাছ থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে৷

এসটিএফের দাবি, ধৃত রাজেশ কুমার (৩৫) ওরফে মুন্নার সঙ্গে মাওবাদীদের সরাসরি যোগাযোগ ছিল৷ ইনসাস, এসএলআরের মতো অত্যাধুনিক রাইফেল সে মাওবাদীদের সরবরাহ করত বলে অভিযোগ৷ ইছাপুর রাইফেল ফ্যাক্টরি থেকে অস্ত্র পাচারের ঘটনায় আগেই ছ’ জনকে গ্রেফতার করেছিল এসটিএফ৷ চক্রের সঙ্গে আর কে বা কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা৷

ধৃতকে রবিবার বিহারের স্থানীয় আদালতে তোলা হয়৷ সেখান থেকে তাকে নিয়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন গোয়েন্দারা৷ সোমবার তাকে কলকাতার ব্যাংকশাল কোর্টে তোলা হবে৷ এসটিএফের (ডিসি) মুরলীধর শর্মা এমনই জানিয়েছেন, ধৃত ব্যক্তি অস্ত্র পাচার চক্রের অন্যতম পান্ডা৷ সে মাওবাদীদের লিংকম্যান হিসেবে কাজ করত৷ ইছাপুর রাইফেল ফ্যাক্টরির অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র তার মাধ্যমেই পৌঁছে যেত মাওবাদীদের কাছে৷

এসটিএফ সূত্রের খবর, বেশ কয়েক বছর ধরে ইছাপুর রাইফেল ফ্যাক্টরি থেকে অস্ত্র পাচার হচ্ছিল৷ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তদন্ত নেমে গত ছয় মে বাবুঘাট এলাকা থেকে অস্ত্র সহ চার জনকে গ্রেফতার করেন গোয়েন্দারা৷ ধৃতদের মধ্যে অজয় কুমার পণ্ডিতজী ওরফে গুড্ডু ও জয় শঙ্কর পান্ডে বাড়ি বিহারের৷

অন্য দু’জন উমেশ রায়, কার্তিক সাউ ইছাপুরের বাসিন্দা৷ ধৃতদের জেরা করে পরের দিন গোয়েন্দারা ইছাপুর রাইফেল ফ্যাক্টরির জুনিয়র ওয়ার্কাস ম্যানেজার শুকদেব মুর্মু ও সুশান্ত বসুকে গ্রেফতার করে৷ সামনে আসে অস্ত্র পাচারের কাণ্ডে সর্ষের মধ্যেই ভূতের কাহিনি৷

কীভাবে অস্ত্র পাচার হত? গোয়েন্দা সূত্রের খবর, ইচ্ছাপুর রাইফেল ফ্যাক্টরির পুরোনো অস্ত্র একটি গুদামে রাখা হত৷ তার মধ্যেই অনেক অস্ত্র ব্যবহারের যোগ্য ছিল৷ সেই সব আগ্নেয়াস্ত্রের যন্ত্রাংশ খুলে তা চোরা পথে কারখানার বাইরে আনা হত৷

তার পর পণ্ডিতজী সহ ওই চার জনের মাধ্যমে তা পৌঁছে যেত মুন্নার কাছে৷ মুন্নার মাধ্যমে অত্যাধুনিক সেই আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছে যেত মাওবাদীদের অস্ত্রাগারে৷ জানা গিয়েছে, ইছাপুর রাইফেল ফ্যাক্টরি থেকে ১৬টি ইনসাস ও চারটি এসএলআর পাচার হয়েছিল৷ গোয়েন্দাদের দাবি, অস্ত্র পাচারের সংখ্যাটা আরও বেশি হতে পারে৷

ধৃতদের জেরা করে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, শুধু ইছাপুর নয়, দেশের আরও একাধিক রাইফেল ফ্যাক্টারি থেকে তাঁরা অস্ত্র পাচার করত৷ এমনকি নেপালের রাইফেল ফ্যাক্টরি থেকে বুলেটও পাচার করত তারা৷ মাওবাদী ছাড়া অন্য কোনও জঙ্গি সংগঠনে সেগুলি পাচার করা হত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা৷

----
--