৩০ মে, ১৯৯৯: বুলেটের ক্ষত গায়ে টোলোলিং-এর দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন মেজর রাজেশ

কার্গিল। নামটা শুনলে আজও গায়ে কাঁটা দেয় ভারতবাসীর। তিন মাস ধরে বরফ ঢাকা পাহাড়ে যুদ্ধ করেছিল দুই দেশ। প্রত্যেকদিন জওয়ানদের রক্তে রাঙা হয়েছিল লাদাখের এই অংশ। শত্রুদের হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়ে এসেছিল ভারত। আকাশপথেও চলেছিল আভিযান। সেই শহিদদের ঋণ আজও মনে রেখেছে দেশবাসী।

কি হয়েছিল ৩০ মে?

শত্রুদের উড়িয়ে দিতে তখন আকাশ জুড়ে অভিযান চালাচ্ছিল বায়ুসেনা। এই ৩০ মে শত্রুদের লক্ষ করে বোমা ছুঁড়েছিল বায়ুসেনার Mirage 2000 যুদ্ধবিমান। অন্যদিকে ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছিল স্থলবাহিনী। গোটা কার্গিল জুড়ে প্যাট্রলিং শুরু করে দিয়েছিল সেনাবাহিনী।

পাক সেনার সহজ পথের ঘাঁটি হয়ে উঠছিল টোলোলিং। সেই টোলোলিং থেকে শত্রুদের হঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয় মেজর রাজেশ সিং অধিকারীকে। সারা শরীরে বুলেটের ক্ষত নিয়েও থেমে থাকেননি তিনি এগিয়ে যান সেদিকে। শত্রুঘাঁটি ভারতের আয়ত্তে নিয়ে আসেন। এর ফলেই পয়েন্ট ৪৫৯০ ক্যাপচার করা সহজ হয় ভারতীয় সেনার পক্ষে। তাঁকে মরণোত্তর মহাবীর চক্র সম্মান দেওয়া হয়।

বাটালিক সেক্টরের দিকে লাদাখ স্কাউটকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন মেজর সোনম ওয়াংচুক। শত্রুদের অবস্থান চিহ্নিত করে অতর্কিতে ঘিরে ফেলেছিল তাদের। মেজর ওয়াংচুকের গুলিতে খতম হয় দুই পাক সেনা। সেদিন অসম সাহসের পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে মহাবীর চক্রে সম্মানিত করা হয় তাঁকে।

সেদিন বরফের খাড়া দেওয়া ধরে ওঠার চেষ্টা লরছিল শত্রুপক্ষ। অন্যদিকে বাটালিকের এক অত্যন্ত দুর্গম অংশে পৌঁছে যান সুবেদার ছেরিং স্তবদাং ও হাবিলদার রিগজিন সেওয়াং। সেখান থেকে খাযাই পাহাড়ে ওঠা শত্রুদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করেন তাঁরা। কোনোভাবেই আর ওই অংস দখল করতে পারেনি পাকিস্তান। দু’জনকেই বীর চক্রে সম্মানিত করা হয়।

----
-----