জানেন রামায়ণে রাম-রাবণের যুদ্ধের মূলে ছিল শূর্পণখাই?

শূর্পণখা হলেন রাবণের বোন৷ ঋষি বিশ্রভা ও তাঁর স্ত্রী কৈকেসীর কন্যা তিনি৷ তাঁকে বাল্মীকি কুৎসিত বলেই বর্ণনা করেছেন। যদিও তামিল কবি কম্বানের কাছে অবশ্য শূর্পণখাকে তিনি সুন্দরী, তন্বী, মৎস্যের মত চোখ এবং মোহময়ী বলে বর্ণণা করেছিলেন।

পিতৃসত্য পালন করতে ১৪ বছরের বনবাস মেনে নিয়ে রামচন্দ্র বনবাসে গেলে তাঁর সঙ্গী হয়েছিলেন স্ত্রী সীতা এবং ভাই লক্ষ্ণণ৷ সেই বনবাসের সময় একদিন শূর্পণখা কাম-জর্জরিত হয়ে রামকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। তখন রাম জানিয়েছিলেন, তিনি বিবাহিত, ওঁর বদলে লক্ষ্মণকে বিয়ে করতে। তখন শূর্পণখা লক্ষ্মণকে বিয়ে করতে চাইলে লক্ষ্ণণও তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেন৷ তখন শূর্পণখার মনে হয় সীতার উপস্থিতির জন্য তাঁর বিয়ের প্রস্তাব নাকচ হয়ে গিয়েছে৷

তাই তখন তিনি রেগে গিয়ে তাঁকে খেতে গেলেন। আর সেটাই তাঁর কাল হল। রামের আদেশে লক্ষ্মণ শূর্পণখার নাক ও কান কেটে দেন। তখন রক্তাক্ত শূর্পণখা প্রথমে তাঁর রক্ষক খর ও দূষণের কাছে গিয়ে নালিশ করেন৷ কিন্তু রাম লক্ষ্মণের হাতে খর ও দূষণের মৃত্যু হয়৷ এরপর শূর্পণখা রাবণকে সব বৃত্তান্ত জানিয়ে রামের সুন্দরী স্ত্রী সীতাকে হরণ করার জন্য উত্তেজিত করেন। তারপরেই সীতাহরণই এবং এরই জেরে রাম-রাবণের যুদ্ধ৷ যার পরিণতি হল রাবণের পরাজয় ও রামের সীতা উদ্ধার৷

- Advertisement -

উপরের এই ঘটনার জন্য অনেকেই মনে করেন রাম ও রাবণের যুদ্ধের মূলে ছিলেন এই শূর্পণখাই ৷ আবার কথিত আছে রাবণের হাতেই শূর্পণখার স্বামীর মৃত্যু হয়েছিল বলেই পরবর্তীকালে প্রতিশোধ নিতে রাবণ-নিধনের এক সুদূর-প্রসারী পরিকল্পনা করেই এমনটা ঘটিয়েছিলেন এই নারী ৷ যদিও নিতান্ত ঘটনাচক্রে এমনটা ঘটেছিল বলে অনেকে মনে করেন৷

Advertisement ---
---
-----