১৬ বছরে সুপ্রিম-নির্দেশ কার্যকর, কলকাতা হাইকোর্টে কর্মবিরতি বেআইনি

স্নেহাশিস চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: আইনজীবীদের বার বার কর্মবিরতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বলবৎ করতে কলকাতা হাইকোর্টের সময় লাগল ১৬ বছর।

এ রাজ্যের শীর্ষ আদালতে বাড়ছে মামলার চাপ। তারই মাঝে সম্প্রতি ৬৯ দিনের কর্মবিরতি চলেছিল বিচারপতি নিয়োগ সহ অন্যান্য কয়েকটি দাবির ভিত্তিতে। যে কারণে বেশ সমস্যায় পড়েছিলেন মামলাকারীরা। এখানেই শেষ নয়। আইনজীবী অথবা প্রাক্তন বিচারপতির মৃত্যুতেও কর্মবিরতিতে শামিল হন আইনজীবীরা।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কবে কী কী কারণে আইনজীবীরা কর্মবিরতি করেছিলেন। অতি গরমে আইনজীবীদের কর্মবিরতি। বিচারপতি গিরিশ গুপ্তর এজলাস বয়কট। বিচারপতি সি এস কারনানের এজলাস বয়কট। বিচারপতি বারীন ঘোষের এজলাস বয়কট করেন আইনজীবীরা। কলকাতা হাইকোর্ট বছরে ২১০ দিন খোলা রাখার কথা থাকলেও অনেক সময় তা হয় না।

- Advertisement DFP -

বার বার হাইকোর্ট এবং নিম্ন আদালতগুলিতে কর্মবিরতির জেরে দিনের পর দিন মামলা ঝুলে থাকে। আর, এই নিয়েই ২০০২-এ সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন ক্যাপ্টেন হরিশ উৎপল। তাঁর এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট দেশের সমস্ত হাইকোর্টকে বিধি প্রনয়নের জন্য নির্দেশ দেয়। সেখানে বলা হয় আইনজীবীদের কর্মবিরতি বেআইনি। অ্যাডভোকেট অ্যাক্ট ৩৪ (১) ধারা না মানলে প্রফেশনাল মিস কনডাক্ট হবে।

কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী শ্রীকান্ত দত্ত আরটিআইয়ের মাধ্যমে জানতে পারেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে কোনও আইনবিধি প্রনয়ন করেনি কলকাতা হাইকোর্ট। তাই ২০১৫-তে কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুর এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন আইনজীবী অক্ষয়কুমার সারেঙ্গি। সুপ্রিম কোর্টের সেই নির্দেশ কার্যকরের জন্য । বেঞ্চ হাইকোর্টের তিনটি আইনজীবী সংগঠনকে নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। পরবর্তী সময় তিনটি বারের সদস্যরা মামলায় হাজির হয়ে নিজেদের বক্তব্য জানান ।

গত চার নভেম্বর ২০১৬-তে বিচারপতি গিরিশ গুপ্ত এবং বিচারপতি অরিন্দম সিনহা হাইকোর্টের প্রশাসনকে নির্দেশ দেন তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকরের জন্য। তা সত্ত্বেও কার্যকর হয়ে ওঠেনি। গত তিন বছর মামলা চলার পর মঙ্গলবার, ১৫ মে হাইকোর্ট প্রশাসন পক্ষের আইনজীবী সিদ্ধার্থ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্যর ডিভিশন বেঞ্চে জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর হয়েছে। এবং ফুল কোর্টে তা পাশ হয়ে যাবে ।

Advertisement
----
-----