ব্রিগেড উপলক্ষ্যে অঘোষিত পরিবহণ ধর্মঘটের চেহারা বাঁকুড়ায়

স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: শাসক দলের ব্রিগেড সমাবেশের কারণে ‘অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘটে’র চেহারা নিল বাঁকুড়া। রাস্তায় যাত্রীবাহি বাস নেই বললেই চলে। চরম সমস্যায় পড়ছেন নিত্যযাত্রী থেকে সাধারণ মানুষ।

অধিকাংশ বেসরকারি বাস তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের নিয়ে শুক্রবার রাতেই কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। ফলে এদিন সকাল থেকে হয়রানির শিকার হচ্ছেন মানুষ। বাঁকুড়া গোবিন্দনগর বাসস্ট্যাণ্ডের অন্য দিনের চেনা ছবিটা সকাল থেকেই উধাও। ব্যস্ততা নেই বাসকর্মীদের। আর এই সুযোগটা কাজে লাগাচ্ছে ছোটো গাড়ি গুলি। অন্যান্য দিনের চেয়ে আজ অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করা হচ্ছে বলে যাত্রীদের একাংশের অভিযোগ।

আরও পড়ুন : এবার মমতার ব্রিগেড মঞ্চে ‘শিরদাঁড়া’ খ্যাত কবি শ্রীজাত

দক্ষিণ বাঁকুড়ার বিভিন্ন রুট গুলিতেও এদিন কোন বাস চলছেনা বললেই চলে। সকাল থেকে খাতড়ায় বসে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রণব ধর। তিনি বলেন, একটি লরিতে চেপে সকালে এসে এখানে নেমেছি। মেয়ের বাড়ি ইন্দপুর এলাকায় যাবো। বাস পাইনি। জামাইকে ফোন করেছি। মোটরবাইকে জামাই এলে তবেই যেতে পারব।

একই অভিজ্ঞতার কথা শোনান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রাজ্য সরকারি কর্মচারীও। তিনি বলেন, অন্যদিন বাসেই অফিস যাতায়াত করি। রাস্তায় বাস নেই, অগত্যা বাইক নিয়েই বেরোতে বাধ্য হয়েছি। তিনি আরো বলেন, বিরোধীরা বনধ ডাকলে বেতন কাটার হুঁশিয়ারী দেওয়া হয়। শাসক দলের সৌজন্যে অঘোষিত এই পরিবহন ধর্মঘটে যে সব সরকারী কর্মচারী, শিক্ষক ঠিক ঠাক কর্মক্ষেত্রে পৌঁছাতেই পারলেননা তার কি হবে বলেও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

এদিন এর মধ্যেও যে ক’টি বাস রাস্তায় নেমেছে তাতেও বাদুড় ঝোলা ভীড়। একপ্রকার প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই মানুষ সেইসব বাস গুলিতে চেপে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফে’র প্রচার যে কোন কাজেই লাগছেনা তা একপ্রকার নিশ্চিত করেই বলা যায়।