ছাত্র সংঘর্ষে উত্তপ্ত দুই জেলা

প্রতীকী ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক ও বারাকপুর: ক্রমেই বেড়ে চলেছে কলেজে কলেজে ছাত্র সংঘর্ষ৷ ছাত্র পরিষদের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ক্রমেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে৷ বুধবার একদিকে কোলাঘাট আর অন্যদিকে বারাসাত কলেজ ছাত্র সংঘর্ষের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল৷

ছাত্র-সংসদ কোন গোষ্ঠীর দখলে থাকবে এই নিয়েই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়ায় কোলাঘাটে। কোলাঘাট ইউনিয়ন হাইস্কুলের মধ্যে সকালে ক্লাস চলে রবীন্দ্র ভারতী মহাবিদ্যালয়ের। প্রথম থেকেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দখলে ছাত্র সংসদটি। তবে বর্তমানে কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে রয়েছেন জয়প্রকাশ সিং। এই কলেজের ছাত্র সংসদ দখল করার জন্য বেশ কিছু দিন ধরে কিছু বহিরাগতদের আনাগোনা দেখা যায় বলে অভিযোগ।

এই বহিরাগতরা তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় কর্মী বলে দাবিও করা হয়৷ তবে তারা কেউই কলেজের ছাত্র নয় বলে অভিযোগ করেন কলেজের সাধারণ সম্পাদক জয়প্রকাশ সিং। বুধবার সকাল থেকেই কলেজ চত্বরে দু’পক্ষের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। পুলিশ সূত্রের খবর, এদিন দু’পক্ষের নেতৃত্বের মধ্যে সমস্যার সমাধান করার কথাও হয়। কিন্তু অভিযোগ, এদিন ছাত্র সংসদের বেশ কয়েকজন নেতৃত্ব কোলাঘাট বীট হাউস থানা থেকে ফেরার সময় হঠাৎই রাস্তার ওপর লাঠি দিয়ে ব্যাপক মারধর চালায় বেশ কয়েকজন বহিরাগত৷ সেখানে ছিলেন ব্লক তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি প্রসেনজিৎ দে, ব্লক ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক রাম ছাড়াও ছিল নিলাদ্রি সামন্ত, সর্বাত্য ভৌমিক প্রমুখ।

- Advertisement -

তবে এই ঘটনায় দু’জন বহিরাগতদের ধরে ফেলে কোলাঘাটের ব্যবসায়ীরা। এরা হলেন নাসিউর রহমন, বাবুল মুস্তাক। ব্যবসায়ীরা এদের পাকড়াও করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে ওই দু’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ এদিকে এই ঘটনায় আহতদের প্রথমে কোলাঘাট ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভরতি করা হয়। সেখানে দু’জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দিলেও বাকি দু’জন প্রসেনজিৎ দে ও কার্তিক রামের আঘাত গুরুতর থাকায় তাদের এখনও ছাড়া হয়নি৷ তবে কোলাঘাটের বুকে দিনে দুপুরে এমন ঘটনা দেখে তাজ্যপ কোলাঘাট-বাসী। একেবারে নজিরবিহীন ঘটনা বলে জানালেন কোলাঘাটের ব্যবসায়ী অসিত সাহা। তিনি জানান, কোলাঘাট শান্তিপ্রিয় এলাকা। সবাই শান্তি ভাবে এখানে পড়াশোনা করুক এটাই চায় কোলাঘাট-বাসী। কোনভাবেই কোলাঘাট অশান্ত করতে দেওয়া যাবে না। এতে ছেলেমেয়েদের কলেজে পাঠাতেই ভয় পাবে অভিভাবকেরা।

পাশাপাশি, একই দিনে বারাসত কলেজে ফের উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়৷ কলেজের বাইরের দু’দল ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধলে সেই ঘটনা কলেজের মধ্যে চলে আসে। এদিকে কলেজের নিরাপত্তারক্ষী গোবিন্দ বিশ্বাস সংঘর্ষে জড়িত ওই ছাত্রদের কলেজের ভিতরে ঢুকতে বাঁধা দিলে অভিযুক্ত ছাত্ররা সদলবলে গোবিন্দবাবুর উপর চড়াও হয়৷ অভিযোগ, তাঁর জামা ছিঁড়ে দেয় এমনকি তাঁকে কিল-চড়-ঘুষিও মারতে থাকে ক্রমাগত। কলেজের অন্যান্য কর্মীরা কলেজ গেটে এই দৃশ্য দেখে গোবিন্দবাবুকে বাঁচাতে যায়। তখন ওই ছাত্ররা কলেজের এক মহিলা কর্মীকেও মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে।

সেই সময় কলেজের কর্মীদের হাতে ধরা পড়ে যায় অভিযুক্ত আকাশ বসু এবং শুভঙ্কর আলি। তারা এই বারাসত কলেজেরই দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র বলে জানা গিয়েছে। ওই দুই অভিযুক্ত ছাত্রকে পরে বারাসত থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। এই প্রসঙ্গে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম দাস বলেন, ‘‘সংঘর্ষে জড়িত অভিযুক্ত ছাত্রদের বিরুদ্ধে কলেজ কর্তৃপক্ষ কঠোর সিদ্ধান্ত নেবে৷ পাশাপাশি পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এই ঘটনার জেরে বারাসত কলেজ চত্বরে পুলিশ পিকেট বসানো হয়।’’ ইতিমধ্যেই বারাসত থানার পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

Advertisement ---
-----