ছাত্র কাউন্সিল নয় ইউনিয়ন, দাবিতে অটল এসএফআই, সিপি, ডিএসও

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ছাত্র সংগঠনগুলির মতামত জানতে কিচুদিন আগে তাদের তলব করেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ বুধবার সেই বৈঠকে গিয়েছিল সংগঠনগুলি৷ তবে কাউন্সিল নয়, স্টুডেন্ট ইউনিয়নের দাবিতে অটল রইল অল ইন্ডিয়া ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্ট অর্গ্যানাইজেশন (ডিএসও), স্টুডেন্ট ফেডারেসন অফ ইন্ডিয়া (এসএফআই) ও ছাত্র পরিষদ (সিপি)৷

বুধবার বিধানসভায় এই তিনটি ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে পৃথক ভাবে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী৷ মূলত মতামত ভিত্তিক এই বৈঠকে শিক্ষাক্ষেত্রের কয়েকটি বিষয়ে সংগঠনগুলির মতামত চান পার্থ৷ এই বিষয়গুলির মধ্যে প্রধান কয়েকটি বিষয় ছিল সিবিসিএস পরীক্ষা ব্যবস্থা ও ছাত্র কাউন্সিল৷

ছাত্র কাউন্সিলে কিছু রদবদলের কথা এদিন সংগঠনগুলির কাছে তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী৷ কিন্তু সেই রদবদলগুলিও ছাত্র স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে জানায় সংগঠনগুলি৷ আর সেই দাবিতে ছাত্র কাউন্সিলে বিরোধীতা করে তারা৷ এই সংগঠনগুলির মধ্যে প্রত্যেককে যেমন বিষয় কেন্দ্রিক মতামত প্রদান করা হয়েচিল পাশাপাশি প্রত্যেক সংগঠন নিজস্ব মতামত প্রদানও করেছে৷

- Advertisement -

ডিএসও সংগঠনের সঙ্গে সিবিসিএস ছাত্র কাউন্সিল ও অনলাইন অ্যাডমিশনের বিষয় মতামত চাওয়া হয়৷ ডিএসও-র তরফ তেকে আলাদা করে প্রথম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পাশ-ফেল চালু করার কতা বলা হয়েছে৷ এমনকি অনলাইন অ্যাডমিশনের ব্যাপারেও ডিএসও-র বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তারা স্পষ্ট জানায় মফস্বল জেলাগুলিতে অনলাইন আবশ্যক করা হলে তা ছাত্রছাত্রীদের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে৷ ফলে অনলাইনের পাশাপাশি ম্যানুয়াল পদ্ধতিও চালু রাখা উচিত৷

পাশাপাশি ছাত্র কাউন্সিল নিয়ে ডিএসও রাজ্য সভাপতি বলেছেন,‘‘ দুর্নীতি বন্ধের জন্য এত টেকনিক পরিবর্তন করলেই দুর্নীতি বন্ধ হয় না৷ তাই দুর্নীতি বন্ধের জন্য সরকারকে অন্য পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে৷’’ এই একই বিষয় নিয়ে সিপি-র বক্তব্য দু’বচরের পরে পরে একবছরেই নির্বাচন হোক৷ কারণ তৃতীয় বর্ষের কোনও ছাত্র যদি সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়, আর কলেজে পরীক্ষার পর যদি সে কলেজ থেকে বেড়িয়ে যায় সেক্ষেত্রে কি হবে?

প্রসঙ্গত, সিপি দাবি করে, ছাত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকার যেন একটি সেল্ফ রেগুলেটরি বডি তৈরি করে৷ যাতে তারা একসঙ্গে সব কলেজে ছাত্র নির্বাচন পরিচালনা করতে পারে৷ পাশাপাশি অনলাইন মনোনয়নের কথাও বলা হয়৷ এই একই প্রসঙ্গে এসএফআই বলেছে, রাজ্যে সিবিসিএস প্রক্রিয়া চালু করতে উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই৷

এই বিষয় একটু বিশেষ ভাবে ভাবনা চিন্তা করে যেন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ সঙ্গে তারা আরও বলেন, স্কুল কেলেজে যে ভাবে ফি বৃদ্ধি করা হচ্ছে তা একেবারেই কাম্য নয়৷ এই লাগামছাড়া ফি বৃদ্ধিতে রাশ টানতে হবে৷ এছাড়াও, কলেজে কলেজে যে সেল্ফ ফাইনান্সিং কোর্স প্রক্রিয়া চালু রয়েছে সেগুলি সরকারি অনুমোদিত নয়৷ এতে খরচাও প্রায় দ্বিগুণ৷ এদিকটাও ভেবে দেখা উচিত৷

তবে এসএফআই-এর সবথেকে বড় দাবি একটাই, এনবিএসটিসি এবং এসবিএসটিসি পরিবহণে পড়ুয়াদের থেকে অর্ধেক ভাড়া নিতে হবে৷ পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে নিয়মিত সরকারি অনুদানের অভাবে সিংহভাগ আদিবাসী হোস্টেল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে৷ ফলে প্রান্তিক ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষাকেন্দ্র থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়ছে৷ এদিকেও যাতে একটু দৃষ্টিনিপাত করা হয় সেই বিষয়েও সরব হয়েছে এসএফআই সংগঠন৷

তবে শিক্ষামন্ত্রীর প্রশ্নের উত্তর মিললেও এই সংগঠনগুলি আলাদা ভাবে নিজেদের দাবি জানিয়েছিল পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে৷ সেই বিষয়গুলিও যাতে খতিয়ে দেখা হয় আর্জি জানিয়েছে সবকটি সংগঠন৷

Advertisement ---
---
-----