তরুণ-তনয়ের কাছে প্রদেশ নেতৃত্বের মুখ পোড়াল ছাত্ররা

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসকে চাঙ্গা করতে দিন দুয়েকের জন্য কলকাতায় রয়েছেন অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির (এআইসিসি) নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত গৌরব গগৈ৷ মঙ্গলবার অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ-এর ছেলের কাছে প্রদেশ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিল ছাত্র পরিষদের একটি বড় অংশ৷ রাহুল গান্ধীর দূতের কাছে দলের তরুণ প্রজন্মের এই অনুযোগ-অভিযোগ প্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের মুখ পোড়াল বলেই মনে করছেন দলেরই একাংশ৷

বেশ কয়েক বছর ধরেই প্রদেশ কংগ্রেস সংগঠনের ভিত পশ্চিমবঙ্গে আলগা হচ্ছে৷ এআইসিসি ইনচার্জ হিসাবে সেটা প্রথম সফরেই টের পেলেন গৌরব৷ বিধানভবনে দু’ দিনের বৈঠকে তাঁর কাছে প্রদেশ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ল৷ সোমবার উত্তর ও মধ্য কলকাতা জেলা নেতৃত্ব গৌরব গগৈ-এর কাছে কোনও রাখঢাক না করেই অধীর চৌধুরীকে প্রদেশ সভাপতির পদ থেকে সরানোর দাবি জানায়৷ মঙ্গলবার দলের ছাত্র সংগঠন সরাসরি সে কথা না বললেও নতুন ইনচার্জকে বুঝিয়ে দিল, দলের মূল সাংগঠনিক নেতাদের কাজকর্মে তারা হতাশ৷ ছাত্র সংগঠনের একটা বড় অংশের দাবি, প্রদেশ নেতৃত্বের কোনও সহযোগিতা না পেয়েই শাসকদলের সঙ্গে টক্কর দিতে নেমে তারা ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে৷

কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস হওয়ার আগে পর্যন্ত উত্তর ও মধ্য কলকাতায় কংগ্রেসের সাংগঠনিক ভিত গড়ে তোলার মূল কারিগর ছিলেন অজিত পাঁজা এবং সোমেন মিত্র অর্থাৎ ‘ছোড়দা’৷ সেই সময় ছোড়দা-র সঙ্গে ছিলেন একাধিক সেনাপতি৷ যেমন, তাপস রায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রদীপ ঘোষ প্রমুখ৷ মূলত এঁদের দাপটেই সিপিএম পরিচালিত বাম আমলে এসএফআই উত্তর ও মধ্য কলকাতায় তেমন পাত্তা পেত না৷ আর পশ্চিম কলকাতায় তখন দাপট ছিল সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের৷ কিন্তু সেই দিন এখন গতাসু৷

- Advertisement -

আর সেই কারণেই উত্তর ও মধ্য কলকাতার ছাত্র পরিষদ এখন কার্যত উবে গিয়েছে৷ সেই সাংগঠনিক দুর্বলতা সম্পর্কেই হাইকমান্ডের প্রতিনিধি গৌরব গগৈ-এর কাছে একগুচ্ছ অভিযোগ দাখিল করলেন ছাত্র পরিষদের তরুণতর নেতৃবৃন্দ৷

ছাত্র পরিষদের সহ সভাপতি সোমদীপ ঘোষের বক্তব্য, ‘‘গত পাঁচ বছর ধরে প্রদেশ নেতৃত্ব অভিভাবকের মতো আচরণ করছে না৷ তাদের থেকে কোনও সহযোগিতা পাইনি৷ সেই কারণে অনেক কলেজে ছাত্র সংসদ আমাদের হাতছাডা় হয়ে গিয়েছে৷ নেতৃত্ব তখন আমাদের দেখেনি৷ কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে আমাদের হেনস্তা হতে হয়েছে৷ বাম আমলের মতোই শাসক দল এবং পুলিশ প্রশাসন আমাদের লাঞ্ছিত করেছে৷ গৌরবজিকে বলেছি আমাদের জন্যও আলাদাভাবে একজন ইনচার্জ নিযুক্ত করতে৷ যাঁর সঙ্গে ছাত্র রাজনীতির ব্যাপারে আমরা কথা বলতে পারব এবং আমাদের অভাব-অভিযোগগুলি জানাতে পারব৷ কোনও সমস্যায় পড়লে যাঁর কাছে আমরা ছুটে যেতে পারব৷ ’’

বিশেষ সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ছাত্রদের অভিযোগ শোনার পর গৌরব গগৈ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ মুর্শিদাবাদের বিধায়ক আক্রুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলেন এবং তরুণ প্রজন্মকে অক্সিজেন দেওয়ার পরামর্শ দেন৷

Advertisement
---