নয়াদিল্লি:  কখনও শুধু প্রাথমিক পর্যন্ত পড়ে আবার কখনও শুধু মাধ্যমিক দিয়েই শেষ। এমন ভুড়ি ভুড়ি উদাহারণ রয়েছে। এমন ঘটনা মাঝে মধ্যেই ঘটে। শুধু বাংলাতেই নয়, গোটা দেশেই এই সমস্যা রয়েছে। যদিও স্কুলছুট রুখতে সরকারি নানা প্রকল্পও রয়েছে। তবুও তা সম্পূর্ণভাবে রোখা যায়নি। কিন্তু কেন পড়ুয়ারা মাঝপথে স্কুল ছেড়ে দিচ্ছে, তা অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে একাধিক কারণ। যার মধ্যে পড়াশোনায় আগ্রহ না থাকাকেই বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ন্যাশনাল স্যাম্পেল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, ৩৯.৪০ শতাংশ পড়ুয়া পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ না থাকায় মাঝপথেই স্কুল ছেড়ে দিয়েছে। আর এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে সবপক্ষই।

বাংলা এক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর মোতাবেক, মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের এডুকেশন স্ট্যাটিসটিক্স রিপোর্ট বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে স্কুলছুটের জন্য মোট ন’টি কারণকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যার মধ্যে পারিবারিক আর্থিক সঙ্কট, গৃহকাজে নিযুক্ত হয়ে পড়া, পারিবারের মুখে দু’মুঠো খাবার তুলে দেওয়ার জন্য কাজে যুক্ত হওয়া, বাল্যবিবাহ ইত্যাদি রয়েছে। পড়াশোনায় আগ্রহ না থাকাকেই অন্যতম প্রধান কারণ বলা হচ্ছে। তবে এই আগ্রহ না থাকা অবশ্য ছেলেদের মধ্যেই বেশি।

রিপোর্ট বলছে, ২৩.৮০% ছাত্র এবং ১৫.৬০% ছাত্রী পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে না। যদিও বাল্যবিবাহের হার ছাত্রীদের মধ্যেই বেশি। এই কারণে প্রায় ১৪ শতাংশ মেয়ে মাঝপথেই স্কুল ছেড়ে দিচ্ছে। আবার ছোট-খাট কাজকর্মে ঢুকে পড়ছে, এমন পড়ুয়ার সংখ্যাও অনেক। শতাংশের নিরিখে ৩১ শতাংশ ছেলে স্কুল ছেড়ে কাজে যোগ দিচ্ছে। তাছাড়া আর্থিক সঙ্কটও একটা বড় কারণ। প্রায় ৩৯ শতাংশ ছাত্রছাত্রী অর্থের অভাবে বেশি দূর পড়তে পারে না।

তবে সমীক্ষা চালাতে গিয়ে যে বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণভাবে উঠে এসেছে, তা হল স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষিকা না থাকার কারণে অনেকে স্কুল ছেড়ে দিয়েছে। এই প্রবণতা বেশি দেখা গিয়েছে ছাত্রীদের মধ্যে। দেশে পুরুষ শিক্ষকের তুলনায় মহিলা শিক্ষকের হার বেশ কমই।

----
--