স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া: স্নাতকস্তরের প্রথম বর্ষে ছাত্র ভর্তি নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বেনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ অব্যাহত হাওড়ার শিবপুর দীনবন্ধু কলেজে। একই ইস্যুতে মঙ্গলবার রাতেও লাগাতার বিক্ষোভ ও অবরোধ করেছিলেন প্রথম বর্ষে ভর্তি না হতে পারা ছাত্রছাত্রীরা।

কিন্তু সমস্যা না মেটায় বুধবার দুপুর থেকে ফের বিক্ষোভে সামিল হন তাঁরা। জি টি রোডের উপর বসে পড়ে চলতে থাকে বিক্ষোভ। কয়েকটি সাইকেলকে রাস্তার ওপর আড়াআড়িভাবে ফেলে দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় জিটিরোড।

আরও পড়ুন: খালেদা জিয়ার ব্রিটিশ আইনজীবীর ভারতে প্রবেশ নিষেধ

বিক্ষোভ চলাকালীন এক ছাত্র ব্লেড দিয়ে হাত চিরে কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। কয়েকশো ছাত্রছাত্রীর স্লোগান ও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা কলেজ চত্বর। তবে কলেজের পঠন-পাঠন অন্যান্য দিনের মতোই বুধবার স্বাভাবিক ছিল।

এদিন কলেজের ভারপ্রাপ্ত টিচার ইনচার্জ থেকে শুরু করে ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা গরহাজির ছিলেন। যেসব ছাত্রছাত্রীরা কাউন্সেলিং এর পরেও স্নাতকে ভর্তি হতে পারেননি, তাঁরাই কলেজের বাইরে আন্দোলন শুরু করে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন। এঁদের অভিযোগ, কাউন্সেলিং-এর পর মেধা তালিকায় নিচের দিকে থাকা অনেক ছাত্রছাত্রীকে মোটা টাকার বিনিময়ে ভর্তির সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। এর জন্য ইউনিয়নের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন: অমিতাভ-অভিষেকের ওয়ার্ল্ড কাপ নেশা

আরও অভিযোগ, এক সাইবার ক্যাফের মালিকের সঙ্গে যোগসাজোশ করে মোটা টাকার বিনিময়ে অনেককে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের কাউন্সেলিং এর পর প্রাপ্ত নম্বর মেধা তালিকায় অনেক নিচের দিকে রয়েছে। যদিও কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং ইউনিয়ন উভয় পক্ষই ছাত্র-ছাত্রীদের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কলেজের ছাত্র রাজ সিং বলেন, ‘‘ছাত্র ভর্তি নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ টালবাহানা করছে। মোটা টাকার বিনিময়ে অনেক কম নম্বর পাওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি করে নেওয়া হচ্ছে। এসব আমরা মানব না। প্রত্যেককেই ভর্তি নিতে হবে।’’

রাজেন্দ্র রাম নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘‘আমরা চাই কাউন্সিলিংয়ের মেরিট লিস্টে যতজনের নাম আছে, যেন প্রত্যেককে কলেজে পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়। কলেজে ভর্তি নেওয়া হয়। আমরা বাধ্য হয়েই আজকে রাস্তায় নেমে অবরোধ করছি। এই আন্দোলন করতে গিয়ে অনেক ছাত্রছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ছে। যতক্ষণ না আমাদের দাবি মানা হচ্ছে ততক্ষণ আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’’

আরও পড়ুন: ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া

এদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে ফিনান্সিয়াল অফিসার শিবদাস কর্মকার জানান, গতবারও একই সমস্যা হয়েছিল। এবারও তা-ই হয়েছে। বহিরাগতরা এতে ইন্ধন যোগাচ্ছে। এর পিছনে বাইরের ছাত্ররা যেমন আছে সেরকম অভিভাবকরাও আছে। সবসময় কলেজ কর্তৃপক্ষকে আক্রমণ করা এটা ঠিক না। মেরিট লিস্ট অনুযায়ী কলেজে ছাত্র ভর্তি করানো হচ্ছে। কোনওরকম অনিয়ম হচ্ছে না এবং টাকার বিনিময়ে কাউকে ভর্তি করা হচ্ছে না।

এদিন কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে দাবি করা হয়েছে, ছাত্র-ছাত্রীদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে। এগুলো তারা ঠিক বলছে না। অনলাইনে ছাত্র ভর্তি প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে করা হচ্ছে। এখানে কোনও রকম অনিয়ম হয়নি।

আরও পড়ুন: শেষকৃত্যের আগে প্রাণ ফিরল মৃতের শরীরে, তারপর…

---