স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: ছাত্রের মৃতদেহ ঘিরে দানা বাঁধছে রহস্য৷ জলপাইগুড়ি শহরের কদমতলা মোড় সংলগ্ন একটি হোটেল থেকে উদ্ধার হয় ছাত্রের দেহ৷ মৃতের নাম শারজাদ আলি (২০)৷ বাড়ি ধূপগুড়ি শাল বাড়ি এলাকায়। এস আই টি-র ছাত্র ছিল সে। হোটেলের ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে সুইসাইড নোটও৷

গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়৷ স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শারজাদের শাল বাড়ি গ্রামেরই একটি মেয়ের সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। তবে এই বিষয়টি তার পরিবার মেনে নেয়নি। স্থানীয়দের দাবি, মেয়েটির ১৮ বছর হলেও বিয়ে দিতে রাজি হয়নি শারজাদের পরিবার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক অশান্তি শুরু হয়। অভিযোগ, অশান্তির জেরেই সোমবার শারজাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।

পড়ুন:দিঘা উপকূলে আছড়ে পড়ল শক্তিশালী সুনামি!

এই খবর বন্ধুদের কানে পৌঁছলে তারাও খোঁজখবর নেওয়া শুরু করে। অভিযোগ, শারজাদ বন্ধুদের কোনও সময় মালদহ তো কখনও আবার আলিপুরের ঠিকানা দেয়। এদিকে মোবাইল ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শারজাদ ‘৫ তারিখ শেষ দিন’ বলে ম্যাসেজ পোস্ট করে৷ এই বিষয়টি নজরে আসে বন্ধুদের। এরপরেই শারজাদের দুই বন্ধু অহিদুল ইসলাম ও জিয়াউল হক বুধবার ধূপগুড়ি থেকে মালদহের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়৷ কিন্তু ঠিক সেই সময়ই ওই দুই বন্ধু জানতে পারে জলপাইগুড়ির কোনও একটি হোটেলে রয়েছে শারজাদ।

এরপর বন্ধুর ছবি নিয়ে বেশ কয়েকটা হোটেলে খোঁজও চালায় তারা। শেষে কদমতলার একটি হোটেলে ছবি দেখানোর পর জানতে পারে এই হোটেলের একটি ঘরে রয়েছে সে। তবে সেই ঘরে গিয়ে ডাকাডাকি করা হলেও শারজাদের কোনও সাড়াশব্দ মেলে না বলে অভিযোগ৷ এরপর হোটেলের কর্মীদের চেষ্টায় জানালা দিয়ে দেখা যায় গলায় ফাঁস অবস্থায় ঝুলে রয়েছে শারজাদ। থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে মৃত দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। পাশাপাশি পুলিশের পক্ষ থেকে মৃত ছাত্রের পরিবারকেও খবর দেওয়া হয়৷

ওই হোটেলের এক কর্মী বলেন, ‘‘এই ঘটনা দেখা মাত্রই পুলিশকে খবর দিয়েছি। চলতি মাসের তিন তারিখ নিজেকে ছাত্রের পরিচয় দিয়ে আমাদের হোটেল বুক করে। এক দিনের ভাড়াও দেয় সে। বুধবার সকালে এ অবস্থা।’’কোতোয়ালী থানায় পুলিশ আধিকারিক হরিনন্দন দাস বলেন, ‘‘আমরা খবর পেয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। তবে ঠিক কী কারণে এই ঘটনা সেই বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’’সঠিক তদন্তের দাবি মৃতের পরিবারের৷

----
--