শেখর দুবে, কলকাতা: নজরুল হক, অঙ্কুশ মন্ডলরা অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসের সামনে গত সাতদিন ধরে আন্দোলন করছে। এরা প্রত্যেকেই মালদার গনিখান চৌধুরী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির ছাত্র। ৬ বছর পড়াশুনো করার পর হঠাৎ করে যারা জানতে পেরেছে রীতিমত পরিশ্রম করে পাওয়া ওদের ডিপ্লোমা এবং ডিগ্রির সার্টিফিকেটগুলি আসলে জাল। প্রায় ৮০০ ছাত্রছাত্রীর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন হঠাৎ করে অন্ধকারে।

আরও পড়ুন- সালিশিসভায় কুপিয়ে খুনের চেষ্টা

Advertisement

কিছুটা একই গল্প বিড়লার ইন্সটিটিউট অফ আর্ট অ্যান্ড কালচারের অধীনের একটি কলেজ স্বর সঙ্গমের। যেখানের প্রায় ১৫০ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ কী সেটার জবাব দিচ্ছেন না কলেজ কর্তৃপক্ষ। স্বর সঙ্গমের ছাত্রছাত্রীরা বুধবার অ্যাকাদেমি অফ ফাইন আর্টসের সামনে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ করেন এবং ভবিষ্যৎ-এ গনিখান চৌধুরী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে একত্রে আন্দোলন করার কথা বলেন তমাল সেনগুপ্তরা।

আন্দোলনকারী তমাল কলকাতা২৪x৭-কে বলেন “প্রশাসনকে জানিয়ে কোনও লাভ হয়নি। এটি বেসরকারি কলেজের বিষয় বলে দায় এড়িয়েছেন তারা।” পাশাপাশি তিনি বলেন রাজ্যপাল কিংবা মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েও কোনও তরফ থেকে মেলেনি কোন রকম সহায়তা।

২০১০ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের(UPA-2) অনুমোদনের ভিত্তিতে এই কলেজ স্থাপিত হয়। ২০১২ সালে কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনে আসেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট সোনিয়া গান্ধি এবং কেন্দ্রের উচ্চশিক্ষা দফতরের মন্ত্রী। স্বাভাবিকভাবেই এই কলেজের অনুমোদন নিয়ে ছাত্রছাত্রী কিংবা তাদের পরিবারের কোনরকম সন্দেহ হয়নি। বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে কলেজের ২ বছরের সার্টিফিকেট কোর্স, ২ বছরের ডিপ্লোমা কোর্স এবং তারপর ২ বছরের বিটেক কোর্সে ভর্তি হন অনেকে।

সমস্যার শুরু প্রথম ব্যাচ বিটেকের ছাত্রছাত্রীরা পাশ করার পর। ছাত্রছাত্রীরা সার্টিফিকেট দাবি করলে কোনরকম সার্টিফিকেট দিতে পারেননি কলেজ কর্তৃপক্ষ। তখন সবার সামনে আসে যে কোনরকম সার্টিফিকেট দেওয়ার অনুমোদন নেই কলেজের। ছ’বছর ধরে পড়াশুনোর পর মালদার গনিখান চৌধুরী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির ছাত্রছাত্রীরা কার্যত প্রতারণার স্বীকার হন। ততদিনে কলেজের শুরুর সময়কার মেন্টর ইন্সটিটিউট দুর্গাপুর এনআইটি জানিয়ে দিয়েছে তারা পারবে না অনুমোদন দিতে। ১ বছরের জন্য অনুমোদন দিয়েও তা তুলে নিয়েছে রাজ্য সরকার।

২০১৬ সালে ২ বছরের ডিপ্লোমা কোর্সের আরও কিছু ছেলেমেয়ে পাশ করেন। তাঁদের সার্টিফিকেটও দেওয়া হয়। কিন্তু সার্টিফিকেট পাওয়া ছাত্ররা বুঝতেই পারছেন না এটা কিসের সার্টিফিকেট! অ্যাকাদেমি অফ ফাইন আর্টসের সামনে আন্দোলনরত ছাত্রদের একজন অঙ্কুশ মন্ডল নিজের ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট Kolkata24x7-কে দেখিয়ে বলেন, “আমরা বুঝতে পারছি না এটা কিসের সার্টিফিকেট। কলেজও আমাদের বলছে না এটা আইটিআই, নাকি ভোকেশনাল কিসের সার্টিফিকেট। এই সার্টিফিকেট নিয়ে কোন জায়গাতে ভর্তি হওয়া যাচ্ছে না। যে দু’একটি কলেজ যদিও বা ভর্তি নিচ্ছে তারা লিখিয়ে নিচ্ছে পরে কোন প্রশ্ন উঠলে তারা দায় নেবে না।”

মালদার গনিখান চৌধুরী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানালেন, “ওই সার্টিফিকেট না ডিপ্লোমা, না আইটিআই কিংবা ভোকেশনালও নয়। ২+২+২ এই প্যাটার্ন নিতান্তই মালদার গনিখান চৌধুরী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির নিজের মডিউল। যা অন্য ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলি ফলো করে না।”

তর্ক, পাল্টা তর্ক, আবেদন এবং আন্দোলনের মাঝে বড় সংখ্যার ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে টানা হেঁচড়া চলছে বলেও ওই শিক্ষক মনে করেন। পাশাপাশি কলকাতার এক বিখ্যাত সাংস্কৃতিক মঞ্চে বৃষ্টি, রোদ, অসুস্থতা মাথায় নিয়ে বৈধ সার্টিফিকেটের দাবিতে আন্দোলন করছে কলকাতা এবং মালদার দুটো নামী কলেজের ছাত্রছাত্রীরা।

----
--