স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: বাংলা সড়ক যোজনায় জোর করে জমি কেড়ে নেওয়া হচ্ছিল বর্ধমান ১নং ব্লকের কলিগ্রাম হাটতলা এলাকার চাষিদের। এর প্রতিবাদে জোরালো আন্দোলনের পথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বর্ধমানবাসী তথা ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা৷ তাদের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার ওই রাস্তার দাবিতেই বর্ধমান নবদ্বীপ রোড অবরোধ করেন কলিগ্রাম হাইস্কুলের ছাত্রছাত্রীরা৷

তাদের দাবি, রাস্তা খারাপ থাকায় তাঁরা প্রায়শই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এই রাস্তাকে পাকা রাস্তা করার জন্য তাঁরা দীর্ঘ দিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছে। সেই রাস্তার কাজ যখন শুরু হল তখন কিছু লোক তাতে বাধা দিচ্ছেন। এদিকে প্রায় দেড় ঘণ্টা রাস্তা অবরোধের পর বিডিওর হস্তক্ষেপে অবরোধ ওঠে।

 

অবরোধকারী তথা টুবগ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, কয়েকজন চাষি গোটা বিষয়টিকে নিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এলাকার মানুষের স্বার্থে তথা পড়ুয়াদের স্বার্থে এই রাস্তা হওয়া জরুরি। এই রাস্তা তৈরিকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে।


কলিগ্রাম হাটতলার চাষিরা এই ঘটনায় জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন। তাদের অভিযোগ, কলিগ্রাম হাটতলা থেকে টুবগ্রাম যাওয়ার জন্য এলাকার চাষিদের স্বার্থেই ১৯৭৪ সালে তাঁদের পূর্ব পুরুষরা স্বেচ্ছায় জমি দিয়ে একটি রাস্তা তৈরি করেছিল৷ যদিও টুবগ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়াতের জন্য অন্য রাস্তা রয়েছে। কিন্তু এলাকার চাষি ও গ্রামবাসীদের স্বার্থেই এই রাস্তা তৈরি করা হয়।

কিন্তু সম্প্রতি সেই রাস্তাকেই বাংলা সড়ক যোজনায় আরও চওড়া করা হচ্ছে। আর এই চওড়া করতে গিয়ে কলিগ্রাম হাটতলার প্রায় ৩০ জন চাষির কাছ থেকে গড়ে রাস্তার দুপাশে দোফসলি আবাদি জমি নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই বিষয়ে চাষিদের কোনও সম্মতিই নেওয়া হয়নি৷ তখন জেলাশাসক তদন্তেরও নির্দেশ দিয়েছিলেন। জোর করে চাষিদের জমি নেওয়া হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছিলেন জেলাশাসক।

ক্ষুব্ধ চাষিরা জানিয়েছেন, তাঁরা কোনোভাবেই ওই জমি দিতে চান না। তাঁরা তাদের জমি ফেরতে চান। এই বিষয়ে তাঁরা প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামবেন। কারণ এই জমি নেওয়ার জন্য যেমন তাঁদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়েছে৷ তেমনই তাঁদের কোনও ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়নি। কেন বারবার তাঁদের উপর এই আক্রমণ হবে? শুধু তাই নয়, এদিন প্রবীণ গণেশ ঘোষ জানিয়েছেন, কয়েকদিন আগে এই বিষয়ে তিনি প্রতিবাদ করায় টুবগ্রামের এক বাসিন্দা তাঁকে মারধরের চেষ্টা করে। ফলে গোটা ঘটনায় ক্রমশই উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে এই এলাকায়।

--
----
--