‘পাশের বাড়ির কাকাকে বাবা বলে ডাকে তৃণমূল কর্মীরা’

স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: ‘পাশের বাড়ির কাকাকে বাবা বলে ডাকে তৃণমূল কর্মীরা।’ কোনও বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা নয়, এই মন্তব্য করেছেন একজন তৃণমূল বিধায়ক এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের ছেলে। বিতর্কিত মন্তব্য করা সেই বিধায়কের নাম শুভ্রাংশু রায়।

দলের মধ্যেই দীর্ঘদিন কোনঠাসা উত্তর ২৪ পরগনার বীজপুরের তৃনমূল কংগ্রেস বিধায়ক তথা বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায়। অধিকাংশ দলীয় অনুষ্ঠানেই গত কয়েকমাস তাকে দেখা যায়নি। এমনকি উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাতে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকেও হাজির ছিলেন না বীজপুরের তৃনমূল বিধায়ক মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু।

দীর্ঘ কয়েক মাস পরে নিজের বিধানসভা কেন্দ্র বীজপুরে সংবিধান প্রণেতা ডাঃ আম্বেদকরের জন্মদিন পালন করে শুভ্রাংশু রায়। সেই অনুষ্ঠানেই বীজপুরের তৃণমূল কর্মীদের উপরে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। যদিও শনিবারের সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না কাঁচরাপাড়া শহরের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি।

নব নিযুক্ত কাঁচরাপাড়া শহর তৃনমূল কংগ্রেসের সভাপতির অনুপস্থিতিতে কেন ডাঃ আম্বেদকরের জন্মদিন পালন করছেন বীজপুরের বিধায়ক? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে শুভ্রাংশু বলেন, “আমি বীজপুর অঞ্চলের বিধায়ক। ফলে দলীয় সংবিধান অনুযায়ী যে কোন বিধায়কই সেই বিধানসভার দলীয় চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত। এক্ষেত্রে টাউন সভাপতির থেকে চেয়ারম্যান পদটি বড়। ড: বি আর আম্বেদকরের জন্মদিন পালনের অনুষ্ঠানটি কোন দলীয় অনুষ্ঠান নয়। দলনেত্রীর নির্দেশ রয়েছে দলীয় বিধায়করা নিজ নিজ এলাকায় অরাজনৈতিক অনুষ্ঠান করতেই পারেন তবে সে ক্ষেত্রে কাউকে শাসিয়ে বা ভয় দেখিয়ে তোলাবাজি না করলেই হল। আমি আমার বিধানসভা অঞ্চলে এই অনুষ্ঠান করছি।”

উক্ত অনুষ্ঠানে দলীয় কর্মীদের একহাত নিয়েছেন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়। বিধায়ক হওয়া সত্ত্বেও নিজের এলাকার কোনও অনুষ্ঠানে ডাক না পাওয়ায় কাঠগড়ায় তুলেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বকে। তাঁর কথায়, “এলাকায় স্থানীয় একটি স্কুলের স্বাস্থ্য শিবিরে আমি ডাক পাইনা। অথচ আমি স্থানীয় বিধায়ক এবং ওই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র।”

যোগ্যতার বিচার বারাকপুর এলাকার অন্যান্য সকল বিধায়কেরা কেউ ধারে কাছেও নেই বলে দাবি করেছেন মুকুল পুত্র। তিনি বলেছেন, “যোগ্যতার দিক দিয়ে আশেপাশে যত বিধায়ক আছে অমিত মিত্র বাদ দিয়ে কেউ আমার ধারে কাছে নেই। আমার বিরুদ্ধে কোন ক্রিমিনাল কেস নেই। শিক্ষার মান যদি বোমা তৈরি করতে পারা বিচার্য হয় তবে আমি সেই দলে নেই।”

এরপরে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে শুভ্রাংশু রায় বলেন, “দলীয় কর্মীরা নিজেদের বাবা থাকতেও তাকে বাবা বলে না ডেকে পাশের বাড়ির কাকাকে বাবা বলে ডাকতে বেশি পছন্দ করে।’ শুভ্রাংশু এই একই কথা বলেন পার্শ্ববর্তী বিধানসভা এলাকার দলীয় বিধায়কদের উদ্দেশ্যেও।

রাজনৈতিক মহলের মতে, নিজের বীজপুর বিধানসভা এলাকাতে দলীয় কর্মীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন তৃনমূল বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়। বীজপুর বিধানসভা এলাকায় বিভিন্ন দলীয় অনুষ্ঠানে শুভ্রাংশু রায়ের অনুপস্থিতিতে সেখানে নেতৃত্ব দিতে দেখা গিয়েছে পার্শ্ববর্তী ভাটপাড়া কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক অর্জুন সিং এবং নৈহাটি কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক পার্থ ভৌমিককে। ফলে বীজপুর এলাকায় নিজেই দলীয় কর্মীদের প্রতি নিজের রাশ আলগা করে ফেলেছেন স্থানীয় এই তৃণমূল বিধায়ক। এখন বড় অংশের দলীয় কর্মীরা তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সেই আক্ষেপ থেকেই শুভ্রাংশু রায় নিজের এলাকায় নেতার সম্মান না পাওয়ায় ওই মন্তব্য করেছেন।

দীর্ঘদিন পর বীজপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কাঁচরাপাড়ার লিচু বাগান এলাকায় নিজের অনুগামীদের নিয়ে ড: বি আর আম্বেদকরের জন্মদিনের অনুষ্ঠান পালন করতে দেখা গেল বীজপুরের তৃণমূল বিধায়ক তথা মুকুলপুত্র শুভ্রাংশু রায়কে। সেখানেই ডাঃ বি আর আম্বেদকরের ছবিতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন শুভ্রাংশু। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন তিনি। গত বেশ কয়েকমাস পর তৃণমূল বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়কে প্রকাশ্যে বীজপুরের লিচু বাগান এলাকায় দেখা গেল। দলীয় পতাকা ছাড়া শুভ্রাংশুর এই অনুষ্ঠান পালন, তবে কি ফের নতুন কোন ইঙ্গিত? শুভ্রাংশুর অনুগামীরা বলছেন সময়ই উত্তর দেবে এই প্রশ্নের।

তবে বীজপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়ের ছবি দেওয়া স্থানীয় নাগরিকদের প্রতি নববর্ষের শুভেচ্ছা বার্তা ফ্লেক্স ব্যানার দীর্ঘদিন পর কাঁচরাপাড়া এলাকায় চোখে পড়ল নববর্ষের প্রাক্কালে।

Advertisement
----
-----