কলকাতার সুব্রত মুখোপাধ্যায়ই ভারতীয় বায়ুসেনার জনক

নয়াদিল্লি: ভারতীয় বায়ুসেনার জনক হিসেবে পরিচিত সুব্রত মুখোপাধ্যায়। মানুষকে যেমন বায়ুসেনায় যোগ দেওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেছেন। আবার বায়ুসেনার জীবিকার জন্য যে কতটা ঝুঁকি পেরোতে হয়েছিল তাঁকে তা শুনলেও গায়ে কাঁটা দেবে। ভারতীয় বায়ুসেনাতে তিনিই প্রথম বায়ুসেনা প্রধান পদে নিযুক্ত ছিলেন। শুধু বায়ুসেনা প্রধান হিসেবে নয়। মানুষ হিসেবেও নজির গড়েছেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়।

১৯১১ সালের ৫ মার্চ কলকাতার এক উচ্চশিক্ষিত পরিবারে জন্ম নেন সুব্রত। মায়ের বাবা ডঃ পি কে রায় ছিলেন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রথম ভারতীয় অধ্যক্ষ। তাঁর ঠাকুরদা নিবারণ চন্দ্র মুখোপাধ্যায় ছিলেন এক সমাজ ও শিক্ষা সংস্কারক। সুব্রতর দিদি রেণুকা রায় ছিলেন তখনকার এক স্বাধীনতা সংগ্রামী। পরিবারের ভাই-বোনেদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। কিন্তু পরিবারে কেউই ভাবেননি যে বায়ুসেনায় যোগ দেবেন তিনি। ভারত ও ইংল্যান্ডে পড়াশোনা করেছেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়।

শুরুতে পরিবারের সকলের ধারণা ছিল ডাক্তারির দিকে যাবেন সুব্রত। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি অফ মেডিকেলে এই নিয়ে পড়াশোনাও করেছেন তিনি। কিন্তু ভাগ্য অন্য কিছুই ঠিক করে রেখেছিল তাঁর জন্য। ১৯২৯ এ ইংল্যান্ডেই বায়ুসেনার প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পান সুব্রত মুখোপাধ্যায়। প্রবেশিকা পরীক্ষার মাধ্যমে ৬ জন ভারতীয় নির্বাচিত হন। তাঁদের মধ্যেই এক জন ছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। এরপর ব্রিটেনের রয়াল এয়ার ফোর্সে প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করেন তিনি। যদিও মায়ের ইচ্ছে ছিল না যে ছেলে বায়ুসেনাতে যোগ দিক। প্রশিক্ষণের সময় সেখানের ভারতীয় বায়ুসেনাদের জন্য একটি লাইব্রেরি খোলেন তিনি। বাড়ি থেকে পুরনো বই গুলি আনিয়ে সেগুলিই লাইব্রেরিতে রাখেন তিনি।

প্রশিক্ষণ নিয়ে তাঁর পর বায়ুসেনা হিসেবেই যাত্রা শুরু হয় সুব্রতর। একের পর ধাপ পেরিয়ে ১৯৪৫ সালে ব্রিটিশ এম্পায়ারে বায়ুসেনা আধিকারিক পদে নিযুক্ত হপ্ন তিনি। তিনিই প্রথম ভারতীয়প যিনি এই পদে প্রথম নিযুক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু বায়ুসেনার ব্রিটিশ সদস্যদের দ্বারা অনেকসময় ভেদাভেদের শিকার হতে হত সুব্রত সহ অন্যান্য বায়ুসেনার কর্মীদের।

এরই মধ্যে ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হল। ব্রিটিশ সেনারা চলে গেলে ভারতীয় বায়ুসেনা খালি হয়ে যায়। তখন সুব্রত মুখোপাধ্যায় সহ আরও বেশ কয়েকজন এসে এখানে যোগ দেন। শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন এই সময় সুব্রতকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, আরও কত দিন ব্রিটিশ আধিকারিকদের তিনি ভারতীয় বায়ুসেনায় চান। তখন সুব্রত ব্রিটিশ আধিকারকদের ৫ থেকে ৭ বছর থাকতে অনুরোধ করেন।

১৯৫২ সালে ব্রিটেনের ইম্পেরিয়াল ডিফেন্স কলেজে উচ্চ প্রশিক্ষণ নিতে যান। ১৯৫৪ তে দেশে ফিরে ভারতীয় বায়ুসেনার প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। প্রথম ভারতীয় বায়ুসেনা প্রধান হিসেবে তখনই নজির গড়েন কলকাতার সুব্রত মুখোপাধ্যায়। কিন্তু খুব শীঘ্রই শেষ হয়ে যায় সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের কর্মজীবন। ১৯৬০ সালের ৮ নভেম্বর টোকিও যান তিনি। সেখানেই খাবার খেতে গিয়ে খাবারের একটা টুকরো তাঁর শ্বাসনালীতে আটকে যায়। সেদিনই থেমে যায় এই বায়ুসেনা প্রধানের জীবনযাত্রা।

Advertisement
----
-----