মরনাপন্নকে নতুন জীবন দিল এই সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল

শঙ্কর দাস, বালুরঘাট: সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের এমন সাফল্য সত্যিই অভাবনীয়৷ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির যথাযথ প্রয়োগে মুমূর্ষ রোগীর প্রাণ বাঁচিয়ে শিরোনামে মুখ্যমন্ত্রীর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। পেটে ও লিভারে জটিল অস্ত্রোপচার করে গুরুতর এক যুবককে নতুন জীবন দিলেন বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা৷ আর সাধারণ রোগীদের কথা ভেবে সরকারের তরফে দেওয়া অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারে এই অপারেশন হওয়ায় এক পয়সাও খরচ করতে হয়নি রোগীর পরিবারকে।

গত ২৮ জুন রাতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে বাইকে চড়ে বাড়ি ফিরছিল বালুরঘাটের খিদিরপুর এলাকার যুবক অভিজিৎ হালদার। স্থানীয় হালদার পাড়ায় বাড়ি তাঁর৷ রাস্তায় আমের খোসায় বাইকের চাকা পিছল খেয়ে বড়সড় দুর্ঘটনার কবলে পড়েন অভিজিৎ৷ পেটে এমন আঘাত লাগে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি৷ ওই অবস্থায় পরিবারের লোকজন তাঁকে সোজা বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান।

আরও পড়ুন: শিল্পনীতি শীঘ্রই আসছে : সুরেশ প্রভু

হাসপাতালের চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখেন যে লিভার ফেটে গিয়ে পেটের ভিতরে রক্ত জমে রয়েছে। পেট কেটে অপারেশন ছাড়া অন্য কোনও উপায়ও নেই। আবার সেক্ষেত্রে অল্প বয়স্ক এই যুবকের আজীবন শারীরিক দুর্বলতা থেকে যাওয়ার সম্ভাবনাও থেকে যায়৷ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের চিকিৎসক অভিজিৎ বক্সি রোগীর পরিবারের আর্থিক অবস্থা ও যুবকের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পেট না কেটে খুবই সামান্য তিনটে ফুটো করেন পেটে৷ আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই সার্জারির নাম ল্যাপারোস্কোপি৷

বিশেষ যন্ত্রের সাহায্য নিয়ে পেটের ভিতরে ক্যামেরা ঢুকিয়ে সফল অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি জমে থাকা প্রচুর পরিমান রক্ত বের করা হয়৷ টানা এতগুলো দিন জীবনযুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে অভিজিৎকে৷ কিন্তু সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ​চিকিৎসক ও নার্সদের প্রচেষ্টায় এখন তিনি বিপদমুক্ত৷

আরও পড়ুন: ‘POWER’-এর স্বার্থে হাত মেলালেন মোদী-মমতার মন্ত্রীরা

শনিবার হাসপাতাল থেকে ভাইপো অভিজিৎকে ছুটি করিয়ে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় কাকা অজিত হালদার জানিয়েছেন, প্রথমে চিকিৎসকরা ও অন্যান্যরা জানিয়ে দিয়েছিলেন যে অবস্থা আশঙ্কাজনক। যা অবস্থা তাতে অপারেশন ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। পরিবারের সম্মতি নিয়ে চিকিৎসক অভিজিৎ বক্সি তাঁর ভাইপোর ল্যাপারোস্কোপি করেন৷

চিকিৎসকের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় সবটাই সফল হয়েছে৷ এদিন ওই যুবককে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পেরে দারুণ খুশি পরিবারের লোকজন৷ বিশেষ করে বিনা খরচে একটা সরকারি হাসপাতালে এরকম পরিষেবা, চিকিৎসক, নার্সদের এরকম যত্নে হাসপাতালের উপর ভরসা আরও বাড়িয়ে দিল বলে জানিয়েছেন হালদার পরিবারের লোকজন৷

আরও পড়ুন: ‘গরুর গাড়ি’ কংগ্রেসের অধিকাংশ নেতা জামিনে মুক্ত: মোদী

এদিকে হাসপাতালের শল্যচিকিৎসক অভিজিৎ বক্সি জানান, হাসপাতালের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিকে কাজে লাগিয়ে এই সাফল্য এল৷ ল্যাপারোস্কোপি মেশিনের জন্য পেট না কেটে, তিনটে ছোট্ট ফুটো করেই কাজ হয়েছে৷ সাধারণত সরকারি হাসপাতালগুলিতে এই ধরনের চিকিৎসা করা হয় না। কিন্তু রোগীর অবস্থা ও পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতির কথা ভেবে তিনি হাতের কাছের থাকা এই মেশিনগুলি কাজে লাগিয়েছেন মাত্র।

হাসপাতালের সুপার তপন বিশ্বাস বলেন, ‘‘সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে এর আগেও জটিল অপারেশন করিয়ে বেশ কয়েকজনকে সম্পূর্ণ সুস্থ করা হয়েছে। বাইক দুর্ঘটনায় জখম অভিজিৎ হালদারের অবস্থা ছিল খুবই শোচনীয়। আঘাত লেগে লিভার যেভাবে ফেটে গিয়েছিল তাতে যেকোনও সময় বড় বিপদ ঘটতে পারত৷’’

আরও পড়ুন: সুখবর! অপ্রত্যাশিত ভাবে শিক্ষক নিয়োগের দিন ঘোষণা করল উচ্চ শিক্ষা দফতর

সুপার বলেন, ‘‘চিকিৎসক অভিজিৎ বক্সি মানবিকতার দৃষ্টি দিয়ে যেভাবে হাসপাতালের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিগুলির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে ওই যুবকের প্রাণ ফিরিয়ে দিয়েছেন তাতে আমরা সকলেই গর্বিত৷’’ বালুরঘাট সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে এই মুহূর্তে অতি জটিল ছাড়া সমস্ত রকমের অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতিই রয়েছে। চিকিৎসকরা সেগুলির সাহায্যে বহু রোগীকে সারিয়ে তুলছেন বলেও সুপারের দাবি৷

Advertisement
---
-----