স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: আচমকাই শনিবার দুপুর ১২ টা থেকে বন্ধ করে দেওয়া হল বর্ধমান রেল ষ্টেশনের ১নং প্ল্যাটফর্মের শৌচালয়। ফলে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন অসংখ্য সাধারণ যাত্রীরা।

ঠিক কী কারণে এই শৌচালয় বন্ধ করা হয়েছে তা নিয়ে কেউই মুখ খুলতে রাজী হননি। ডেপুটি ষ্টেশন ম্যানেজার বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলে দায় এড়িয়েছেন।

এদিন রেলের পুরুষ, মহিলা সমস্ত যাত্রীরাই হন্যে হয়ে শৌচালয়ের খোঁজ করতে গিয়ে যখন দেখেছেন বাথরুমের দরজা বন্ধ রীতিমত ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

কেন আচমকা এই একমাত্র শৌচালয়কে বন্ধ করে দেওয়া হল সেই বিষয়ে তাঁরা জানিয়েছেন, বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করেই এভাবে শৌচালয়কে বন্ধ করে দেওয়া উচিত হয়নি রেল কর্তপক্ষের।

অন্যদিকে, এই শৌচালয়ের সাফাইকর্মী বাপি শর্মা জানিয়েছেন, যে ঠিকাদারকে এই শৌচালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সম্প্রতি সেই ঠিকাদারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে বর্ধমান ষ্টেশনের এই শৌচালয়ের ৭জন কর্মীও কাজ হারিয়েছেন।

এদিন দমদম থেকে ধানবাদ যাবার পথে বর্ধমান ষ্টেশনে শৌচালয়ে যাওয়ার জন্য নামেন মমতা গঙ্গোপাধ্যায়। ১নং প্ল্যাটফর্মের বাথরুম বন্ধ থাকায় অন্য কোথাও শৌচালয় আছে কিনা তা খুঁজে দেখতে হন্যে হয়ে ঘুরেছেন। একই অবস্থা কলকাতার শ্যামনগরের বাসিন্দা মনোজ গঙ্গোপাধ্যায়ের। তিনি আসানসোল যাওয়ার পথে শৌচালয় বন্ধ দেখে রীতিমত ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে এদিন বর্ধমান ষ্টেশনের ডেপুটি ষ্টেশন ম্যানেজার জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। তবুও তাঁরা বিষয়টি দেখছেন। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব কৃষ্ণনগর সোস্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নামে একটি সংস্থাকে এই শৌচালয় দেখভালের বরাত দেওয়া হয়।

রেলের নিয়মানুযায়ী প্রস্রাবের জন্য কোনো টাকা নেওয়ার নির্দেশ না থাকলেও ওই সংস্থা টাকা নিতে শুরু করেন। এব্যাপারে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কয়েকজন যাত্রী। গোটা বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে রেল কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই সংস্থাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। আর তারপরেই শনিবার দুপুর থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয় বর্ধমান ষ্টেশনের একমাত্র শৌচালয়টি। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।

----
--