সুজন-সৌজন্যতার আড়ালে কি ভোটের জোটের প্রস্তুতি মুকুল-পার্থের?

মানব গুহ ও সুমন বটব্যাল, কলকাতা: ‘বাচ্চা ছেলে’র পর এবার ‘বুড়ো ভাম’!

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত সিপিএম বিধায়ক তথা দলের বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীরকে শুক্রবার দেখতে গিয়েছিলেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতে শনিবার তাঁকে দেখতে হাজির হলেন সদ্য তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া মুকুল রায়। তার পরেই সিপিএম নেতাকে দেখতে হাজির হন কংগ্রেসের পরিষদীয় নেতা আব্দুল মান্নানও৷
ফলে পর পর দুদিন বাংলা দেখল রাজনৈতিক সৌজন্যতা৷ রাজনৈতিক মহলের মতে, সম্প্রতি দিলীপ ঘোষ বনাম মুখ্যমন্ত্রীর প্রিয় কেষ্ট ওরফে অনুব্রতর দৌলতে বাংলা সাক্ষী হচ্ছিল ধারাবাহিক ‘খেউড়’ ও ‘হুমকি’ রাজনীতির৷ সেই ‘হুমকি’ রাজনীতিকে গুরুত্বহীন করে দিতে সুজনের অসুস্থাকে সামনে রেখে তথাকথিত ‘বাচ্চা ছেলে’, ‘বুড়ো ভামে’র এই দুটি সৌজন্যতা ভিন্ন মাত্রা দিল।

নামহলে প্রশ্ন উঠছে- সবটাই কি রাজনৈতিক সৌজন্য? তার বাইরে কি কিছুই নেই? প্রশ্ন কিন্তু উঠছে? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌজন্যতার আড়ালে রয়েছে রাজনীতির সেই অমোঘ সূত্র ‘শত্রুর শত্রু আমার মিত্র’৷ সামনেই পঞ্চায়েত ভোট৷ তবে কি আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটে সিপিএমকে কাছে পেতে মরিয়া রাজ্য রাজনীতির এই মুহূর্তের যুযুধান দুই শিবিরই? বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘‘রাজ্য রাজনীতির বর্তমান হাল যা তাতে অসম্ভব কিছুই নয়৷ কংগ্রেসও ওই তালিকার বাইরে নয়৷’’

- Advertisement -

পালা বদলের বাংলায় শাসক তৃণমূলের কাছে ক্রমশ: ক্ষয়িষ্ণু সিপিএম আর কোনও বড় শত্রু নয়৷ মুকুল রায় গেরুয়া নামাবলী গায়ে চড়ানোর পর তাঁদের কাছে বিজেপিই যে এখন সবচেয়ে বড় শত্রু, ঠারে ঠারে তা স্পষ্ট করেছেন দলনেত্রী থেকে দলের মহাসচিব৷ রাজনৈতিক মহলও মানছে, আসন্ন পঞ্চায়েত ভোট কিংবা ’১৯ এর লোকসভা নির্বাচন এরাজ্যের শাসকের প্রধান প্রতিদ্বন্দী বিজেপিই৷

সূত্রের খবর, কংগ্রেসের পাশাপাশি সিপিএমকেও এখন পাশে পেতে মরিয়া যুযুধান দুই শিবির৷ প্রথমপক্ষের লক্ষ্য বাংলার ক্ষমতা ধরে রাখা৷ আর দ্বিতীয়পক্ষের লক্ষ্য, মমতা জমানা শেষ করে রাজ্যকে পদ্মময় করে তোলা৷ ওয়াকবহাল মহলের মতে, তাই হাতে সময় থাকতেই নিজেদের ‘সাধ’ পূরণের লক্ষ্যে সৌজন্যতার রাজনীতির আড়ালে বাংলায় সিপিএমের অন্যতম প্রধান মুখ সুজন চক্রবর্তীর সঙ্গে ঘনিষ্টতা বাড়াতে চাইছে যুযুধান দু’পক্ষই৷

সম্প্রতি কংগ্রেস-সিপিএমের মাখামাখি যে নতুন নয়, তা আগেই সাক্ষী থেকেছে বাংলা৷ ফলে প্রশ্ন উঠছে, এবারে কি তবে সিপিএম-বিজেপি কিংবা সিপিএম-তৃণমূল বোঝাপড়ার ভিত্তিতে ভোটে জোটের সমীকরণে হাঁটবে৷ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘‘বাংলায় এই মুহূর্তে যুযুধান দুই শিবিরই নিজেদের ‘সাধ’ পূরণে মরিয়া৷ ফলে কোনওকিছুই অসম্ভব নয়৷’’

সূত্রের খবর, আসন্ন পঞ্চায়েত ভোট ও ’১৯ এর লোকসভা ভোটকে ‘পাখির চোখ’ করে এরাজ্যে তৃণমূলকে ‘পথে বসাতে’ কোমড় বাঁধছে বিজেপি। তাই সিপিএম আর ‘অচ্ছূত’ নয় যুযুধান দুই প্রতিপক্ষের কাছে৷রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল যত হুমকি-ই দিন না কেন, রবি ঠাকুরের জেলায় ঘাসফুল কর্মীদের জোর টক্কর দিচ্ছে গেরুয়া কর্মীরা। ফলে দু’তরফই সিপিএমকে পাশে পেতে মরিয়া৷

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী শত্রুর বিরুদ্ধে লড়তে অপেক্ষাকৃত কমজোরি শত্রুকে বন্ধু বানিয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। আর এখন এই বুদ্ধিমান কাজটারই ‘সলতে’ পাকানো শুরু করেছে তৃণমূল ও বিজেপি৷ রাজনৈতিক সৌজন্যতার আড়ালে আপাতত সেদিকেই হাঁটছেন তাঁরা৷ ফলে সুজনকে আঁকড়ে ধরে ‘ক্ষমতায় টিকে থাকা’ বনাম ‘পরিবর্তনের পরিবর্তন’ এর স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন বাংলা রাজনীতির যুযুধান দু’পক্ষই৷

Advertisement
---