মনোরম গ্রীষ্মই পীড়ার কারণ হয়ে উঠছে আমজনতার

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: গ্রীষ্মকাল এ বার তুলনামূলক ভাবে মনোরম৷ আর, এই মনোরম আবহাওয়ার জেরেই পীড়া বাড়ছে আমজনতার৷ তবে, উদ্বেগের কোনও কারণ নেই বলেও আশ্বস্ত করছেন চিকিৎসকরা৷ তার জন্য অবশ্য আরও বেশি সচেতন হওয়ার পাশাপাশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা৷

কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের আমজনতাকে এ বছর সেভাবে দাবদাহর কবলে পড়তে হয়নি৷ কারণ, এ বছর মাঝে মধ্যেই ঝড়-বৃষ্টির দেখা মিলেছে৷ কলকাতায় এ বার তিনদিন জোড়া কালবৈশাখীও হয়েছে৷ যদিও, ঝড়-বৃষ্টিতে এ বার বহু মানুষের প্রাণ গিয়েছে৷ তবে, ঝড়-বৃষ্টির প্রভাবে তাপমাত্রা সেভাবে এ বার একটানা বেশি স্থায়ী হতে পারেনি৷ যার জেরে, অন্য বছরের তুলনায় গ্রীষ্মকাল এ বার মনোরম৷

তবে, এই মনোরম আবহাওয়ার কারণই পীড়া বাড়িয়ে চলেছে আমজনতার৷ চিকিৎসক অংশুমান মিত্রর কথায়, ‘‘ঝড়-বৃষ্টির কারণে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা যেভাবে এ বার আচমকা বেশি-কম হয়েছে, তার জেরে জ্বর-সর্দি-কাশির প্রকোপ বেড়ে গিয়েছে৷ এমনিতেই দূষণের কারণে ফুসফুসের সমস্যায় আক্রান্তের হার বাড়ছে৷ কিন্তু, দীর্ঘ দিন ধরে যাঁরা ফুসফুসের সমস্যায় আক্রান্ত, এ বারের গ্রীষ্মের মনোরম আবহাওয়া তাঁদের সমস্যা বাড়িয়ে তুলেছে৷ অন্যদিকে, মনোরম আবহাওয়ার জন্য এ বার সানস্ট্রোক-ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে এড়ানো সম্ভব হয়েছে৷’’

- Advertisement -

একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘সিওপিডি অথবা অ্যাজমার সঙ্গে যাঁরা হৃদযন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত, গ্রীষ্মের এই আবহাওয়ায় তাঁদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও বাড়ছে৷ কারণ, ফুসফুসের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়ে হৃদযন্ত্রের রক্ত চলাচলের উপর৷ এ ক্ষেত্রে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়৷’’ তবে, ফুসফুসের সমস্যায় আক্রান্ত নন, এমন ক্ষেত্রেও গ্রীষ্মের মনোরম আবহাওয়া বিরূপ প্রভাব ফেলছে৷ কারণ, তাপমাত্রার আচমকা পরিবর্তনের কারণে ঠান্ডা লেগে যাচ্ছে অনেকের৷ যার জেরে, এই গ্রীষ্মেও অনেকে জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে তিনি জানিয়েছেন৷

তেমনই, শুধুমাত্র বড়রাও নন৷ ছোটরাও এই মনোরম গ্রীষ্মের শিকার হচ্ছে৷ চিকিৎসক মৃদুল সরকার বলেন, ‘‘এ বার যে ধরনের গ্রীষ্মকাল চলছে, তার জন্য পাঁচ বছরের কম বয়সিদের ক্ষেত্রে জ্বরের প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে৷’’ অন্যদিকে, চিকিৎসক অংশুমান মিত্র জানিয়েছেন, রাজ্যের যে সব স্থানে গ্রীষ্মকালে জলের অভাব দেখা দেয়, সে সব স্থানে এ বার সেভাবে এই সমস্যা দেখা দেয়নি৷ তবে, মাঝে-মধ্যে বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার জল জমে থাকছে৷ যার জেরে, মশার বংশবৃদ্ধি হচ্ছে৷ স্বাভাবিক কারণে, ডেঙ্গি, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের হার বাড়ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি৷
এ বার গ্রীষ্মকালে এই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হলেও, চিকিৎসকরা অবশ্য আশ্বস্তই করছেন৷

চিকিৎসক অংশুমান মিত্র বলেন, ‘‘এই সময় শরীর সুস্থ রাখার জন্য আরও বেশি সচেতনতার প্রয়োজন৷ একই সঙ্গে সতর্কও থাকতে হবে৷’’ শুধুমাত্র তাই নয়৷ তিনি জানিয়েছেন, গ্রীষ্মের এমন মনোরম আবহাওয়া যাতে উপভোগ করা যায়, তার জন্য সহজপাচ্য খাবার খেতে হবে, হালকা সুতির পোশাক পরতে হবে, বাইরের খাবার এড়িয়ে চলতে হবে, গুরুত্বপূর্ণ কাজ না থাকলে চড়া রোদে বাইরে বের না হওয়ারও পরামর্শও দিয়েছেন তিনি৷

তবে, যদি চড়া রোদে বের হতেই হয়, তা হলে ছাতা এবং রোদচশমা ব্যবহারের কথাও চিকিৎসকরা বলেছেন৷ চিকিৎসক মৃদুল সরকার জানিয়েছেন, গ্রীষ্মকালে এ বছর যেমন আবহাওয়া রয়েছে, তাতে চড়া রোদ থাকলে ছোটদের বাইরে না নিয়ে যাওয়াই মঙ্গল৷ পাঁচ বছর পর্যন্ত বয়সিদের ক্ষেত্রে জ্বর-সর্দি-কাশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ না খাওয়ানোর পরামর্শও দিয়েছেন তিনি৷ চিকিৎসক অংশুমান মিত্র জানিয়েছেন, সচেতন এবং সতর্ক থাকলে এই সময় সুস্থ থাকা অসম্ভব বিষয় নয়৷

Advertisement ---
---
-----