গরম কমায় ‘অতিরিক্ত ছুটি’ বাতিল চাইছেন শিক্ষকরা

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: কয়েকদিন আগের ভয়াবহ গরম চিত্রটা বদলে গিয়েছে৷ দাবদাহ কমে বৃষ্টি এসেছে৷ আর এই বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয়েছে বিতর্কের৷ তা হল, সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে? না কি খুলে দেওয়া হবে? শিক্ষকদের একাংশের মতে, অতিরিক্ত ছুটি বাতিল করে বিদ্যালয় খুলে দেওয়া উচিত৷

আরও পড়ুন- কলেজে ভর্তিতে ছাত্র নেতাদের দাপট রুখতে কড়া বার্তা শিক্ষামন্ত্রীর

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গরমের দাবদাহ চলছিল৷ পুড়ছিলেন সবাই৷ তাই গত সোমবার বিদ্যালয়গুলিতে অতিরিক্ত ১১ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ তিনি জানিয়েছিলেন, ২০ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ছুটি থাকবে সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলিতে৷ তার পরের দিন মঙ্গলবারেই এই বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্য বিদ্যালয় শিক্ষা দফতর৷

- Advertisement -

আরও পড়ুন- কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে মার্কশিট কোনও বাধা নয়: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

একইসঙ্গে সিবিএসই ও আইসিএসই বোর্ডকেও অনুরোধ করা হয়েছিল ছুটি দিতে৷ সেই অনুরোধ মেনে স্বল্প মেয়াদের ছুটিও ঘোষণা করেছিল সংশ্লিষ্ট বোর্ডের অধীনে থাকা কিছু বিদ্যালয়৷ কিন্তু, ছুটি ঘোষণার পরের দিন থেকেই কমতে থাকে প্রকৃতির রোষ৷ বৃষ্টি হয় রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে৷ তাতে জ্বালা ধরা ঘাম ঝরানো গরম থেকে রক্ষা পান রাজ্যবাসী৷ এরপরেই উঠে এসেছে প্রশ্ন-গরম কমে গিয়েছে, তাহলে বাড়তি ছুটি কি বাতিল করে দেওয়া হবে?

শনিবার এই প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি ছুটি বাতিল নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি শিক্ষামন্ত্রী৷ বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হবে কি না সেই সিদ্ধান্ত বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উপরই ছেড়ে দিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ তিনি বলেন, “গরম এখন অনেকটাই কমে গিয়েছে। ছুটি দেওয়ার জন্য অনেক বিদ্যালয় আবেদন করেছিল।

কিন্তু, ছুটি তুলে নেওয়ার জন্য আবেদন সাধারণত করা হয় না। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা যদি ছুটি বাতিল করে দেওয়ার আবেদন করেন, তাহলে বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা হবে। ছুটি থাকবে কি না স্কুলগুলি দেখুক।” মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা না করে এই বিষয়ে যে কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না, তাও এদিন স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষাবিদ তরুণকান্তি নস্কর বলেন, ‘‘যে কারণে ছুটি দেওয়া হয়েছিল সেই কারণটাই যখন মিটে গিয়েছে, তখন ছুটি বাতিল করে দেওয়ায় উচিত৷ পড়াশোনাটা তো নষ্ট হবে৷ যতই বলুক পরে পুষিয়ে দেওয়া হবে৷ তা হয় না৷ শিক্ষকরাও চাইছেন ক্লাস শুরু করতে৷’’

Advertisement
----
-----