১৯৯৩ খুনের ঘটনা: হাইকোর্টকে রায় পুনর্বিবেচনার নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান : ১৯৯৩ সালের ৩১ মে পূর্ব বর্ধমানের মেমারী থানার করন্দা গ্রামে ৬জন ক্ষেতমজুরকে নৃশংসভাবে খুন করার মামলায় হাইকোর্টকে পুনরায় বিবেচনা করার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। ফলে ফের আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

১৯৯৩ সালের ৩১ মে সকাল ৯টা। তার আগের দিন রাজ্য জুড়ে পঞ্চায়েত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। ওই সময়েই সিপিএমের স্বজনপোষণ, দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছিলেন করন্দা, খাঁড়গ্রামের সিপিএমের একাংশ। প্রতিবাদে দল ছেড়ে সিপিআইএম(এল)-এ যোগ দিয়েছিলেন তারা৷ যে বিষয়টা ঠিক ভাবে নেয়নি সিপিএম৷
মৃতদের পরিবারের সদস্যদের দাবি পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেই গ্রামের জনসভাতে রক্তগঙ্গা বইয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দেন সিপিএম নেতা তথা তত্কালীন মন্ত্রী করন্দার বাসিন্দা রামনারায়ণ গোস্বামী। সেই মত সেদিন সকাল থেকেই শুরু হয় মারধর, খুন৷

- Advertisement -

মৃতদের পরিবারের দাবি সকালেই গোটা পূর্ব পাড়াকে ঘিরে ফেলে সশস্ত্র সিপিএমের বাহিনী। একের পর এক বাড়িতে লাগিয়ে দেওয়া হয় আগুন। আগুনের লেলিহান শিখা থেকে বাঁচতে বাড়ি থেকে বের হতেই দিলীপ পাকড়ে, সোম কোঁড়া, হীরু মালিক, সাধন নায়েককে একের পর এক কুপিয়ে পিটিয়ে খুন করে সিপিএম বলে অভিযোগ৷

মৃতদেহগুলিকে জড়ো করা হয় পূর্ব পাড়ার রাস্তার ওপর। সিপিএমের অত্যাচার থেকে বাদ যায়নি মহিলা-শিশুরাও। টানা ৪ ঘণ্টা ধরে হত্যাকাণ্ড চালানোর পর ঘটনাস্থলেই ৫জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পরে হাসপাতালে মারা যান রতন মল। প্রায় ২৪ জন গুরুতর জখম হন।

সিপিআইএম(এল)এর বর্ধমান জেলা কমিটির সদস্য শ্রীকান্ত রানা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় বাদল মালিকের বৌদি মেনকা মালিক মেমারী থানায় অভিযোগ করেন। মামলা করা হয় বর্ধমান আদালতে। কিন্তু সুবিচার মেলেনি। মামলা করা হয় হাইকোর্টে। কিন্তু সেখানেও মেলেনি সুবিচার।

পড়ুন: যোগীর রাজ্যে মোষ চুরির অভিযোগে পিটিয়ে খুন

এরপরই ২০০৯ সালে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন। গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এন ভি রামানা এবং বিচারপতি মোহন এম সান্তনাগৌড়ার বেঞ্চ হাইকোর্টের রায়কে খারিজ করে দিয়ে পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেন৷ এই রায়ে খুশি মৃতদের পরিবার৷

তারা চাইছেন উপযুক্ত শাস্তি হোক দোষীদের। উল্লেখ্য, এই ঘটনায় মোট ৮৪জনের নামে অভিযোগ দায়ের হলেও পুলিশ শেষ পর্যন্ত ১৭জনের নামে ফাইনাল চার্জশিট পেশ করে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের অনেকেই মারাও গিয়েছেন৷

পড়ুন: ফের ব্যাংক প্রতারণা, একাধিক ঋণ নিয়ে ফেরার অপরাধী ধৃত

কিন্তু চলতি সময়ে সিপিএম যখন তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ নিয়ে এসে পালে হাওয়া লাগানোর চেষ্টা করছে, তখন ২৫ বছর আগের মামলা ফের সামনে এসে পড়ায় যথেষ্ট অস্বস্তিতে সিপিএম নেতৃত্ব।

যদিও এব্যাপারে সিপিএমের বর্ধমান জেলা সম্পাদক অচিন্ত্য মল্লিক জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট মামলা ফের হাইকোর্টে পাঠিয়েছে। তাই আবার তাঁরা আইনী লড়াই করবেন। এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে কোনো প্রভাব পড়বে না বলেই জানিয়েছেন অচিন্ত্যবাবু।

Advertisement
---