নয়াদিল্লি: দীর্ঘ চার মাসের শুনানি শেষে পঞ্চায়েতে ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়’ মামলার রায় ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট৷ বিরোধীদের অভিযোগ খারিজ হয়ে গেল দেশের শীর্ষ আদালতের রায়ে৷ সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পঞ্চায়েতে ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী’দের নাম ঘোষণার উপর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় দেশের শীর্ষ আদালত৷ ফলে ২০,১৫৯টি আসনে ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী’ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে আর কোনও বাধা থাকলো না নির্বাচন কমিশনের। যেকোনও সময় জয়ী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে পারবে রাজ্য নির্বাচন কমিশন৷ রায়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ।

পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়ন দাখিল পর্বে শাসক দলের সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলেছিলেন বিরোধীরা৷ অভিযোগ ছিল শাসক দলের হিংসার কারণেই তাদের প্রার্থীরা মনোনয়ন দাখিল করতে পারচ্ছেন না৷ ন্যায় বিচার চেয়ে বিরোধীরা আদালতের দারস্থ হয়৷ হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় ই–মেল কিংবা অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও তা গ্রাহ্য করতে হবে৷ শুক্রবার রায়ে ঘোষণার সময় সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ জানান, ইমেল কিংবা অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কোনও আইন নির্বাচনী সংবিধানে নেই। ফলে ইমেল বা অনলাইনে দাখিল মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা যাবে না। যে আসনগুলিতে ভোট হয়নি, সেখানেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করতে পারবে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।

Advertisement

তবে রায়ে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, রাজ্য নির্বাচন কমিশন ২০,১৫৯ আসনে ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী’ প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পর তা নিয়ে কোনও আপত্তি থাকলে ইলেকশন ট্রাইব্যুনালে গিয়ে পিটিশন দাখিল করতে পারবেন৷ কমিশন জয়ী প্রার্থীদের নাম ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে গিয়ে এই পিটিশন দাখিল করা যাবে৷ ট্রাইব্যুনালে হবে সেই অভিযোগের শুনানি৷

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পঞ্চায়েতে ‘বিনা প্রতিন্দন্দ্বিতায় জয়’ সংক্রান্ত মামলায় রাজ্য সরকার ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দাবিই মান্যতা পেল৷ তৃণমূল সাংসদ ও আইনজীবী কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বলেন, ‘‌‘এই রায়ে আমি খুব খুশি। অনেক সময় পেরিয়ে গিয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত লড়াই করতে হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ যে অসত্য তা প্রমাণ হয়ে গেল৷’’

পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের দাবি, ‘‘সুপ্রিম কোর্টের রায় ঐতিহাসিক৷ এর পরে পঞ্চায়েতের কাজে গতি আসবে। উন্নয়ন তরান্বিত হবে৷’’ বিরোধীদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ক্রমাগত মিথ্যা প্রচারের জন্য পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদের রাজ্যের মানুষের কাছে নতজানু হয়ে ক্ষমা চাওয়া উচিত৷

পঞ্চায়েত সংক্রান্ত এদিনের রায় নিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘রাজনীতি নয়, এটা নীতির লড়াই৷ আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করবে বিজেপি৷’’

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ব্যাখ্যা, পঞ্চায়েত নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর রাজ্য রাজনীতির ময়দানে আরও একবার শাসক তৃণমূলের সামনে ব্যাকফুটে বিরোধীরা। ১৯শের লোকসভা নির্বাচনের আগেও আরও মনোবল বাড়িয়ে নিল রাজ্যের শাসক দল৷

----
--