পাহাড় নিয়ে মমতা-মোদীর লড়াই এবার সুপ্রিমকোর্টে

নয়াদিল্লি: হাইকোর্টে হার হয়েছে৷ তবে লড়াইয়ের ময়দান ছাড়তে নারাজ কেন্দ্র৷ পাহাড়ে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন ইস্যুতে এবার সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে মোদী সরকার৷ প্রতিপক্ষ পশ্চিমবঙ্গ সরকার থুড়ি মমতা৷ ফলে পাহাড় ইস্যুতে এবার সুপ্রিম লড়াইয়ে মুখোমুখি মোদী-মমতা৷

উত্তপ্ত গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের জেরে দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার শান্তি বজায় রাখতে ১৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে৷ সেই বাহিনী সরাতে তৎপর হয়েছিল মোদী সরকার৷ এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার৷ হাইকোর্ট এই ইস্যুতে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল৷ সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে কেন্দ্র৷

হাইকোর্ট আগেই নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত পাহাড় থেকে ১৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রত্যাহার করা যাবে না৷

- Advertisement -

পাহাড় থেকে ১০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী সরিয়ে নেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্র সরকার৷ যার বিরোধিতা করে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠিও দেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কাজ না হওয়ায় কলকাতা হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয় রাজ্য সরকার৷ দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শুনে, বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন এবং দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ পাহাড় থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী সরানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অন্তর্বতী স্থগিতাদেশ দেন৷ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ২৭ শে অক্টোবর পর্যন্ত পাহাড় থেকে ১৫ কোম্পানি বাহিনী সরানো যাবে না৷ হাইকোর্টের রায়ে আপাতত স্বস্তিতে ছিল রাজ্য৷

কেন্দ্রীয় সরকারকে পাহাড় থেকে বাহিনী প্রত্যাহার নিয়ে সেদিনই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছিলেন বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন৷ কেন্দ্রকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘একটা কারণে পাহাড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠান হল, আবার বিনাকারণে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হল রাজ্যকে না জানিয়েই?’ অপর বিচারপতি দেবাংশু বসাক কেন্দ্র ও রাজ্য- উভয়ের প্রতিনিধিদেরই প্রশ্ন করেন, ‘দার্জিলিং নিয়ে বাংলার মানুষের আবেগ জড়িয়ে আছে৷ প্রিয় দার্জিলিংকে রাজনীতির আখড়া হিসেবে কেন বাছা হল?’

বিচারপতিদের প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিভিন্ন রাজ্যে ভোটের কারণে পাহাড় থেকে বাহিনী সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে৷ তাছাড়া, পাহাড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঠিকমতো ব্যবহারই করছে না রাজ্য৷ এর উত্তরে রাজ্য জানিয়েছিল, পাহাড়ে এখনও যা পরিস্থিতি তাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রত্যাহার করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি৷
কেন্দ্র ও রাজ্যের সওয়াল-জবাব শুনে বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন ও বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ, পাহাড় থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রত্যাহারের বিরুদ্ধে আগামী ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেন৷

শুক্রবার ফের কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলা ওঠার কথা ছিল৷ তার আগেই সুপ্রিম কোর্টে গেল কেন্দ্র৷ সংঘাত এবার সুপ্রিম পর্যায়ে৷

 

Advertisement ---
---
-----