এত বছর পর চ্যালেঞ্জটা জিতলেন, অকপট স্বীকারোক্তি শুভেন্দু অধিকারীর

কোলাঘাট: তৃণমূলে যোগ দিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের কংগ্রেস নেতা সুরজিৎ মাইতি৷ আর এর সঙ্গেই দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের আলো শুভেন্দু অধিকারীর চোখে৷ অবশেষে সাগরবাড় গ্রামপঞ্চায়েত দখলে নিতে চলেছে শাসকদল৷ পূর্ব মেদিনীপুরের একমাত্র গ্রামপঞ্চায়েত যেখানে এতগুলো বছর দাঁত ফোটাতে পারেনি কেউ৷ তৃণমূলও না৷

পূর্ব মেদিনীপুরের দাপুটে নেতা শুভেন্দু অধিকারী৷ তৃণমূলের উত্থান পর্বে এমনও শোনা যেত গোটা রাজ্যে যদি একটা আসনও তৃণমূল পায়, তবে সেটা হবে শুভেন্দু অধিকারীর আসন৷ এরপর তৃণমূলের চলার পথ যত এগিয়েছে শুভেন্দুর হাত ধরে পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূলের জয়যাত্রা ততই গতি পেয়েছে৷

আরও পড়ুন: বিজেপি অফিসে ভাঙচুরে নাম জড়াল তৃণমূলের

- Advertisement -

কিন্তু শুভেন্দু রবিবার নিজের মুখে স্বীকার করেছেন কোলাঘাটের সাগরবাড় গ্রামপঞ্চায়েতটা হাতে না পাওয়ার ‘জ্বালা’টা তার ভিতরে সবসময়ই থেকে গিয়েছে৷ কেন না পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এটিই একমাত্র গ্রাম পঞ্চায়েত যা কংগ্রেসের হাত থেকে ছিনিয়ে আনতে পারেননি তিনি৷ আর এই গ্রামপঞ্চায়েত হাতে পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর সামনে ঢাল হয়ে বারবার দাঁড়িয়েছেন জেলার দুঁদে কংগ্রেস নেতা সুরজিৎ মাইতি৷

তিনি সাগরবাড় গ্রামপঞ্চায়েতটা হাত লাগাতে দেননি কাউকে৷ তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর পঞ্চায়েত ভোটে ঘাসফুলের ছড়াছড়ি৷ কিন্তু সাগরবাড় অধরাই থেকে গিয়েছে৷ অধীর চৌধুরির গড়ে গিয়ে রাজত্ব করেছে তৃণমূল৷ সেই শুভেন্দুর হাত ধরেই৷ কিন্তু নিজের গড়ে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় সাগরবাড় নিয়ে আক্ষেপটা কাটেনি৷

এই গ্রামপঞ্চায়েত যেন শুভেন্দুর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছিল৷ অবশেষে সেই আক্ষেপ কাটল৷ লক্ষ্য পূরণ হল তাঁর৷ কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন সুরজিৎ মাইতি৷ সঙ্গে কংগ্রেসের কয়েকশো নেতা-কর্মী৷ রবিবার শুভেন্দু অধিকারী সুরজিৎবাবুর হাতে তুলে দিলেন তৃণমূলের পতাকা৷

শুভেন্দু এদিন অকপটে স্বীকার করে নেন, ‘‘আমি যার জন্য অনেক দিন ধরে লেগে আছি৷ যাকে আমি তৃণমূল কংগ্রেস করানোর জন্য এমন কোনও চেষ্টা নেই যেটা করিনি, তিনি হলেন সুরজিৎ মাইতি৷ এই অ্যাসেট যে পার্টিতে থাকবে সে দল সমৃদ্ধ হবেই৷ তিনি সম্পদ৷ আমরা চেয়েছিলাম৷ আমরা অনেক লড়াই করে তাঁকে পেয়েছি৷ আমার আশা আজ পূর্ণ হয়েছে৷’’

আরও পড়ুন: “এনআরসি নিয়ে বিজেপি হিন্দু আর তৃণমূল বাঙালি তাস খেলছে”

এদিন শুভেন্দুর চোখে মুখে আলাদা স্বস্তি৷ হবে নাই বা কেন! পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় সাগরবাড় একমাত্র গ্রামপঞ্চায়েত যা সুরজিৎ মাইতির ক্যারিশমায় নিজের দখলে রেখেছিল কংগ্রেস৷ এই গ্রামসপঞ্চায়েত দখল ঘিরে এই ভোটে কম ঝামেলা হয়নি৷ সন্ত্রাসের অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ, সংঘর্ষ সবই দেখেছেন এলাকার মানুষ৷

দু’টি বুথে পুনর্নিবাচনও হয়েছিল৷ কিন্তু তৃণমূল সেখানে দাঁত ফোটাতে পারেনি৷ সুরজিৎবাবুর নেতৃত্ব কংগ্রেসেরই জয়জয়কার হয়েছে৷ কিন্তু তৃণমূলের রবিবাসরীয় উন্নয়নী সভায় বদলে গেল রাজনীতির পাশা৷ বিকেলে সাগরবাড় গ্রামে ছিল সেই সভা৷ প্রধান বক্তা শুভেন্দু অধিকারী৷

সভা চলাকালীন সেখানে দেখা যায় সুরজিৎ মাইতিকে। কিছুক্ষণ পরেই মঞ্চে আসেন শুভেন্দু৷ তৃণমূলের উন্নয়নের প্রচারের পাশাপাশি গাল ভরে তিনি প্রশংসা করেন সুরজিৎবাবুরও৷ এরপর দলীয় পতাকা তুলে দেন তাঁর হাতে৷ শুভেন্দু বলেন, ‘‘আমার দীর্ঘদিনের লক্ষ্য ছিল সুরজিৎ মাইতিকে দলে আনার৷ আজ তা বাস্তবায়িত হল। এবার থেকে এই গ্রামপঞ্চায়েত উন্নয়নে ভরিয়ে দেওয়া হবে। এখন থেকে সাগরবাড় বিরোধীশূন্য হয়ে গেল৷ সবাইকে নিয়ে উন্নয়নের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে৷’’

আরও পড়ুন: আর কতদিন বেঘোরে প্রাণ যাবে হাতির! বিশ্ব হস্তী দিবসে উঠল সেই প্রশ্ন

যদিও কংগ্রেস এই গ্রামপঞ্চায়েতে দলের ‘কৌলিন্য’ খুইয়ে মোটেই চুপ থাকেনি৷ কংগ্রেসের জেলা সভাপতি শেখ আনোয়ার আালি বলেন, ‘‘সুরজিৎবাবু অত্যন্ত পবিত্র মানুষ। সম্ভবত চাপের কারণেই তিনি তৃণমূলের কাছে মাথা নত করেছেন। যেমনভাবে মানস ভুঁইয়্যা কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে নাম লিখিয়েছিলেন। সুরজিৎবাবুরও একই অবস্থা হয়ত হয়েছে। যদিও আমরা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বারবার দলত্যাগ করতে না করেছিলাম। আমরা পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছিলাম। যা ঘটনা ঘটল তা গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত অশুভ৷’’

কিন্তু সুরজিৎ মাইতি বলছেন উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে শামিল হতেই হাত ছেড়ে ঘাসফুলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি৷ আর তাঁর এই সিদ্ধান্তই তৃণমূলের অন্দরে এনে দিয়েছে টাটকা অক্সিজেন৷ সাগরবাড় গ্রামপঞ্চায়েতে তৃণমূলের পতাকা ওড়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা৷ এদিনের সভায় শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়, সুমিত্রা পাত্র, শেখ সেলিম, দিবাকর জানা প্রমুখ৷

Advertisement
-----