উপাচার্য পদ ছাড়বেন সুরঞ্জন?

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বিক্ষোভের মুখে পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন উপাচার্য সুরঞ্জন দাস। শুক্রবার দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে দেখা করেন সুরঞ্জন বাবু। খবর রটেছে, শিক্ষামন্ত্রীকেই মনের কথা জানিয়েছেন যাদবপুরের উপাচার্য। তবে শিক্ষামন্ত্রী তাঁকে কী জানিয়েছেন, তা জানা যায়নি৷ শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে রাজ্যপাল তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য কেশরীনাথ ত্রিপাঠির সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার কথা সুরঞ্জনের৷ জল্পনা ছড়িয়েছে, তবে কি আচার্যের হাতে তাঁর ইস্তফাপত্র তুলে দেবেন তিনি? দুপুপ পর্যন্ত উত্তর পাওয়া যায়নি৷

প্রসঙ্গত, প্রায় ৩১ ঘন্টা আটক থাকার পর বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে বের হন উপাচার্য৷ কিন্তু, উপাচার্য ঘেরাও মুক্ত হলেও এখনও প্রবেশিকা পরীক্ষা ফিরিয়ে আনার দাবিতে অনড় ছাত্র-ছাত্রীরা৷ শুক্রবার দুপুর ৩টে পর্যন্ত প্রবেশিকা ফিরিয়ে আনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সময় দিয়েছেন তাঁরা৷ দাবি না মানলে আমরণ অনশনের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের তরফ থেকে৷ এদিন বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে অধ্যাপক সংগঠন জুটাও৷

এর আগে প্রবেশিকা পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অবস্থান বিক্ষোভে বসেছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের ছাত্র সংসদের পড়ুয়ারা৷ সেই বার কর্মসমিতির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কলা বিভাগের ছয়টি বিষয়ে প্রবেশিকা পরীক্ষা নেওয়া হবে৷ তখন প্রায় ৪৮ ঘন্টা পর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হন যাদবপুরের উপাচার্য সহ কর্মসমিতির সদস্যরা৷ কিন্তু, সেই প্রবেশিকাকে ঘিরেই বিতর্কের সৃষ্টি হওয়ায় ফের সিদ্ধান্ত বদল করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায় এই বছর প্রবেশিকা পরীক্ষা হবে না৷

- Advertisement -

যাদবপুরে বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের দাবি, এত বছর ধরে যেভাবে কলা বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষা হত, সেই ভাবেই এই বছরও প্রবেশিকা পরীক্ষার মাধ্যমে ভরতি নেওয়া হোক৷ এই দাবিতে শুক্রবার ক্লাস বয়কট করেছে পড়ুয়ারা৷ তবে শুধু পড়ুয়ারা নয়৷ বারে বারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে ক্ষুব্ধ অধ্যাপকরাও৷ শুক্রবার সারাদিন কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে যাদবপুরের অধ্যাপক সংগঠন জুটা৷ ভরতি প্রক্রিয়া আগের পদ্ধতি মেনেই হোক, এই দাবিতে এদিন দুপুর ১২টা থেকে ৩টে পর্যন্ত অবস্থানে বসেছেন অধ্যাপকরা৷ জুটার সহ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায় বলেন, ‘‘একটি বিজ্ঞপ্তি বের হয়ে যাওয়ার পর তা বারে বারে পরিবর্তন এর আগে প্রশাসন কখনও করেনি৷ আবেদনকারীদের চূড়ান্ত হয়রানি হচ্ছে৷ উচ্চ শিক্ষা দফতরের প্রতিনিধি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম বলে কর্মসমিতিকে বিভ্রান্ত করে নিজেদের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া করাচ্ছেন৷ যা পুরোপুরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক স্বাধিকার বিরোধী৷’’

তাঁদের দাবি না মানা হলে প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন পার্থ প্রতিম রায়৷ তিনি বলেন, ‘‘গত ৪ জুলাই কর্মসমিতি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা বেআইনি৷ আইনত কর্মসমিতির কোনও সিদ্ধান্ত ১২০ দিনের আগে পরিবর্তন করতে পারে না বিশ্ববিদ্যালয়৷ অথচ, এখানে সেটাই করা হয়েছে৷ এই সিদ্ধান্তটা যে বেআইনি তা আমরা লিখিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়কে জানিয়ে দিয়েছি৷’’

শুক্রবার সকালেই শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে হাজির হন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাশ ও সহ উপাচার্য প্রদীপ ঘোষ৷ শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করছেন তাঁরা৷ কিন্তু, একটি স্বাধীকারপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সরাসরি শিক্ষামন্ত্রীর বাড়িতে উপস্থিত হওয়াকে নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্কের৷ এবিষয়ে পার্থ প্রতিম রায় বলেন, ‘‘শিক্ষামন্ত্রীর বাড়িতে উপাচার্য ও সহ উপাচার্যের যাওয়া কতটা যুক্তি যুক্ত? তাঁরা বিকাশ ভবনে উচ্চ শিক্ষা দফতরে যেতে পারেন৷ সমস্যা থাকলে আচার্যের কাছে যেতে পারেন৷ কিন্তু, তা না করে তাঁরা শিক্ষামন্ত্রীর বাড়িতে চলে যাচ্ছেন৷ এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে অ্যাকাডেমিক অটোনমির আর কিছু বেঁচে নেই৷’’ সূত্রের খবর, এদিন বিকালে আচার্য রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠির কাছেও যাবেন উপাচার্য৷

এদিন বিশ্ববিদ্যালয়কে দুপুর ৩টে পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদল করার সময় দেওয়া হয়েছে বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের তরফ থেকে৷ তারপরও প্রবেশিকা পরীক্ষা না ফেরানো হলে ভবিষ্যৎ প্রতিবাদের পথ বেঝে নেবেন তাঁরা৷ তবে, যে কোনও অবস্থাতেই তাঁদের দাবি না মানা পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা৷

Advertisement ---
---
-----