পুর এলাকা খতিয়ে দেখতে সারপ্রাইজ ভিজিট জেলা শাসকের

স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: আচমকাই সাত সকালে পুর এলাকা পরিদর্শনে এলেন জেলা শাসক। পুরসভা এবং প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে শহর ঘুরে দেখলেন জলপাইগুড়ির জেলা শাসক শিল্পা গৌরিসারিয়া। কোথাও আবর্জনার স্তুপ তো কোথাও আবার জমা জলে মশার লার্ভা। উপস্থিত পুরসভার কর্মীদের ভর্ৎসনা করলেন জেলা শাসক।

কড়া ভাষায় জানালেন, এমনটা চলবে না। তিন চার বেলা ধরে পরিস্কার করতে হবে৷ যে সকল পুর কর্মীরা কাজ ঠিক করছেন না তাদের প্রয়োজনে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেন তিনি। যার যেটা দায়িত্ব পালন করতে হবে বলেও জানান। এমনকি তা না হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পরিস্কার জানিয়ে দিলেন তিনি।

মূলত ডেঙ্গুর থাবা থেকে শহরকে মুক্ত করতেই এই পরিদর্শন। বুধবার সকালে আচমকাই শহরের বর্জ্য আবর্জনা সাফাই অভিযান কেমন চলছে তা জানতে সরেজমিনে পরিদর্শনে পথে নামেন খোদ জলপাইগুড়ির জেলাশাসক শিল্পা গৌরীসারিয়া। তড়িঘড়ি করে এদিন সকালে পৌরসভার পদস্থ কর্তারাও জেলা শাসকের এই পরিদর্শনে অংশ নিতে ছুটে আসেন। সদর হাসপাতালের সামনে থেকে জেলা শাসক এই পরিদর্শনের শুরু করেন। এরপর পায়ে হেঁটেই পৌরসভার পদস্থ কর্তাদের সঙ্গে নিয়ে দিনবাজার, মার্চেন্ট রোড, ডিবিসি রোড়ের সাফাই অভিযান কেমন চলছে তা পরিদর্শন করেন।

- Advertisement -

শুধু তাই নয়, শহরের স্টেশন বাজার, তিন নম্বর ঘুমটি সহ সংশ্লিষ্ট বস্তি এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। পরিদর্শনের সময় রাস্তার ধারে পড়ে থাকা জঞ্জাল ও জমা জল দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘এই ভাবে চলবে না। প্রয়োজন হলে যারা কাজ করছে না তাদের সাসপেন্ড করুন। যারা এই নোংরা করছে তাদের চিহ্নিত করে জরিমানা করুন। কোনও কিছুই অভাব রাখেনি সরকার।’’

এদিন জেলা শাসক বলেন, ‘‘জলপাইগুড়ি শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বর্জ্য আবর্জনার স্তুপ জমে থাকছে। শহর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে পুরসভাকে আরও বেশি তৎপর হতে হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদেরও এই বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। যেখানে সেখানে বর্জ্য আর্বজনা ফেলা বন্ধ করতে হবে। না হলে আইন মেনে পৌরসভার তরফে জরিমানা আদায় করা হবে।’’ পাশাপাশি এদিন এই প্রসঙ্গে জলপাইগুড়ি পুরসভার নির্বাহী আধিকারিক শান্তনু নন্দন মৈত্র জানান, পুর আইন খতিয়ে দেখে জেলা শাসকের নির্দেশ কার্যকর করার জন্য তাঁরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

Advertisement
-----