বিজেপির হিটলিস্টে ছিলেন কাঁথির মৃত তৃণমূল নেতা : শুভেন্দু

স্টাফ রিপোর্টার, কাঁথি: পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি ৩ ব্লকের দুরমুঠ পঞ্চায়েতের চাঁদবেড়িয়ার তৃণমূল নেতা রিতেশ রায়ের নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়েই স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আগে থেকেই যোগাযোগ রেখেছিলেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সকালে জানাজানি হয় রিতেশের গলাকাটা দেহ উদ্ধারের খবর। বিকেলে নিহত নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন পরিবহণ ও পরিবেশ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন ঘটনায় বিজেপি যোগের কথা। গত ২৯ জানুয়ারি কাঁথিতে অমিত শাহর সভা শেষে চাঁদবেড়িয়া তৃণমূল কার্যালয়ে তান্ডব চালিয়ে ছিল বিজেপি-র লোকেরা।

পাল্টা প্রতিরোধে নেতৃত্ব দেওয়ায় সে দিন থেকেই বিজেপি-র আক্রোশ ছিল রিতেশের ওপর। যে কারণে বিজেপি-র হিটলিস্টে তাঁর নাম ছিল বলে আগে দাবি করেছিলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। বিজেপি-ই এই অপহরণ-খুনে যুক্ত বলে দাবি ছিল তাঁদের।

মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সেই একই অভিযোগ করেন এদিন। বলেন, “সিপিএম আমলে নন্দীগ্রামে খুন করে আমাদের কর্মীদের হুমকি দিয়ে বলা হত বাড়াবাড়ি করলে নন্দীগ্রাম করে দেব। রিতেশ খুনের ঘটনাও ভোটের আগে সেইভাবে প্রচার করা হবে। পুরোন সিপিএমই এখন বিজেপি। এটা ওদেরই কাজ। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে সৌভিক চক্রবর্তী নামের একজনের নাম উঠে এসেছে। ওই ব্যক্তিকে ধরলেই সব স্পষ্ট হয়ে যাবে।”

মন্ত্রী ছাড়াও উত্তর কাঁথির বিধায়ক বনশ্রী মাইতি সহ স্থানীয় ব্লক তৃণমূলের নেতৃত্বও উপস্থিত ছিলেন নিহত নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। মন্ত্রী এদিন কথা বলেন রিতেশের ছেলে অঙ্কিতের সঙ্গে। ভবিষ্যতে তাঁদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন রিতেশ। পরিবারের পক্ষ থেকে মারিশদা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয় ৯ তারিখ। তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

এরপর সোমবার খবর আসে হুগলির দাদপুর থানা এলাকায় রিতেশের গলাকাটা লাশ উদ্ধারের। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৮ ফেব্রুয়ারি হুগলির তালচিনি এলাকায় এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার হয়। রবিবার রাতে দাদপুর থানার পুলিশ সেই মৃতদেহের ছবি পাঠায় মারিশদা থানায়। রিতেশের পরিবারকে ডেকে পাঠায় পুলিশ। স্ত্রী মহুয়া রায় ছবি দেখে রিতেশকে সনাক্ত করেন।

সোমবার বিকেলে দেহ ময়নাতদন্তের পর চুঁচুড়া হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসা হয় কাঁথি।৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধেয় বন্ধু রাজ্য স্কুল শিক্ষা দপ্তরের কর্মী বন্ধু সৌভিক চক্রবর্তীর সঙ্গে দেখা করতে কোলাঘাটে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন চাঁদবেড়িয়া বুথ তৃণমূলের সভাপতি এবং স্থানীয় সমবায়ের চেয়ারম্যান রিতেশ রায় ওরফে মাণিক।

রাতে স্ত্রী-কে ফোন করে জানিয়েছিলেন, বন্ধু সৌভিকের বাবা মারা গেছে।সে জন্য সৌভিকের সঙ্গে মালদা যাবেন তিনিও। রিতেশের স্ত্রী মহুয়া জানিয়েছেন, তারপর থেকে আর কোনওভাবেই যোগাযোগ করা যায়নি রিতেশের সঙ্গে।মোবাইলের সুইচ বন্ধ ছিল। সৌভিকের ৩ টি ফোনও বন্ধ আছে।বাধ্য হয়ে মহুয়াদেবী মারিশদা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন।

রীতেশকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনিও। রাজনৈতিক কারণে এই খুন বলে মনে করছেন পরিবারের লোকেরাও। যদিও শুরু থেকে অভিযোগ অস্বীকার করার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন কাঁথির বিজেপি-র সভাপতি তপন মাইতি। নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জে তৃণমূল বিধায়ক খুনের পর এবার তৃণমূল নেতাকে খুনের ঘটনা ঘটল পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথিতে।

আরও পড়ুন : কথা বের করতে সন্দেহভাজনের গলায় সাপ পেঁচিয়ে দিল পুলিশ

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের সম্পাদক কণিষ্ক পন্ডা জানান,“সমগ্র ঘটনাটি বিজেপিরাই চক্রান্ত করে ঘটিয়েছে।এই ঘটনার উপযুক্ত তদন্তে নিশ্চই খুনিরা ধরা পড়বে।”

তবে অপরদিকে সম্পূর্ণ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা বিজেপি সাংগঠনিক সভাপতি তপন মাইতি। তিনি জানান,“সম্পূর্ণ ঘটনাটি ঘটেছে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের জেরেই। আগামী লোকসভা নির্বাচনের পর এই খুনের রাজনীতি আর থাকবেনা।”

সবমিলিয়ে একদিকে যেমন নদিয়াতে তৃণমূলের বিধায়ক খুন অপরদিকে কাঁথিতে তৃণমূল নেতা খুন। সবমিলিয়ে লোকসভা নির্বাচনের আগে এখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুঙ্গে।

---- -----