সৌমিক কর্মকার: ‘খেলব হোলি, রং দেব না৷ তাই কখনও হয়৷’

বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় এই গানটা এখনও দোলের সময় আম-বাঙালির মুখে মুখে ফেরে৷ দোল ও হোলির বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে গানের শব্দগুলিও মিলে যায়৷ সত্যিই রং ছাড়া কি দোল খেলা যায়!

আরও পড়ুন: ত্রিপুরায় বিজেপির জয়ে আশাবাদী মুকুল

যায় না৷ আর এই উত্তরটা বিলক্ষণ জানেন বীজপুরের বিধায়ক তৃণমূলের শুভ্রাংশু রায়৷ আর তাই শুক্রবার হোলির দিন মুকুল রায়ের আশপাশে দেখা যায়নি তাঁকে৷ কারণ, শুভ্রাংশুর হেভিওয়েট বাবার গায়ে এদিন ছিল শুধুই গেরুয়া আবির৷ আর সেই রং তৃণমূলী শুভ্রাংশুর জন্য ‘নিষিদ্ধ’৷ তাই বাবার থেকে দূরে থাকাকেই শ্রেয় মনে করেছেন তিনি৷ গেরুয়া এড়াতেই কি আজ বাবার সংস্পর্শ এড়ালেন? উত্তরে অকপট শুভ্রাংশু, ‘‘তা বলতেই পারেন৷’’

যদিও এর মধ্যে কোনও অস্বাভাবিকতা দেখছে না রাজনৈতিক মহল৷ তাদের বক্তব্য, এত বছরের চেনা ছবিটা এবার বদলাতোই৷এতদিন মুকুল রায় ও তাঁর ছেলে শুভ্রাংশু রায় তৃণমূলেই ছিলেন৷ ফলে দোল বা হোলিতে তাঁদের প্রিয় রং ছিল সবুজ৷

আরও পড়ুন: বেনামি সম্পত্তি নিয়ে মুকুল-মমতা তরজা

কিন্তু এবার ভিন্ন পরিস্থিতি৷ মুকুল রায় বিজেপিতে৷ আর ছেলে শুভ্রাংশু রয়ে গিয়েছেন তৃণমূলেই৷ তাই এখনও সবুজেই আস্থা রাখা শুভ্রাংশুর বাবা মুকুল রায় রং বদলে ফেলেছেন৷ তিনি এখন গেরুয়ার ভক্ত৷ সেই কারণেই শুক্রবার সকালে কাঁচরাপাড়ায় তিনি বিজেপির কর্মীদের হাত থেকে গেরুয়া আবির মেখেছেন৷ কর্মীদের গেরুয়া আবিরই মাখিয়েছেন৷ সেকথা শুভ্রাংশুও বলছেন৷ তাঁর কথা, ‘‘বাবা ওঁর দলের কর্মীদের সঙ্গে হোলি খেলেছেন৷ সেখানে আমার যাওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই৷’’

কিন্তু প্রশ্নেই শেষ এখানেই থামছে কই৷ কারণ, রাজনৈতিক সম্পর্কের ঊর্ধ্বে মুকুল রায় ও শুভ্রাংশু রায়ের মধ্যে বাবা-ছেলের সম্পর্ক৷ শুভ্রাংশুর জীবনের প্রথম রং খেলাও বাবার হাত ধরেই৷ বেড়ে ওঠার প্রতিটি বছরের প্রতিটি দোলেই বাবা মুকুল রায়ই আবির থেকে পিচকারি, ছেলে শুভ্রাংশুর সমস্ত আবদার মিটিয়েছেন৷ ফলে শুধুমাত্র রাজনৈতিক মতপার্থক্যের জন্য সেই সম্পর্কে ফাটল ধরতে পারে?

আরও পড়ুন: ত্রিপুরায় কী হবে! তীব্র উৎকন্ঠায় বাংলার সিপিএম

না ফাটল ধরেওনি৷ তবে বাঙালিয়ানায় বিশ্বাসী শুভ্রাংশু দোল খেলেছেন বৃহস্পতিবার৷ ঘটনাচক্রে মুকুল রায় সেদিন কাঁচরাপাড়ায় ছিলেন না৷ তাই এবার বাবার সঙ্গে দোল খেলা হল না বলেই জানিয়েছেন মুকুল-পুত্র৷

----
--