স্বাধীনতার সাক্ষী ‘স্বাধীন ভারত হিন্দু হোটেল’-এ আজও স্পেশাল মেনু হয় ১৫ই আগস্টে

শেখর দুবে, কলকাতা: অরুণ পন্ডা নিজেও মনে করতে পারেন না কবে তাঁরা উড়িষ্যা থেকে পশ্চিমবঙ্গে পা রেখেছিলেন। কবেই বা জন্ম হয়েছিল বিপ্লবের ইতিহাসের স্মৃতি বুকে নিয়ে চলা ‘স্বাধীন ভারত হিন্দু হোটেল’-এর। একটা সময় সেখানে খাবার খেতে আসতেন নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু থেকে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ। শুধুই কি খাওয়া দাওয়া? একেবারেই না। পরাধীন ভারতে বিপ্লবীদের গোপন আড্ডার জায়গাও ছিল এই হোটেল।

আরও পড়ুন: জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে সহিষ্ণুতার বার্তা রাষ্ট্রপতির

১৯২৫ সাল নাগাদ উড়িষ্যা থেকে কলকাতায় এসেছিলেন মানগোবিন্দ পন্ডা। কাজ করতেন দারিন ঘোষের হোটেলে। তারপর ১৯২৭ সালে কলেজ স্কোয়ারের ভবানী দত্ত স্কোয়ারে খুলে ফেললেন হিন্দু হোটেল। সুভাষচন্দ্র বসুকে মানগোবিন্দ পন্ডার হিন্দু হোটেলে অবশ্য নিয়ে এসেছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ।

- Advertisement -

সদ্য জেল থেকে ছাড়া পাওয়া সুভাষ তখন কংগ্রেসের জেনারেল সেক্রেটারি। হোটেলের বর্তমান মালিক অরুণ পন্ডা জানালেন বাবার কাছে শুনেছেন হোটেলের পুঁইশাকের চচ্চড়ি বিশেষ পছন্দ ছিল নেতাজীর। আজও প্রতিটি স্বাধীনতা দিবসে হোটেলের লাঞ্চের মেনুতে থাকে পুঁইশাকের চচ্চড়ি। এবারও তার অন্যথা হবে না।

আরও পড়ুন: মেডিক্যালের চিকিৎসকের ‘ভুল’, শিশুর বাঁ পায়ের বদলে ডান পায়ে অস্ত্রোপচার

১৫ই আগস্টের লাঞ্চের মেনুতে নতুন কী পদ থাকছে? এই প্রশ্নের উত্তরে হোটেলের বর্তমান কর্ণধার জানান, ” দেখুন মাছের অনেকগুলি আইটেমই রোজ হয় আমাদের। সঙ্গে থাকে তিন-চার রকমের তরকারি। কাল স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দুপুরের খাবার পদে রুই, কাতলা, চিতল মাছের ভাপা থাকবে। সঙ্গে মৌরলা কিংবা চিংড়িরও দু-তিনরকমের পদ থাকছে। পাশাপাশি প্রতিবছরের মতো নেতাজির প্রিয় পুঁইশাকের চচ্চড়ি তো থাকছেই, সঙ্গে পালং শাক এবং পোস্তোর দু’রকমের পদ থাকছে স্বাধীনতা দিবসের স্পেশাল লাঞ্চে।”

আরও পড়ুন: ‘মমতার কারণেই আক্রান্ত হতে পারেন অসমের বাঙালিরা’

মানগোবিন্দ পন্ডার কাছ থেকে হোটেলের দায়িত্ব পেয়েছিলেন ছেলে চন্দ্রকান্ত পান্ডা। এখন হাত বদল করে তার মালিকানা এসেছে চন্দ্রকান্তের ছেলে অরুণ পন্ডার হাতে। স্বাধীনতার আগে এই হোটেলের নাম ‘হিন্দু হোটেল’ ছিল। কিন্তু ভারত স্বাধীন হওয়ার পর হোটেলের নামের সঙ্গে ‘স্বাধীন ভারত’ শব্দদুটি জুড়ে নিয়েছিলেন প্রয়াত মানগোবিন্দ। সেই থেকেই হোটেলের নাম ‘স্বাধীন ভারত হিন্দু হোটেল’।

রোজ প্রায় ১০০-১৫০ লোক দুপুরের খাবার খান এই হোটেলটিতে। রাঁধুনি নিয়ে মোট ১২ জন কর্মচারী৷ তাঁরাই রান্না ও খাওয়াদাওয়ার কাজটা দেখাশোনা করেন। ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর থেকে আসা সত্যমান সাহু জীবনের ৩৫টা বছর কাটিয়েছেন এই হোটেলে। রাঁধুনির হেল্পার হয়ে শুরু করে এখন পাক্কা রাঁধুনি সত্যমান।

হোটেলে খেতে আসা মানুষগুলিকে খাওয়ানো এবং আপ্যায়নের দায়িত্বে রয়েছেন রাজু দাসের মতো বেশ কয়েকজন। এইভাবেই বছরের পর বছর নেতাজী সুভাষ এবং স্বাধীনতার স্মৃতি আঁকড়ে রেখে কলকাতার বুকে দাঁড়িয়ে রয়েছে ‘স্বাধীন ভারত হিন্দু হোটেল’৷

Advertisement
---