বাম বিক্ষোভে ভেস্তে গেল বিবেকানন্দের জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান

কলকাতা: বাম ছাত্রদের আন্দোলনের জেরে বন্ধ হয়ে গেল স্বামী বিবেকানন্দের জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান। ঘটানাটি ঘটেছে স্বামীজির জন্মস্থলের অদূরে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু এসএফআই এবং আইসি ছাত্র সংগঠনের পড়ুয়াদের বিক্ষোভে তা ভেস্তে যায়।

শুক্রবার প্রেসিডেন্সির কয়েকজন শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রী মিলে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাঙ্গনে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। প্রেসিডেন্সি চত্বরে প্রকাশ্যেই চলছিল সেই অনুষ্ঠান। হাজির ছিলেন আমন্ত্রিত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, আমন্ত্রিত বক্তা অধ্যাপক দেবাশিস চৌধুরী বক্তব্য ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক। তাঁর বক্তব্য চলাকালীন একদল পড়ুয়া বাধা দেয় বলে অভিযোগ। অভ্যাগতদের ঘেরাও করে দেখানো হয় বিক্ষোভ। পরে আয়োজক পড়ুয়াদের তত্ত্বাবধানে আগতদ ব্যক্তিদের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির অভিযোগ তুলে মিছিল বের করেন আইসি ও এসএফআইয়ের পড়ুয়ারা। তাঁদের অভিযোগ, তৃণমূল ও হিন্দুত্ববাদী শক্তি প্রেসিডেন্সির স্বাধীন কণ্ঠস্বর রোধ করতে চাইছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্বাধীনচেতা ও মুক্তচিন্তার অঙ্গনে বিরুদ্ধমত শোনার মতো সহিষ্ণুতা নেই? উঠছে প্রশ্ন।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট কোয়ালিশন বা আইসি-র নেতা সায়ন চক্রবর্তী ওই বিক্ষোভে সামিল ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। সায়নের পালটা অভিযোগ, “সাম্প্রদায়িক ও বিভেদমূলক মন্তব্য করেছেন বহিরাগতরা। এই ধরনের মন্তব্য শুনতে পারবেন না প্রেসিডেন্সির ছাত্রছাত্রীরা।” রাওয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সায়ন। তাঁর মতে, “আমরা ওদের অনুষ্ঠান বন্ধ করতে বলি। স্বামী বিবেকানন্দের নামে রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্সি। স্বাধীনচেতা ও মুক্তচিন্তার জায়গা বিশ্ববিদ্যালয়।”

অধ্যাপক দেবাশিস চৌধুরী বক্তব্যে ছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ), মার্ক্সবাদ, মাওবাদ প্রসঙ্গ। আধুনিক প্রজন্মে বিবেকানন্দের গুরুত্বের কথাও স্মরণ করান তিনি। এর সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতা বা বিভেদের কী সম্পর্ক? পালোটা প্রশ্ন করেছেন দেবাশীষবাবু। তাঁর অভিযোগ, “ছাত্রছাত্রীদের গোটা বক্তব্যটি শুনতে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু ওরা ঘেরাও করে।”

---- -----