স্বপ্নার সাফল্যে সোনালি আলোয় ভাসছে জলপাইগুড়ি

স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: আশায় বুক বেঁধেছিল জলপাইগুড়ি। স্বপ্ন ছিল স্বপ্না সোনা নিয়েই ফিরবে জাকার্তা থেকে। অবশেষে স্বপ্নপূরণ হল। হেপ্টাথলনে সোনা জিতে নিলেন সোনার মেয়ে স্বপ্না।

শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে পাড়ি দিয়েছিল এশিয়াডে। সেই মেয়ে যে সোনা জয়ের আশা দেখাবে সেটাই ভাবতে পারেননি বাবা-মা থেকে পাড়াপড়শি। উত্তরবঙ্গের ছোট জেলার চোখে এখন তাই আনন্দাশ্রু।

আরও পড়ুন: ভারতীয় ট্রেনের গায়ে মধুবনী চিত্রকলা, প্রশংসা করল রাষ্ট্রসংঘ

- Advertisement -

বাংলা থেকে ক’টা মেয়ে আর এশিয়াডের মতো বড় মঞ্চে সোনার স্বপ্ন দেখায়। দেখিয়েছেন স্বপ্না বর্মণ। শুধু স্বপ্নই দেখাননি। সোনা জিতে প্রমাণ করেছেন বাংলার মেয়েরা শুধু স্বপ্ন দেখায় না। স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়। তাঁর সোনা জয়ে মঙ্গলবার থেকেই স্বপ্নেই বিভোর ছিল জলপাইগুড়িবাসী।

বুধবার বিকেল থেকে স্বপ্নার পরিবার ও এলাকাবাসীর সদস্যদের চোখ ছিল টিভি পর্দায়। পরিবার সূত্রে খবর এশিয়াডের সোনা জয়ের স্বপ্নের মাঝেই স্বপ্নাকে ভুগিয়েছে দাঁতের ব্যাথা। বাধা অতিক্রম করেই সোনা ছিনিয়ে এনেছে স্বপ্না।

আরও পড়ুন: রোজভ্যালির থেকে কেন টাকা? ফাঁস করলেন শ্রীকান্ত

যদিও দাঁতের যন্ত্রণার থেকেও দারিদ্রের জ্বালা তার কাছে আরও বড়৷ দরমার ঘরে বেড়ে ওঠা স্বপ্নাকে তাই বোধহয় কাবু করতে পারেনি দাঁতের ব্যাথা৷ তার বাবা পঞ্চানন বর্মন পেশায় ভ্যান রিকশা চালক ছিলেন। প্রায় তিন বছর হল বাবা অসুস্থ হয়ে বাড়িতে। মা বাসনা বর্মন স্থানীয় চা বাগানের অস্থায়ী শ্রমিক ছিলেন স্বামীর অসুস্থতার কারণে চা বাগানের কাজ ছাড়তে হয়েছে তাঁকে।

অনেক সমস্যার মধ্যে সংসারের জোয়াল টানছেন তিনি৷ এই পরিস্থিতিতেও ছেদ পড়েনি স্বপ্নার সাধনায়৷ তাই পঞ্চানন বর্মন ও বাসনা বর্মন বলেন, ‘‘আমরা সবাই খুশি। সকলের আশীর্বাদে স্বপ্না সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছতে পারবে বলে আশা করেছিলাম । সেই আশা পূরণ করেছে ও।’’

আরও পড়ুন: ‘দেশের চাবিকাঠি মমতার হাতে, রাজ্যের চাবিকাঠি যুবরাজের হাতে’

কথা বলতে বলেই চোখ দিয়ে জল ঝড়ে বাবা পঞ্চাননের। কিন্তু এই কান্না আনন্দের। শুধু স্বপ্নার পরিবার নয়, সোনার মেয়ের সাফল্যে এখন খুশির জোয়ার বইছে জলপাইগুড়ির সদর ব্লকের পাতকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘোষ পাড়া গ্রামে।

দেখুন ভিডিও:

জলপাইগুড়ি জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাথলিট সচিব উজ্জ্বল দাস চৌধুরী বলেন, ‘‘আমরা মনে প্রাণে চেয়েছিলাম স্বপ্না এশিয়াডে সফল হোক। ও আমাদের জেলার নাম উজ্বল করেছে। আশা করি পরে দেশের নাম আরও উজ্বল করবে আমাদের মেয়ে।’’

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর ডেডলাইনের আগেই মহাকাশে পৌঁছবেন ভারতীয় মহাকাশচারীরা

স্বপ্নার স্বপ্নপূরণের অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন জলপাইগুড়ি রায়কত পাড়া স্পোর্টিং অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম কর্মকর্তা প্রয়াত সমীর দাস। এদিন বারবার স্বপ্নার মা স্মরণ করেছেন তাঁকে। তিনি বলেন, ‘‘মেয়ের এই সাফল্যের পেছনে সমীর দাসের অবদান প্রচুর। সম্প্রতি দূরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান সমীর দাস। কালিয়াগঞ্জ উত্তমেশ্বর স্কুলের মাঠে এই সোনার মেয়ের অ্যাথলিট জীবন শুরু।’’

এই বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক বিশ্বজিৎ মজুমদার থেকে শুরু করে সকলেই খুবই খুশি। স্বপ্নার সাফল্যে জলপাইগুড়ি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক কুমার দত্ত বলেন, ‘‘জলপাইগুড়ি তথা দেশের গর্ব স্বপ্না বর্মন। তাঁকে নিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়বে জলপাইগুড়ি।’’

আরও পড়ুন: কলকাতায় এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিচ্ছে HIV পজিটিভদের এই ক্যাফে

মঙ্গলবার প্রথম দিনের চারটি ইভেন্টে হয়। সেখান থেকে স্বপ্নার ঝুলিতে এসেছিল ৩৪৮১ পয়েন্ট। সকলের থেকে ৬৩ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল স্বপ্না। সকলের আশা ছিল স্বপ্না সেরার সেরা হবেই। শারীরিক অসুস্থতা নিয়েই পাড়ি দিয়েছিল জাকার্তায়। অংশ নিয়েছেন হার্ডলস, হেপ্টাথলন, ২০০ মিটার দৌড় ও হাইজাম্পে। বিগত কয়েক বছর ধরে এশিয়াডে সাফল্য অর্জন করাটাই প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছিল ছিল স্বপ্নার। সেই স্বপ্ন আজ বাস্তব। গোধূলির সোনালি আলোয় ভাসছে জলপাইগুড়ি। মেয়ে সোনা জিতেছে যে।

আরও পড়ুন: কলকাতায় এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিচ্ছে HIV পজিটিভদের এই ক্যাফে

Advertisement ---
-----