‘কর্তারপুর করিডর খোলা নিয়ে কথা রাখেনি বিদেশমন্ত্রক’

চণ্ডীগড়: কর্তারপুর করিডর নিয়ে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতির পরেই মুখ খুললেন কংগ্রেস নেতা নভজ্যোত সিং সিধু৷ তাঁর মতে বার বার বিদেশমন্ত্রকের কাছে আবেদন করা সত্ত্বেও কোনও পদক্ষেপ নেয়নি তারা৷ সিধুর দাবি কর্তারপুর করিডর নিয়ে পাকিস্তানের বার্তা বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি৷ তারপরেই কর্তারপুর প্যাসেজ খোলা নিয়ে ভাবনা চিন্তা করার আবেদন জানান৷

তবে পাঞ্জাবের এই মন্ত্রীর দাবি তাঁর কথায় কর্ণপাত করেনি বিদেশমন্ত্রক৷ শুকনো আশ্বাস দিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে তাঁর প্রস্তাব৷ সুষমা স্বরাজকে এই ইস্যুতে একটি চিঠি লিখেছিলেন সিধু৷ আশ্বাসও দিয়েছিলেন সুষমা৷ তবে সিধুর অভিযোগ কাজের কাজ কিছুই হয়নি৷

চণ্ডীগড়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে নভজ্যোত সিং সিধু বলেন বিদেশ মন্ত্রকের কাছে তিনি নিজে চিঠি লেখেন৷ কর্তারপুর করিডর খোলা নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে যে কথা হয়েছে, চিঠিতে তার উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করেন সিধু৷ চিঠিতে পাকিস্তান সরকারকে ভারতের তরফ থেকে কর্তারপুর করিডর খুলতে অনুরোধ করা হোক বলেও দাবি করেন তিনি৷

এর আগে, সুষমা স্বরাজ জানিয়েছিলেন চুক্তি মেনে কর্তারপুর সাহিবের ভারতীয় দর্শনার্থীদের জন্য রাস্তা খোলেনি পাকিস্তান৷ এমনকি কোনও আলোচনা চেয়ে চিঠিও পাঠায়নি৷

সোমবার এই ইস্যুতে মুখ খোলেন বিদেশমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী জেনারেল ভি কে সিং৷ তিনি জানান পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কর্তারপুর করিডর খোলা নিয়ে কোনও প্রস্তাব আসেনি৷ তিনি বলেন পাকিস্তানের তরফ থেকে কর্তারপুর করিডর খোলার ব্যাপারে কোনও কথা বলা হয়নি৷ তবে যদি এই বিষয়ে কোনও প্রস্তাব আসে, অবশ্যই ভেবে দেখা হবে৷

গুরু নানকের ৫৫০তম জন্মবার্ষিকীতে ভারতের ডেরা বাবা নানক থেকে পাকিস্তানের কর্তারপুর সাহিব পর্যন্ত একটি করিডর খোলার চেষ্টার কথা সামনে আসে৷ পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হবে জানানো হয়৷ দু’টি তীর্থস্থানের মধ্যে দূরত্ব মাত্র তিন কিলোমিটার।

এরআগে, ৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান থেকে ফিরে এই বার্তাই দিয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা নভজ্যোত সিং সিধু৷ তিনি বলেন আমি আমার বন্ধু ইমরানকে ধন্যবাদ জানাই৷ পাঞ্জাবের মানুষের কাছে এর চেয়ে বেশী আনন্দের কিছু হতে পারে না। লক্ষ লক্ষ শিখের বহুদিনের স্বপ্ন ওই পুণ্যভূমি ঘুরে দেখার, অবশেষে তা পূর্ণ হতে চলেছে।’

ইমরান খানের প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তাঁর ক্রিকেট জীবনের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী নভজোৎ সিং সিধু। নতুন পাক সরকারের কাছে সিধু অনুরোধ করেছিলেন গুরু নানকের জন্মতিথি উপলক্ষে ভারতীয় শিখ যাত্রীদের আরও সুবিধা দেওয়ার৷